ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে বালুরঘাট পুরসভার লোক দেখানো প্রচার

শংকর দাস, বালুরঘাট: কোথাও জল জমতে দেবেন না, জমা জলেই ডেঙ্গু ও মশা বাহিত রোগের জীবাণু বাহক লার্ভার জন্ম নেয়। মাইক নিয়ে প্রতিদিনই বালুরঘাট শহরে প্রচার করছে পুরসভা। বাইরে থেকে বালুরঘাট শহরে কাজে আসা বহিরাগতরা যা শুনে মনে মনে ভাবেন বালুরঘাট পুরসভা ডেঙ্গু বা মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কতটাই না সচেতন। এই শহরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা কিন্তু সম্পূর্ণই উলটো।

একদিকে মাইকে জল না জমতে দেওয়ার লোক দেখানো প্রচার। আরেক দিকে খোদ পুরসভার উদাসীনতাতেই কয়েকটি ওয়ার্ড মশক কুলের আতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের সঠিক নিকাশি ব্যবস্থায় না থাকায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দারা। অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলর থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান সকলে দরজায় মাথা ঠুকলেও দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে এগিয়ে আসছেন না কেউ।

এমনই একটি এলাকা শহরের ১৫নং ওয়ার্ড। বহুদিন আগে লোক দেখানো ড্রেনের কাজ শুরুর কথা ঘোষণা করলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। নিকাশি ব্যবস্থা না থাকার ফলে ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নোংরা পচা জল ডিঙিয়েই দৈনন্দিন কাজ কর্মে বাইরে যাতায়াত করছেন। রাস্তায় জমে থাকা নোংরা জল পেরিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে​সকলে। জল সরে যাওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধে ছেঁয়ে গিয়েছে এলাকা।

দীর্ঘদিন ধরে পঁচা জল আটকে থাকায় মশাদের আঁতুর ঘরে পরিণত হয়েছে এলাকা। এই বিষয়ে পুরসভাকে জানিয়েও কোনও সুরাহা মিলছে না বলে অভিযোগ। এমনকি এলাকার কাউন্সিলর নীতা হাঁসদার তরফেও সদর্থক কোন ভূমিকা নেওয়া হচ্ছে না বলেও সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সকলে। এলাকার মানুষের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে লোক দেখানো ড্রেনের কাজ শুরু করা হলেও মাঝ পথে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক দিকে অসমাপ্ত ড্রেনের কাজ, আরেক দিকে খুঁড়ে রাখা গর্তে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও চরমে উঠেছে। কয়েকটি ওয়ার্ডে আবার ডোবা বা ছোট ছোট খাল থাকলেও সেগুলি পরিষ্কারের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না পুরসভা।

১৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সরোজ কুন্ডু অভিযোগ, বালুরঘাট পুরসভা রাস্তায় মাইক নিয়ে প্রচার করছে মশা বাহিত রোগ থেকে বাঁচতে জল জমাতে দেবেন না। কিন্তু খোদ বালুরঘাট পুরসভার অকর্মণ্যতার জেরেই অধিকাংশ এলাকা অস্বাস্থ্যকর ও মশাদের আতুর ঘর হয়েছে। পুরসভা উলটে এই সমস্ত এলাকার মানুষের কাছে যন্ত্রনা ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান রাজেন শীল জল জমে থাকার কথা স্বীকার করে বলেন এই বিষয়ে অবিলম্বে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এলাকাগুলি নীচু হওয়ায় বৃষ্টির জল বের হতে পারছে না। পাশাপাশি বাসিন্দাদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয়রা ছোট খাটো ডোবাগুলিতে প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলার কারণেই সেগুলি অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।