বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্মৃতি অমলিন বালুরঘাটবাসীর

শংকর দাস, বালুরঘাট: লড়াই আন্দোলনের শহর বালুরঘাট। এখানে শুধু নিজেরদের স্বাধীনতায় ৪২’এর আন্দোলনই সংঘটিত হয়নি। প্রতিবেশীদেরস্বাধীনতা পাইয়ে দিতেও এই শহরের গুরত্বপুর্ণ অবদান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে বালুরঘাটের গুরুত্বপূর্ণ যোগদান সম্পর্কে এই শহরের বাসিন্দারা আজও গর্ব অনুভব করেন। একাত্তরের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই ও অন্দোলনের রূপরেখা এই শহরের অফিস থেকেই চূড়ান্ত করাহয়েছিল। আর তাই ১৬ডিসেম্বর সীমান্তের ওপাড়ে বাংলাদেশে মহাসমারোহে যখন বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। তখন সীমান্তের এপারে স্মৃতিচারণায়

আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছেন বালুরঘাটের ষাটোর্দ্ধ নাগরিকরা। মুক্তিযুদ্ধে বালুরঘাটের অবদানের জন্য যুদ্ধ জয়ের স্মারক হিসেবে মেজর জেনারেল লছমন সিং লাহেল পাক সেনার কাছ থেকে একটি ট্যাংক ছিনিয়ে এনে বালুরঘাটবাসিকে উপহার দিয়েছিলেন। যা বর্তমানে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর ট্যাংক মোড়ে শোভা পাচ্ছে।বালুরঘাটেই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প অফিস। এই শহরের অস্থায়ী সেনা ছাউনি থেকেই ভারতীয় সেনা সীমান্তের ওপারে গিয়ে পাক বাহিনীর উপর

আছড়ে পড়েছিল। চকভবানী এলাকায় অবস্থিত বর্তমান ট্রাফিক পুলিশ অফিসটাই একাত্তরে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস। যে অফিসের কমান্ডার ছিলজলিল আহমেদ। পরবর্তীতে যিনি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদের দায়িত্বও পেয়েছিলেন। বালুরঘাট শহরের বহু জায়গায় পাক সেনার ছোড়া শেল ওমর্টার আছড়ে পড়েছিল। বহু মানুষ তাতে জখমও হয়েছিলন।বিশিষ্ঠ নাট্যকার জিষ্ণু নিয়োগী জানিয়েছেন, বগুড়া জেলার আদম দীঘিতে তাঁদের জমিদারি ছিল। জমিদারি ছেড়ে এপারে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন৷

তাঁর বাপ-ঠাকুরদারা। একাত্তরের যুদ্ধের সময়কার বালুরঘাটের অনেক কিছুরই সাক্ষী তিনি ছিলেন। দীপালিনগর এলাকায় পরেশ নিয়োগীর বাড়িতে অবস্থিত সিপিআইএম অফিস ছিল। রাতে ভেতরে পরেশ নিয়োগীর নেতৃত্বে দেবদাস শীল ও তুষার নিয়োগী সহ বেশ কয়েকজন বসে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় টিনের সেই চালা ঘরের শেল পড়লে এক যুবকের মৃত্যুও হয়েছিল। বর্তমান টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় ঘন ঘন শেল

পড়েছিল। শহরের রাস্তায় বেরোলেই সেনা জওয়ান ও মুক্তি যোদ্ধাদের যাতায়াত দেখা যেত। সেদিন বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে পাক ভারতের যুদ্ধের গোলাগুলির মধ্যেও কিন্তু বালুরঘাটের মানুষ ছিলেন অকুতোভয়। পরিবারের মহিলা শিশুদের বাইরে পাঠিয়ে দিলেও পুরুষরা কিন্তু বালুরঘাটের পড়েছিলেন।

প্রবীণ সাংবাদিক ভাস্কর চট্টোপাধ্যায় সেদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন সে সময় বালুরঘাটের রাস্তায় হেঁটে বেড়াতেন মুক্তি যোদ্ধারা। পড়নে তাঁদের লুঙ্গি অথবা ধুতির সাথে সাদা গেঞ্জি ও কাঁধে রাইফেল। চকভবানী এলাকায় মুক্তি যোদ্ধাদের অফিসের দায়িত্বে থাকা জলিল আহমেদকে তিনি খুবই কাছ থেকে দেখেছিলেন। তাঁর সাথে আলাপও ছিল। সেই অফিস থেকেই মুক্তিযুদ্ধের রূপরেখা তৈরী করা হতো। নব্বইয়ের দশকে বালুরঘাটে

ভারত-বাংলাদেশের মিলিত বাংলারমুখ মেলায় ওপারের মন্ত্রী হিসেবে জলিল আহমেদ অংশ নিয়েছিলেন। একাত্তরের যুদ্ধ তথা বাংলাদেশের বিজয় দিবসে বালুরঘাটের গুরুত্বপুর ভূমিকা আজও গর্ব অনুভব করেন তিনি। বিশেষ করে রঘুনাথপুর এলাকায় স্থাপিত পাকিস্তান বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়েআনা ট্যাংকটি আজও একাত্তরের যুদ্ধের স্মৃতিকে উস্কে দেয়৷

---- -----