বেহাল রাস্তা, এলাকায় ঢুকছে না অ্যাম্বুলেন্স

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: দীর্ঘদিন থেকেই বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে রাস্তা৷ তবে সংস্কারের কোনও উচ্চবাচ্য নেই৷ প্রশাসনিক ভাবে ঘোষণা করা হলেও তা বলাই সার৷ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি। ফলত, ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বাঁকুড়ার বিক্রমপুর ও জামবনী এলাকার বাসিন্দারা৷

প্রসঙ্গত, বাঁকুড়ার সিমলাপালের বিক্রমপুর মোড় থেকে জামবনী পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার প্রায় ৫০-৬০ টি গ্রামের মানুষ চরম সমস্যায় পড়ছেন। তবে বর্তমানে এই রাস্তা বেহাল হওয়ার কারণে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিক্রেতাদের৷ জেলার সবজী ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সিমলাপালের এই এলাকায় উৎপাদিত সবজী ঝাড়খণ্ডের টাটায় সরাসরি রপ্তানি হয়। কিন্তু শুধুমাত্র এই যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই বাইরে থেকে আসা সবজী পরিবহণকারী লরিগুলি এলাকায় আসতে চাইছে না বলে অভিযোগ৷

আরও পড়ুন: মরা তোর্সার উপর এই সেতুর হাল দেখুন

- Advertisement -

ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার চাষিরা। একই সঙ্গে এখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল ও কলেজ যাওয়ার অন্যতম প্রধান এই রাস্তা। সিমলাপাল ব্লক এলাকার সঙ্গে পাশের জেলা মেদিনীপুর ও কলকাতার যোগাযোগের অন্যতম পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এই রাস্তাটি। পিডব্লুডি কর্তৃপক্ষের তরফে রাস্তা সংস্কারের ঘোষণাসূচক বোর্ড টাঙানো ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলেও অভিযোগ।

এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় কৃষক অমিয় সংপতি বলেন, ‘‘কি দরকার আর এই সংস্কার করে। রাস্তার মাঝে মাঝে যা গর্ত তৈরি হয়েছে। আর তাতে যা জল আছে প্রশাসনের তরফে মাছ চাষ করা হোক। এতে সরকারের কিছু বাড়তি আয়ের সংস্থান হবে। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে কোনও গাড়িই এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে চাইছে না। উৎপাদিত দ্রব্য যেমন বাজারজাত করা যাচ্ছে না, তেমনি চাষের কাজের জন্য কোনও গাড়িও গ্রামে আসতে চাইছে না৷

আরও পড়ুন: বিবেকানন্দের বিশ্ব জয়ের ১২৫ বছরে শিকাগোতে বার্তা মোদীর

পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা দুর্গা শঙ্কর পাত্র রাস্তার দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘‘এলাকার অন্যতম প্রধান এই রাস্তা৷ দুর্বিষহ অবস্থার ফলে যাতায়াত করাটাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কোনও অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে ভীষণ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’’

সিমলাপাল পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা ওই এলাকারই বাসিন্দা সিপিএম নেতা সুবীর পাত্র বলেন, ‘‘রাস্তা এতটাই বেহাল যে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে কোনও অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আসতে চাইছে না। জঙ্গল মহলের এই এলাকার সবচেয়ে কাছে রেলস্টেশন গড়বেতা। মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরের এই রেলস্টেশনে পৌঁছাতে এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটিই।’’

সিমলাপাল ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক এই বিষয়ে বলেন, ‘‘টেণ্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বর্তমানে ওই রাস্তাটি পিডব্লুডি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাদের তরফে ইতিমধ্যে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’

আরও পড়ুন: জমা জল মারণ রোগ ছড়াচ্ছে গরুর শরীরে

Advertisement ---
---
-----