বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: বাতিল নোটে রিচার্জ করা যাচ্ছে প্রিপেইড মোবাইল ফোন৷ আর, সরকারি ঘোষণার পরে কোনও সংস্থা যেমন ৫০০ টাকা রিচার্জ করলে দিচ্ছে ৬০০ টাকার টক টাইম৷ তেমনই, কোনও সংস্থা আবার টক টাইম দিচ্ছে ৫০০ টাকায় ৫৫০ টাকা এবং ১০০০ টাকায় ১১০০ টাকা৷ তবে, বাতিল নোটে অবশ্য বহাল তবিয়তে মিলছে যৌনসুখের পরিষেবা!

আরও পড়ুন: বাতিল নোটে দিঘায় বুকিং, দু’দিন থাকলে ফ্রি আরও একদিন

গত আট নভেম্বর রাতে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণার পরেও অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে ব্যবহৃত হয়েছে এই দুই ধরনের নোট৷ তবে, সমবায় ব্যাংকের মাধ্যমে বাতিল নোটের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি ঘোষণার পরে, এ রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লিতেও ধাক্কা খেয়েছে বাতিল ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোটের ব্যবহার৷ কেননা, পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির অধীনে যে সব যৌনকর্মী রয়েছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ঊষা অর্থাৎ, ঊষা মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড৷ স্বাভাবিক ভাবেই, সরকারি ওই ঘোষণার পরে বাতিল নোটে যৌনসুখের পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের প্রচেষ্টাও ব্যাহত হয়েছে৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্য স্পনসর চাইছে বাংলার দুর্বার

তবে, বাতিল নোটেই আবার কলকাতায় রমরমিয়ে চলছে যৌনসুখের পরিষেবা! যদিও, এই ধরনের পরিষেবার ক্ষেত্রে যে প্রতারণার শিকার হতে হয় না, তাও নয়৷ কিন্তু, বাতিল নোটেই এখন শুধুমাত্র রমরমিয়ে চলছে, তাও নয়৷ বরং, এই ধরনের যৌনসুখের পরিষেবা গ্রহণের জন্য কাস্টমারদের সংখ্যাও বাড়ছে৷ সাধারণত ফ্লাইং সেক্স ওয়ার্কাররা এই ধরনের পরিষেবা দিয়ে থাকেন৷ এবং, এই তালিকায় রয়েছে যেমন এসকর্ট সার্ভিস৷ তেমনই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবও৷ বিভিন্ন ধরনের খবরের কাগজে বিভিন্ন উপায়ে দেওয়া থাকে বিজ্ঞাপন৷ এই সব বিজ্ঞাপনের মধ্যে কোথাও যেমন থাকে পার্ট টাইমের কাজের কথা৷ তেমনই, কোথাও আবার থাকে মহিলাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের মাধ্যমে একই সঙ্গে যৌনসুখ এবং উপার্জনের হাতছানিও৷

আরও পড়ুন: কপাল পোড়াদের জীবনে এক বারই আসে প্রেম!

এই সব বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে ফোন করলে সাধারণ বলা হয়, আগে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে৷ তার পরেই মিলবে স্থান এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী মহিলাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ৷ রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্দিষ্ট অংকের টাকার কথাও বলা হয়৷ তবে, সাধারণত ওই টাকা নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার কথাই বলা হয় ফোনের ওপার থেকে৷ আর, এ ভাবেও, নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট অংকের টাকা জমা দেওয়ার পরে প্রতারণার শিকারও হতে হয়৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে অবশ্য এ ভাবে প্রতারিত হওয়ার পরে পুলিশেও অভিযোগ জানিয়েছেন কেউ কেউ৷ যদিও, এই ধরনের বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে ফোন করে যদি জানতে চাওয়া হয় যে, পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিপদের ঝুঁকি রয়েছে কি না৷ অথবা, রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্দিষ্ট অংকের টাকা জমা দেওয়ার পরেও তো পরিষেবা না-ও মিলতে পারে৷ প্রশ্ন যেমনই হোক না কেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবশ্য ফোনের ওপার থেকে দেওয়া হবে নিশ্চয়তার দাবি৷

আরও পড়ুন: গান্ধীবাদের জেরে বহু পুরুষ জানেন না সেক্স-ফোরপ্লে!

