জসিম উদ্দিন আকন্দ রনি

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের সামনে পরীক্ষা৷ নির্বাচনে তারা কতটা সাফল্য পাবে তার উত্তর দেবেন এই দেশের জনগণ৷ কিন্তু ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ তার বিদেশ নীতিতে কোন দিকটি গুরুত্ব দিচ্ছে তাও আলোচ্য৷ লিখলেন সাবেক (প্রাক্তন) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন আকন্দ রনি৷

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রধান রাজনৈতিক দল বলতে আওয়ামী লীগ-কে বোঝানো হয়ে থাকে কারণ, এই দলের হাত ধরেই স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তাছাড়া সারাদেশে তাদের লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মী রয়েছে যারা মূলত দলের প্রাণ। আওয়ামী লীগের সব চেয়ে বড় শক্তি তাদের এই নি:স্বার্থ কর্মীরা। কিন্তু শুধুমাত্র কর্মী দিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের দলের প্রগতি এবং ভাবমূর্তি বাড়াবে তারা তা ভাবছে না বলেই প্রতীয়মান হয়৷

কারণ, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ দলের অভ্যন্তরীণ কর্মযজ্ঞ, কর্মীদের সাথে তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো সহ বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক পর্যায়েও আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়তা বাড়িয়েছে৷ তাছাড়া পররাষ্ট্রনীতি (বিদেশনীতি) মেনে সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও প্রভুত্ব নয়, কারো সাথে বৈরিতা নয়, এই স্লোগান নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আওয়ামী লীগের জনকল্যাণকর কাজগুলো সম্পর্কে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিকদের অবিহিত করা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে সঠিকভাবে সেই বিষয়গুলো আন্তরিকতার সাথে অবহিত করা যাতে বিশ্বপরিমন্ডল- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা পোষণ করতে পারে।

সম্প্রতি বৈদেশিক কূটনৈতিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এনে আওয়ামী লীগ বেশ কয়েকটি সভা সেমিনার ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। সেমিনারে মতবিনিময় সহ জামাত বিএনপির অরাজকতা, পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পোড়ানো, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করা সহ বিভিন্ন বিষয় কূটনৈতিকদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়, গণতন্ত্র সুরক্ষা, জন বান্ধব কর্মপন্থা, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে সেই ইতিবাচক দিকগুলোও বহির্বিশ্বের কাছে আওয়ামী লীগ দক্ষতার সাথে জানান দিয়ে যাচ্ছে। এই সক্রিয়তা নতুন করে শুরু হয়েছে সংগঠনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, সভা, সেমিনার, মতবিনিময় করছেন। দলের প্রয়োজনে দলীয় প্রতিনিধি নিয়ে সাংগঠনিক সফর করছেন ইতিমধ্যে এবং আওয়ামীলীগের ইতিবাচক ভূমিকা গুলো বিদেশে তুলে ধরছেন যা দলের ভাবমূর্তি ক্রমশই উজ্জ্বল করছে।

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটি বিভিন্ন সভা সেমিনার আয়োজন করে কূটনৈতিকদের সাথে বাংলাদেশ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, ১৫ ই আগস্টের মতো কালো দিন, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, বর্তমান উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্প কূটনৈতিকদের কাছে তুলে ধরছেন ড. শাম্মী আহমেদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটি। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে যা অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বিশ্ব দরবারে এমনটাই প্রত্যাশা।

--
----
--