চলে গেলেন ঢোলের জাদুকর বলরাম হাজরা

স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: চিরকালের জন্য থেমে গেল তাঁর ঢোলের বোল৷ চলে গেলেন ঢোলের জাদুকর বলরাম হাজরা৷ মঙ্গলবার দুপুরেই প্রয়াত হন তিনি৷ বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর৷ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি৷ তার প্রয়াণের সঙ্গে একটা যুগের অবসান হল৷

আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের উত্তর পাটকাপাড়ায় বাড়ি বলরাম হাজরার৷ সেখানেই এদিন দুপুর ২টো ১৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি৷

আরও পড়ুন: কয়েক বছরে তৃণমূলের সম্পত্তি বেড়েছে ৪৪ কোটি টাকা

লোকশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে সম্মান তুলে দিয়েছিলেন বাংলার এই রত্নের হাতে৷ রাজ্য সরকারের পাশাপাশি তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানের অধিকারী৷

যখন সুস্থ ছিলেন নাওয়া খাওয়ার সময়টুকু পেতেন না বলরাম। দেশে-বিদেশে বছরভর টইটই৷ মনোহর ঢোলের বোলে অনায়াসে ছুঁয়ে ফেলতেন দেশে কাল সীমানা পেরিয়ে যে কোনও দর্শকের মন৷ কিন্তু গলায় দুরারোগ্য ক্যানসার ধরা পড়ার পর জীবনের সব আলো কেমন যেন ম্লান হতে শুরু করল৷

আরও পড়ুন: বাড়িতে ঢুকে গুলি করে খুন তৃণমূল নেতাকে

জীবনের বোলে শুরু হল তাল কাটা৷ চিকিৎসার জন্য দরকার প্রচুর টাকা৷ এরকমই একটা সময় কলকাতার বিখ্যাত এক ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতি ও মোটা টাকা চাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন এই শিল্পী৷ এমনকী অর্থের অভাবে চিকিৎসা না করেই তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ সে আক্ষেপ থেকে গিয়েছিল আমৃত্যু৷

ঢোল-ওস্তাদ বলরাম হাজরা আর নেই! খবরটা এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না লোকশিল্পী গবেষক প্রমোদ নাথের৷ তিনি জানান, ‘বলরাম হাজরা নেই, ভাবতেই পারছি না। তিনি যে কত বড় মাপের শিল্পী তা তো অঙ্কে মেপে বলা যাবে না৷ তাঁর চলে যাওয়া লোকশিল্পের এক অপূরণীয় ক্ষতি৷’ বলরাম হাজরার জীবনে এ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী যোগেশ বর্মনের গুরুত্ব যে কতটা তা চিরকালই বলে এসেছেন শিল্পী নিজে৷

আরও পড়ুন: আগামী ৪৮ ঘন্টায় রাজ্যে আছড়ে পড়তে পারে বৃষ্টি

সেই বলরাম হাজরার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে স্তম্ভিত যোগেশ বর্মন বলেন, ‘ঢোলের যাদুতে মাত করে এক অখ্যাত গ্রাম থেকে কীভাবে আন্তর্জাতিক আঙিনায় উঠে আসা যায় তার সব থেকে বড় উদাহরণ বলরাম হাজরা। তিনি নেই ভাবতেই পারছি না৷ কিংবদন্তী শিল্পীর এই বিদায় এক গভীর শূন্যতা তৈরী করবে।”

Advertisement
----
-----