২৫০ সিসির বাইকের দাম মাত্র ২৮ হাজার টাকা!

ঢাকা:  মংলা বন্দরে আমদানি নিষিদ্ধ ৮০টি মোটরসাইকেল আটক করল বাংলাদেশ কাস্টমস। শুল্ক ফাঁকি ও ঘোষণা বহির্ভূত অতিরিক্ত সিসির আমদানি নিষিদ্ধ গাড়ি আনার অভিযোগে এগুলো আটক করা হয়েছে।
মংলা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোসেন অটো এন্টারপ্রাইজ গত ফেব্রুয়ারি মাসে কোরিয়া থেকে ৮০টি মোটরসাইকেল আমদানি করে। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দর থেকে এমভি স্যাংজরজিং গত ৬ ফেব্রুয়ারি তিনটি কন্টেনারে করে এসব মোটরসাইকেল মংলা বন্দরে নিয়ে আসে। মালামাল নামিয়ে তারা বন্দর ত্যাগ করে।
এরপর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোসেন অটো এন্টারপ্রাইজ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স শাহরিয়ার শিপিং এজেন্ট আমদানি করা গাড়ি ছাড় করিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু গত ২৪ মার্চ মংলা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম এসব মামলামাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু করেন। ঘোষণাপত্রের সঙ্গে আমদানি করা গাড়ির সিসির মিল না থাকায় কন্টেইনার তিনটি আবারও সিলগালা করে দেন কাস্টমস কর্মকর্তা। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর জেটিতে থাকা ওই ৮০টি মোটরসাইকেল আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ডেপুটি কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, আমদানিকারক ৮০টি মটর সাইকেলের দাম দেখিয়েছেন মাত্র ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যার প্রতিটির মূল্য বলা হয়েছে সাড়ে ২৮ হাজার টাকা। তবে আমদানি করা গাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এ ছাড়া ১৫৫-এর অধিক সিসির মোটরসাইকেল আমদানি নীতিতে নিষিদ্ধ। কিন্তু আমদানিকারক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১২৫ সিসির ৬২টি, ২৫০ সিসির ১৬টি ও ৬৫০ সিসির দুটি মোটরসাইকেল আমদানি করেছে। অথচ ঘোষণাপত্রে আমদানি করা গাড়ির সিসি উল্লেখ করা ছিল ১৫০। মোটরসাইকেল পরীক্ষার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিন কবির, কানু কুমার মিত্র ও সহকারী কমিশনার এস এম আরেফিন জাহিদি। গত দুই মাসে ৪৫০টি আমদানি চালানে পরীক্ষা করে প্রায় ২০০টি চালানেই অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে জানান মংলা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম।