সন্ধের ঘরমুখী নিত্যযাত্রীদের নজরে থাকছে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট

ঢাকা: বিকেল শেষ হয়ে সন্ধে নামতেই জ্বলে উঠবে ঢাকার সদরঘাটের আলোকস্তম্ভ৷ যাত্রী পারাপারে ব্যস্ত স্টিমার ও ঘাট ছাড়িয়ে নিত্য যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়বে রাজপথে৷ তারই মাঝে সবার নজরে নির্বাচনের নির্ঘণ্টের দিকে৷ স্থানীয় সময় সন্ধে ৭টা নাগাদ ঘোষণা হচ্ছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি৷ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তরফে এই দিন জানানোর পর থেকেই জারি হচ্ছে বিশেষ আইন৷

বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে ভাষণ দেবেন৷ তাঁর ভাষণের রেকর্ডিং সম্পূর্ণ৷ এতেই তিনি জানিয়ে দেবেন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সমসূচি৷ এর পরেই বাংলাদেশ জুড়ে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি আরও তীব্র হতে চলেছে৷ সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরেই ভোট হচ্ছে৷ এমনই জানা গিয়েছে৷

এদিকে নির্বাচন ঘিরে শাসক আওয়ামী লীগ, বিরোধী বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং গণফোরামের নেতৃত্বে ঐক্য জোটের অবস্থান নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ৷ বিএনপি এবং গণফোরাম মিলিত ঐক্যজোট যে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি করেছে তা কোনওমতেই মানতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ৷ দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পরেও মেলেনি সমাধানসূত্র৷ বারে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে এই জোট৷

আবার পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চ তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হওয়া বিকল্পধারা জোট নির্ঘণ্ট মেনেই ভোটে যেতে আগ্রহী৷ তাদের আহ্বানের পরেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করেই জাতীয় নির্বাচন চালাবে৷ বৃহস্পতিবার এমনই জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত৷

জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পরেই ভোটমুখী রাজনৈতিক গতি নির্ধারণ করতে বৈঠকে বসছে বিএনপি৷ যদিও দলীয় নেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে জেল বন্দি৷ তাঁকে ছাড়াই ভোটের লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপি৷ তবে তাদের জোটে থাকা জামাত ইসলামির নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন বাতিল হওয়ায় কট্টর ইসলামিক দলটির অবস্থান নিয়ে চলছে চর্চা৷

নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই কোনওরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি রুখতে সেনা বাহিনী, ব়্যাব ও পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন৷ সেই কারণে আগে থেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে৷

গত দশম জাতীয় নির্বাচনে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে ভোট বয়কট করেছিল বিএনপি৷ পরে তাদের ডাকা গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলনে অংশ নিয়ে জামাত ইসলামি ব্যাপক তাণ্ডব চালায়৷ এতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়৷ সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের জোট৷

----
-----