এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের সামনে বাংলাদেশ

আবু ধাবি: বাংলাদেশ ১২ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন জন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসেছিল৷ পাকিস্তান ১৮ রানে হারায় তিন উইকেট৷ অর্থাৎ দু’দলের শুরুটা ছিল কার্যত একই রকম৷ তফাৎ শুধু একটাই, প্রাথমিক বিপর্যয় রোধ করে মুশফিকুর-মিঠুন জুটি যে দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন, ইমাম-উল-হককে সঙ্গ দিয়ে কোনও পাক ব্যাটসম্যানই তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি৷

আরও পড়ুন: ট্র্যাজিক হিরো মুশফিকুর, পাকিস্তানের টার্গেট ২৪০

ফল যা হওয়ার হলও তাই৷ ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারানোর খেসারত দিয়ে এশিয়া কাপের ভার্চুয়াল সেমিফাইনালে বাংলাদেশের কাছে ৩৭ রানে পরাজিত হয় পাকিস্তান৷ দেওয়ালে পিঠ ঠেকা অবস্থা থেকে পাল্টা লড়াই চালিয়ে দুরন্ত জয় তুলে নেওয়া বাংলাদেশ আদায় করে নেয় ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলার টিকিট৷

- Advertisement -

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায়৷ জবাবে পাকিস্তান ৫০ ওভার ব্যাট করেও ৯ উইকেটে ২০২ রানের বেশি তুলতে পারেনি৷

আরও পড়ুন: ভুবির ফোনে কান্না থামল খুদে অনুরাগীর

দিনের শেষে ম্যাচের নায়কের মর্যাদা পেলেও মুশফিকুর রহিম কার্যত ট্র্যাজিক হিরো হয়ে থেকে যান৷ যখন ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন, বাংলাদেশ ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে৷ শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়া বাংলাদেশ ইনিংসকে নির্ভরতা দেন মুশফিকই৷মহম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটের জুটিতে ১৪৪ রান যোগ করেন৷ ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি করে মিঠুন ফেরার পর ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে আরও ৪১ রান জোড়েন দলের ইনিংসে৷ যথন শতরান করে ব্যক্তিগত মাইলফলক টপকানোর সুযোগ আসে, ঠিক তখনই নেমে আসে বিপর্যয়৷ শাহীন আফ্রিদির বল ব্যাটের কানা লাগিয়ে বসায় ফিরতে হয় সেঞ্চুরির ঠিক দোরগোড়া থেকে৷

আরও পড়ুন: নেতৃত্ব খুইয়েই বাদ পড়লেন তারকা অলরাউন্ডার

নার্ভাস-৯৯’এ আউট হয়ে একরাশ হতাশাকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়েন মুশফিকুর৷ তবে দলকে হতাশ করেননি৷ খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে বোলারদের জন্য লড়াই করার রসদ জোগাড় করে দেন তিনি৷ ঠিক যেমনটা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন তিনি৷ সেবার শতরানে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি মিলেছিল৷ দলও পেয়েছিল কাঙ্খিত জয়৷ এবার নিশ্চিত শতরান মাঠে ফেলে এলেও দলকে তুললেন ফাইনালে৷ বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী, সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি প্রাপ্য ছিল তাঁর৷

ম্যাচের শুরুতে দলনায়কের টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিতে পারেননি বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা৷ নাজমূল হোসেন শান্তর জায়গায়দলে ঢুকলেও ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে সৌম্য সরকার শূন্য রানে আউট হন৷ অপর ওপেনার লিটন ফেরেন ব্যক্তগত ৬ রানে৷ শাকিবের বদলে দলে ফেরা মোমিনূল ৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি৷ মিঠুন ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৬০ রান করেন৷ ইমরুল আউট হন ৯ রান করে৷ মেহেদি হাসান ও মাহমুদুল্লাহর সংগ্রহ যথাক্রমে ১২ ও ২৫৷

আরও পড়ুন: ভারতীয়দের থেকে শেখা উচিৎ পাকিস্তানের: মালিক

রুবেল হোসেন রানআউট হন ১ রানে৷ দলনায়ক মাশরাফি ১৩ রান করে আউট হতেই ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ৷ মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকলেও কোনও বল খেলার সুযোগ পাননি৷ অর্থাৎ জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪০ রান৷পাক টিম ম্যানেজমেন্ট এই ম্যাচে অভিজ্ঞ মহম্মদ আমিরকে বসিয়ে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়েছিল জুনাইদ খানকে৷ ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দেন তিনি৷ শাহীন আফ্রিদি ও হাসান আলি নেন দু’টি করে উইকেট৷ একটি উইকেট শাদব খানের৷

আরও পড়ুন: শাস্তির ভয়ে আম্পায়ার বিতর্কে মুখ খুলতে নারাজ ধোনি

গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে দুরন্ত শতরান করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করলেও এশিয়া কাপে পরিচিত ফর্মের ধারেকাছে নেই পাক ওপেনার ফকর জানাম৷ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডু-অর-ডাই ম্যাচে ১ রান করে আউট হন তিনি৷ বাবর আজমেরও ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১ রান৷ তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ক্যাপ্টেন সরফরাজ ১০ রান করে ক্রিজ ছাড়েন৷

মুশফিকুর ও জুনাইদের লড়াই৷ ছবি-আইসিসি টুইটার

ইমামের সঙ্গে জুটি বেঁধে শোয়েব মালিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন৷ শোয়েব ৩০ রান করে আউট হতেই হতদ্যম হয়ে পড়ে পাকিস্তান৷ শাদব খান ৪ রান করে উইকেট দিয়ে আসেন৷ আসিফ আলি উইকেটকিপারের হাত থেকে জীবন দান পেয়েও ৩১ রানের বেশি টেনে নিয়ে যেতে পারেননি নিজের ইনিংসকে৷ ইমাম আউট হন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করে৷

আরও পড়ুন: ধোনির মাইলস্টোন ম্যাচে ঐতিহাসিক ‘টাই’

নওয়াজ ও হাসান আলি দু’জনেই আউট হওয়ার আগে ৮ রান করে যোগদান রাখেন৷ জুনাইদের সঙ্গে জুটিতে পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেও পাকিস্তানকে জয়ের ধারে কাছেও নিয়ে যেতে পার্ননি শাহীন আফ্রিদি৷ তিনি অপরাজিত থাকেন ১৪ রান করে৷ জুনাইদ নটআউট থাকেন ব্যক্তিগত ৩ রানে৷বাংলাদেশের হয়ে ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান৷ ২৮ রানে দু’টি উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ৷ একটি করে উইকেট রুবেল, মাহমুদুল্লাহ ও সৌম্য সরকারের৷ ম্যাচের সেরা হন মুশফিকুর৷