গোপালগঞ্জে হাসিনা নিশ্চিত কিন্তু খালেদা?

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: এক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী, অপর জন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও দুর্নীতির দায়ে জেলবন্দি৷ তৃতীয় জন অশীতিপর প্রাক্তন সেনা শাসক-রাষ্ট্রপতি৷ সবমিলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও চিরাচরিত ভাবে বাংলাদেশের এই তিন প্রধান ব্যক্তিত্বকে ঘিরেই রাজনৈতিক সূত্র আবর্তিত হচ্ছে৷

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে তিনটি মুখ গত কয়েক দশক ধরে পরিচিত তাদের অবশ্যই একজন শেখ হাসিনা৷ দ্বিতীয় নামটি হবে খালেদা জিয়া এবং তৃতীয় জন হুসেইন মহম্মদ এরশাদ৷ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে খুন করা হয়৷ তারপরে সেনা উর্দি ফেলে দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় চলে এসেছিলেন জিয়াউর রহমান৷

তিনি খুন হওয়ার পর ক্ষমতার কেন্দ্রে বারবারে এসেছেন জিয়া পত্নী খালেদা এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনা৷ সেই অর্থে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন একাধিকবার৷

- Advertisement -

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি তথা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামে খুন করা হয়৷ এই ঘটনার পর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে তিনি সেনা শাসক হিসেবে বাংলাদেশ শাসন করেন। তীব্র ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে চলা এরশাদের জাতীয় পার্টির সরকার ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে ক্ষমতা থেকে সরে যায়৷ তারপর থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে-গিয়েছে৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়েছে৷ বাংলাদেশের ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ এবং অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি ৷ যদিও গতবারের নির্বাচন তারা বয়কট করেছিল৷ তারপর জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা পায় এরশাদের জাতীয় পার্টি৷ সংসদে বিরোধী নেত্রী হিসেবে পরিচিত হয়েছেন এরশাদ পত্নী রওশন৷ সরকারের কাছে থেকে আবার বিরোধী অবস্থান ধরে রেখে বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছে জাতীয় পার্টি৷

এখন প্রশ্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির তিন প্রধান নেতা কোথা থেকে দাঁড়াবেন৷ প্রথমেই উঠে আসছে প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেত্রী শেখ হাসিনার কথা৷ গোপালগঞ্জ-৩ তাঁর কেন্দ্র৷ গতবারের সাংসদ এবারেও সেখান থেকেই লড়বেন৷ কোনওরকম মিরাক্যাল না ঘটলে এই কেন্দ্রে হাসিনার জয় নিশ্চিত সেটা বিরোধী তথা আপামর বাংলাদেশি জানেন৷

এরপরেই থাকছে বিএনপি নেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলোচনা৷ জিয়া চ্যারিটেবল সোসাইটির (দাতব্য প্রতিষ্ঠান) আর্থিক জালিয়াতি মামলায় তাঁর জেল হয়েছে৷ ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় জেলেই তিনি বন্দি৷ বিএনপির দাবি, নেত্রী অসুস্থ তাঁকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই সরকার ষড়যন্ত্র করেছে৷ তবে শীর্ষ বিএনপি নেতারা এটাও মেনে নিচ্ছেন, বন্দি খালেদা জিয়ার পক্ষে এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না৷ সে ক্ষেত্রে তাঁর সংসদীয় আসন বগুড়া-৬ নম্বর থেকে কে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন সেটাও অন্যতম আলোচনার বিষয়৷

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্র থেকেই চারবার সাংসদ হন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট ভোটের ৭১ শতাংশ পেয়ে জয়ী হন। আসনটি সেই ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির দখলে ছিল৷ গত জাতীয় নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী৷ ঢাকার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, বিএনপি নেতারা মনে করছেন যেহেতু নেত্রী বন্দি এবং তাঁর পুত্র তারেক রহমানের পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে এই কেন্দ্রে জিয়া পরিবারের কাউকেই প্রার্থী করা হবে৷ ফলে উঠে আসছে খালেদার পুত্রবধূ জোবাইদা রহমানের নাম৷

বাকি থাকলেন হুসেইন মহম্মদ এরশাদ৷ প্রাক্তন সেনা শাসক ও রাষ্ট্রপতি এবারে প্রচার শুরু করেই জানিয়ে দিয়েছেন এটাই তাঁর শেষ নির্বাচন৷ এমনিতে তাঁর এবং জাতীয় পার্টির শক্তির কেন্দ্র হল রংপুর৷ স্থানীয় পুরসভা তাঁর দলেরই দখলে৷ গত নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন এরশাদ৷ যদিও ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন৷ তারপরেও তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদ হয়েছেন বিরোধী নেত্রী৷

আওয়ামী লীগের তরফে এবারেও গোপালগঞ্জ-৩ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন শেখ হাসিনা৷ রংপুর-৩ থেকে দাঁড়ানো নিশ্চিত এরশাদের৷ কিন্তু খালেদা জিয়ার কী হবে ? আশা নিরাশায় দুলছে বিএনপি৷ অনেকই মনে করছেন ম্যাডামকে শেষ পর্যন্ত জেলে থেকে বের করতে না পারলে পুত্রবধূকে দিয়েই কাজ চালাতে হবে৷ সেটা হবে অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো৷

Advertisement ---
---
-----