যেমন, ‘‘আমাদের অফিস রয়েছে৷ অফিসে এসেই আপনি রেজিস্ট্রেশন করাতে পারেন৷ যাঁরা অফিসের বদলে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলেন, তাঁরা ফেক৷’’ এক মহিলা এমনই দাবি করলেন বিজ্ঞাপনে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের ওপার থেকে৷ এক বছরের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের মহিলাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের জন্য কত টাকা দিতে হবে, তাও জানিয়ে দিলেন তিনি৷ কিন্তু, নগদে বাতিল নোটে কি রেজিস্ট্রেশন করা যাবে? ওই মহিলা বললেন, ‘‘যাবে৷ আপনি কখন আসবেন?’’ এই ধরনের আরও একটি বিজ্ঞাপনে রয়েছে সরাসরি যৌনসুখের পরিষেবা গ্রহণের হাতছানি৷ এ ক্ষেত্রে অবশ্য পরিষেবা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশনের কথা বলা হচ্ছে না৷ বরং, কাস্টমার কোথায় থাকেন এবং তার ভিত্তিতে কোথায় পরিষেবা মিলবে, সেটা জানিয়ে দেওয়া হল৷ একই সঙ্গে অবশ্য জানিয়ে দেওয়া হল যে, যৌনসুখের পরিষেবা গ্রহণের জন্য কত সময়ের বিনিময়ে দিতে হবে কত টাকা৷

আরও পড়ুন: কামসূত্রের দেশে পিয়াজ-পর্নোর ঝাঁজে ভোটব্যাংক

যৌনসুখের পরিষেবা গ্রহণের জন্য এ ক্ষেত্রে অবশ্য নগদে টাকা দেওয়ার কথাই বলা হল৷ বাতিল নোট চলবে? ফোনের ওপার থেকে এক মহিলা প্রথমে বললেন, ‘‘না৷ নতুন নোট দেবেন৷’’ কিন্তু, নতুন নোটে সমস্যা… বাতিল নোট আছে…! এ বার ওই মহিলা বললেন, ‘‘ঠিক আছে, ১০০০ টাকার নোট দেবেন না৷ পুরোনো ৫০০ টাকার নোট দিতে হবে৷’’ আর, পার্ট টাইমের জব? আপাত নিরীহ এই ধরনের বিজ্ঞাপনেও একই সঙ্গে যেমন রয়েছে যৌনতার হাতছানি৷ তেমনই রয়েছে প্রতারণার ফাঁদও৷ পার্ট টাইমের কোনও কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য ভাবনা নিয়ে কেউ হয়তো ফোন করলেন এই ধরনের বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে৷ ফোনের ওপার থেকে বলে দেওয়া হবে, পার্ট টাইমের কাজটি আসলে কোন ধরনের৷ এবং, অবশ্যই এই ধরনের কাজের মাধ্যমে উপার্জনের জন্য নির্দিষ্ট অংকের টাকার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করানোর কথাও বলা হবে৷

আরও পড়ুন: ক্লাস নাইনের পড়ুয়াও ভাড়ায় খোঁজে সোনাগাছির ঘর!

কাস্টমার হিসেবেই এই ধরনের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে ফোন করা হল৷ তেমনই কয়েকটি নম্বরে ফোন করে কিছুটা কথার পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানতে চাওয়া হল, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের পর এখন পরিস্থিতি কেমন? ফোনের ওপার থেকে বলা হল, ‘‘নোট বাতিলের জন্য মানুষের হাতে নগদ টাকা কমে গিয়েছে৷ অনেকেই আছে, অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থাৎ, মানি ট্রান্সফারের বদলে নগদে টাকা দিতে বেশি পছন্দ করেন৷’’ একই সঙ্গে বলা হল, ‘‘নোট বাতিলের জন্য তো সমস্যা চলছে৷ তাই, বাতিল নোটেই পরিষেবা দেওয়ার হচ্ছে৷’’

Advertisement
---