উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে নজির গড়ল বালুরঘাট থানার পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: সুষ্ঠভাবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর্ব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এবার নজির গড়ল বালুরঘাট থানার পুলিশ৷ ট্রাফিক থেকে শুরু করে স্কুলের আশাপাশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা৷ এই সবই স্বাভাবিক ডিউটি হিসেবেই পালন করে থাকে পুলিশ৷

কিন্তু এর বাইরেও দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার পুলিশ অসহায় অবস্থার শিকার পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে৷ কোনও কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারা বা পরীক্ষা কেন্দ্রে সময় মতো পৌঁছালেও তাড়াহুড়ো ও টেনশনে অ্যাডমিট কার্ড বা কলম বাড়িতে ছেড়ে এসেছে৷ এরকম অসহায় অবস্থা থেকে রেহাই পেতে শুধু ফোন করতে হবে৷ তারপর পুলিশই গাড়ি করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেবে৷ এমনকী, পুলিশই বাইক ছুটিয়ে বাড়ি থেকে অ্যডমিট নিয়ে এসে দেওয়ার কাজ করে দেবে৷ বালুরঘাট থানার এই উদ্যোগে ইতি মধ্যে সুফলও পেয়েছেন বিপদে পড়া পরীক্ষার্থীরা৷

বালুরঘাট থানার অন্তর্গত মানিকো এলাকায় বাড়ি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বিশ্বরঞ্জন ওঁরাও। তিওর কৃষ্ণাষ্টমী হাইস্কুলের ছাত্র বিশ্বরঞ্জনের পরীক্ষা আসন পড়েছে বাড়ি থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে বালুরঘাটের বাদমাইল লক্ষ্মী প্রতাপ হাইস্কুলে। নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছালেও সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড আনতে ভুলে গিয়েছিল সে। অ্যাডমিট না থাকায় পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে চরম টেনশনে পড়েছিল।

- Advertisement -

অন্য এক ছাত্রের অভিভাবক মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন সেখানে কর্তব্যরত এএসআই প্রশান্ত বর্মন। একমুহূর্তও দেরি না করে তিনি বাইক চালিয়ে বিশ্বরঞ্জনের দেওয়া বাড়ির ঠিকানায় পৌঁছে অ্যাডমিট কার্ডটি এনে দেয়। পাশাপাশি সময়মতো গাড়ি ধরতে না পারা। অথবা মাঝ রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়া। এধরনের ঘটনায় এলাকার কোনও পরীক্ষার্থী বিপদে পড়লে সেক্ষেত্রে বালুরঘাট থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে। সাধারণ ডিউটির বাইরেও পুলিশের এহেন মানবিক উদ্যোগে খুশি ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা।

বাড়িতে অ্যাডমিট ছেড়ে আসা বিশ্বরঞ্জন ওঁরাও-এর বাবা বিসান ওঁরাও এদিন জানিয়েছেন, যে তাড়াহুড়োয় তাঁর ছেলে অ্যাডমিট কার্ড না নিয়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে যায়। যে ঘটনার কথা তাঁরা বাড়ির কেউই কিছু জানতেন না। হঠাতই এক পুলিশ অফিসার বাইক চালিয়ে বাড়িতে এসে বিশ্বরঞ্জনের অ্যাডমিট কার্ড ফেলে যাওয়ার ঘটনা জানায়। তৎক্ষণাৎ ওই অফিসারকে অ্যাডমিটটি বের করে দিলে তিনি, তা নিয়ে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ছেলের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। পুলিশ আধিকারিকের তৎপরতার জন্যই আজ বিশ্বরঞ্জন পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছে বলে পিতা বিসান ওঁরাও জানিয়েছেন।

এদিকে পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে মাধ্যমিকের মতো উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা পর্ব সম্পন্নর সমস্ত রকম ব্যবস্থা পুলিশের তরফে গ্রহণ করা হয়েছে। রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও শান্তিশৃঙ্খলা সুনিশ্চিত করাই শুধু নয়। এমনকি পরীক্ষার্থীদের অসহায় অবস্থার সময়েও ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ন হওয়ার কাজও পুলিশ করে থাকে। দুশ্চিন্তামুক্ত ভাবে পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমস্ত ব্যবস্থা পুলিশের তরফে রাখা হয়েছে।

Advertisement ---
---
-----