দেবযানী সরকার, কলকাতা: গুপি-বাঘার মতো আপনিও কী চান ‘জবর জবর তিন বর’? আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন৷ কারণ কয়েকদিন পরেই সেই ভূতের রাজার সঙ্গে আপনার মোলাকাত হবে বাঘাযতীন তরুণ সংঘের পুজোর ভিড়ে৷

যে কোনও বাঙালির কাছেই গুপি গাইন-বাঘা বাইন নস্ট্যালজিয়া৷ সত্যজিৎ রায়ের এই চলচ্চিত্রের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সেই নস্টালজিয়া ফিরে আসছে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে৷ বাঘাযতীন তরুণ সংঘের এবারের থিম ‘ভূতের রাজা দিল বর’৷ মণ্ডপ দেখলে মনে হবে রূপকথার জগৎ৷ শিল্পী পার্থ ঘোষ ও সিদ্ধার্থ ঘোষ এই থিমের কারিগর৷ পার্থবাবু জানিয়েছেন, গোটা মণ্ডপকে তিনটে ভাগে ভাগ করা হচ্ছে৷ দর্শনার্থীরা যখন মণ্ডপের প্রথম অংশে প্রবেশ করবেন তখন সেখানে তাঁরা গুপি-বাঘার মধ্যে নিজেদের খুঁজে পাবেন৷ মাঝের অংশটায় থাকবে বাঁশ বন৷ সেখানে গুপি-বাঘার সঙ্গে ভূতের রাজার সাক্ষাতের দৃশ্য থাকবে৷ একদম শেষে রয়েছেন দেবী দুর্গা৷

আরও পড়ুন: ‘অনুপ্রবেশকারী’ রাজনীতিকে ধাক্কা দিয়ে দুর্গা বন্দনায় বাংলাদেশি মুসলিম শিল্পীর গান

শিল্পীর কথায়, বাঁশ বনে গুপি-বাঘার সঙ্গে ভূতের রাজার সাক্ষাতে একটা কম্পোজিশনটা সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ পুরো সিকোয়েন্সটাই আর্ট ফর্মে হচ্ছে৷ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এই গল্পের স্রষ্ঠা৷ পরে সত্যজিৎ রায় সিনেমা বানিয়েছেন৷ আমরা আর্ট ফর্মে দুই প্রজন্মকেই শ্রদ্ধা জানাচ্ছি৷ পুজো কমিটির সভাপতি গৌতম ঘোষ বলেন, আমাদের অনেকেই নিজেদেরকে গুপি-বাঘা হিসেবে কল্পনা করি৷ ভাবি যদি ভূতের রাজাকে সামনে পেতাম তাহলে ওদের মতো বর চাইতাম৷ কিন্তু ভূতের রাজাকে আমরা সামনে পাইনা৷ তাই মা দুর্গার কাছে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান-এই তিনটি বর আমরা চাইছি৷ তাই দেবী দুর্গা এখানে অন্নপূর্ণারূপী৷

ভূতের রাজার বর পেয়ে মনের আনন্দে গান গেয়েছিল গুপী-বাঘা৷ ইচ্ছেপূরণ হলে আপনারাও গলা ছেড়ে গাইতে পারেন গান৷ মণ্ডপে তেমন কোনও বিধিনিষেধ নেই৷

----
--