ঢাকা: আগুন ঝরা স্বাধীনতার লড়াই শুরু হয়েছিল মার্চ মাসে৷ আর সেই ঐতিহাসিক মার্চেই এল সুখবর৷ পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীনতা অর্জনের চার দশক পর অবশেষে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের সারিতে ওঠার ছাড়পত্র পেল বাংলাদেশ৷ এর জন্য যে সব শর্ত পূরণ করতে হবে তা দাখিল করার স্বীকৃতি দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ৷

এমন এক দিনে এই বার্তা এসেছে, যখন বাংলাদেশ পালিত হচ্ছে ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮ তম জন্মদিবস৷ সেই দিনেই পদ্মা-কর্ণফুলী বিধৌত বৃহত্তর বাঙালি জাতি জানতে পারলেন তাঁরা এখন গরীব দেশের তকমা ছেড়ে উন্নয়নশীল দেশের তকমাভুক্ত হচ্ছেন৷ স্বাভাবিকভাবেই লেগেছে খুশির ছোঁয়া৷ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা৷

Advertisement

রাষ্ট্রসংঘের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের সারিতে ওঠার যোগ্যতা চলতি মার্চ মাসেই অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় ছিল বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে তীব্র রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে৷

রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয়েছে,উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে৷ এই সংক্রান্ত চিঠি তুলে দেওয়া হয় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে এক অনুষ্ঠানে৷ সেখানে ছিলেন রাষ্ট্রসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) প্রধান রোলান্ড মোলেরাস ও বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন৷

নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উত্তরণের জন্য আয়, মানব সম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই) এই তিন শর্ত পূরণ করতে হয়, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পূরণ হয়েছে। এমনই জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ৷ মানব সম্পদ সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৭২। এক্ষেত্রে ৬২ পর্যন্ত দেশগুলো এলডিসিভুক্ত, ৬৪ ছাড়ালে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়৷ আর মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ২৫ ডলারের নিচে থাকলে সে দেশ এলডিসিভুক্ত হয়, এই আয় ১২৩০ ডলার অতিক্রম করলে ধাপ উন্নয়নের যোগ্যতা অর্জন হয়। বাংলাদেশের এখন ১ হাজার ২৭৪ ডলার। এমনই তথ্য উঠে এসেছে৷

----
--