‘‘পাকিস্তানের অস্তিত্ব যত দিন থাকবে তত দিন শান্তির আশা নেই’’

বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে যে পাঁচটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী লড়াই চালাচ্ছে তাদের মধ্যে সব থেকে বড় সংগঠন হল বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ)৷ এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা আল্লা নজর৷ আল্লা নজর পেশায় ডাক্তার৷ আপাতত পাকিস্তানে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের একজন৷ গত বছর তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছিল পাক সেনাবাহিনী৷ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান৷ ইমেলে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক আরতি টিক্কু সিং৷ কলকাতা 24×7-এ তার বাংলা অনুবাদ তুলে দেওয়া হল৷

প্রশ্ন: বালুচিস্তান প্রদেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে৷ কিন্তু বালুচ জঙ্গিরা পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে রাজি নয়৷ কেন?

আল্লা নজর: পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই বালুচিস্তান ছিল স্বাধীন৷ আর পাকিস্তানে কোনও দিনই কোনও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব ছিল না, আজও নেই৷ অন্তত বালুচিস্তানে তো নেই-ই৷ ২০১৩ সালের নির্বাচন বালুচিস্তানের জনসাধারণ বয়কট করেছিল৷ মাত্র তিন শতাংশ ভোট পড়েছিল৷ এটাকে আপনারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই গণরায় বলতে পারেন৷

- Advertisement -

প্রশ্ন: 9/11-এর পর থেকে গোটা বিশ্ব জুড়ে যে কোনও হিংসাশ্রয়ী আন্দোলনের বিরুদ্ধেই একটা সর্বজনীন প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে৷  এই পরিস্থিতিতে আপনাদের এই আন্দোলনের পক্ষে আপনার যুক্তি কী?

আল্লা নজর: ঠান্ডা যুদ্ধের সময় বিশ্বশক্তিগুলির নিজস্ব স্বার্থ ছিল৷ আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়া সেই সময় ইসলামপন্থী ও জিহাদিদের লালনপালন করেছিল৷ তারাই আফগানিস্তানে রেড আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করতে মুসলিম রংরুটদের তোল্লাই দিয়েছিল এবং জিহাদকে সর্বজনীন নীতি হিসাবে গ্রহণ করার জন্য উৎসাহ জুগিয়েছিল৷ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর আমেরিকা এই জিহাদিদের পরিত্যাগ করে৷ তখন এই জিহাদিরা যা খুশি করার লাইসেন্স পেয়ে যায়৷ এদের মধ্যে বেশিরভাগের দায়িত্ব নেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী৷ তারাই তালিবানকে তৈরি করে৷ সেইসঙ্গে পুষতে থাকে হাজার হাজার আরব জিহাদিকে৷ এদের মধ্যে ছিল ওসামা বিন-লাদেন, আয়মান আল-জাওয়াহিরিরাও৷ এখন পাকিস্তানই ধর্মান্ধ সন্ত্রাসবাদীদের ডেরা৷ ইসলামাবাদ তার নিজস্ব সম্পদ হিসাবে এই ধর্মোন্মাদদের ভারতের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে৷ আবার এদের ভয় দেখিয়েই আমেরিকা ও পশ্চিমী দুনিয়াকে ব্ল্যাকমেল করে রসদ এবং অর্থ সংগ্রহ করছে৷ পাকিস্তান যে একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র তা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই৷ শীঘ্রই বিশ্বকে স্বীকার করতে হবে যে, স্বাধীন এবং মুক্ত বালুচিস্তানের সঙ্গে কট্টরপন্থী মুসলিম সন্ত্রাসবাদের কোনও সম্পর্ক নেই৷ বরং, স্বাধীন ও মুক্ত বালুচিস্তানই আল-কায়েদা, আইএস এবং তালিবানের দুশমন৷ আজ হোক আর কালই হোক বিশ্বগোষ্ঠীকে স্বীকার করতেই হবে যে, দক্ষিণ ফিলিপিন্স থেকে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত গোটা দুনিয়া জুড়ে যে জিহাদি এন্টারপ্রাইজ তার জাল বিস্তার করেছে, তার মূলে রয়েছে ইসলামাবাদ৷ তারাই এই উন্মাদনাকে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছে৷ আর, এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে স্বাধীন ও মুক্ত বালুচিস্তানের দাবিদাররা৷

প্রশ্ন: পাকিস্তানের বরাবরের অভিযোগ, ভারতই বালুচ বিদ্রোহীদের মদতদাতা৷ এটা কি সত্যি? আপনাদের বিএলএফ সহ সমস্ত বালুচ বিদ্রোহীদের টাকা এবং অস্ত্রশস্ত্র জোগায় কারা?

আল্লা নজর: বালুচদের আন্দোলনের পিছনে ভারতের আর্থিক মদত রয়েছে, এই অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন৷ তবে আমাদের আশা, শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্ব আমাদের পাশে দাঁড়াবে৷

প্রশ্ন: অনেকের ধারণা, বালুচিস্তানের প্রতি ভারতের নৈতিক সমর্থন কাশ্মীরের ক্ষেত্রে তার অবস্থানকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে৷ এর সঙ্গে কি আপনি একমত?

আল্লা নজর: পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদী সাহেবের এটা একটা নৈতিক দায়িত্ব৷  ভারত ছাড়া আর কে-ই বা বালুচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পাকিস্তানি চণ্ডনীতির স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে পারে? বালুচিস্তান নিয়ে মোদীজির অবস্থানকে আমরা স্বাগত জানাই৷ তিনি সঠিক কাজ করেছেন৷ আমার তো মনে হয় এই অবস্থান থেকে ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে লাভবানই হবে৷

প্রশ্ন: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এখন কূটনৈতিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়েছে ভারত৷ এই পরিস্থিতিতে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবিদাররা কী আশা করছেন?

আল্লা নজর: পাকিস্তান একটি দুষ্ট রাষ্ট্র৷ আমাদের আশা, ভারত তাকে উচিত শিক্ষা দেবে৷ পাকিস্তান কোনও কূটনীতির ভাষা বোঝে না৷ আমরা বালুচরা মনেপ্রাণে চাই যে, প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে ভারত নিজে থেকে সর্বাগ্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করুক৷ বাতিল করুক সিন্ধু জল চুক্তি৷ অতঃপর চীনকে বুঝতে দিক যে, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালটিস্তান সার্বভৌম অঞ্চল৷ সুতরাং, বেজিংয়েরও এখানে কোনও পরিকাঠামো নির্মাণ করা উচিত নয়৷ দিল্লিকে এটা খোলাখুলি স্বীকার করতেই হবে যে, পাকিস্তানের অস্তিত্ব যত দিন থাকবে তত দিন শান্তির আশা সুদূরপরাহত৷

Advertisement
----
-----