মুম্বই: ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুরনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন৷ আর পাঁচদিনে মধ্যে আমেদাবাদ জেলা সমবায় ব্যাংকে জমা পড়ে ৭৪৫.৫৯ কোটি টাকা৷ যা দেশের মধ্য সর্বোচ্চ৷ আবার এই ব্যাংকটির অন্যতম ডিরেক্টর হলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ৷ এমনই তথ্য দিয়েছে সংবাদ সংস্থা আইএএনএস৷

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর থেকে সারা দেশে পুরোনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ওই বছর ৩০ ডিসেম্বর অবধি দেশবাসীকে সময় দেওয়া হয় তাঁদের কাছে থাকা বাতিল নোট ব্যাংক অথবা ডাকঘরে নিজেদের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে অথবা তা বদলে নতুন নোটে নিতে। অথচ এর ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় বলা অন্যান্য ব্যাংকে হলেও সমবায় ব্যাংগুলিতে বাতিল নোট জমা করা যাবে না। কারণ, সরকারের আশঙ্কা এইসব সমবায় ব্যাংকগুলির মাধ্যমে বাতিল নোটে রাখা কালো টাকা সাদা করা হতে পারে৷।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় এক প্রশ্নের উত্তর থেকে জানা গিয়েছে ওই পাঁচ দিনেই আহমেদাবাদ জেলা সমবায় ব্যাংকে বাতিল নোটে মোট ৭৪৫.৫৯ কোটি টাকা জমা পড়ে, যা দেশের অন্য জেলা সমবায় ব্যাঙ্কগুলির তুলনায় সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি ওই আমেদাবাদ জেলা সমবায় ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে জানা গিয়েছে, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ হচ্ছেন এই ব্যাংকটির অন্যতম ডিরেক্টর। ২০০০ সালে তিনি এই ব্যাংকটির চেয়ারম্যানও ছিলেন।

গত বছর মার্চ মাস পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেদাবাদ জেলা সমবায় ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৫,০৫০ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে এই ব্যাংকের মোট মুনাফা ১৪.৩১ কোটি টাকা। গুজরাটে ব্যাংকটির মোট ১২২টি শাখা এবং ২২ লক্ষ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এদিকে সমবায় ব্যাংকগুলিতে সেই সময় বাতিল নোট জমা পড়ার নিরিখে আহমেদাবাদ জেলা সমবায় ব্যাংকের পরেই যে সমবায় ব্যাংকটি রয়েছে সেটিও গুজরাটেরই – রাজকোট জেলা সমবায় ব্যাংক। এই ব্যাংক মোট ৬৯৩.১৯ কোটি টাকার বাতিল নোট জমা পড়েছিল। আবার রাজকোট জেলা সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানও হলেন রাজ্যের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা জয়েশভাই বিঠ্ঠলভাই রাদাদিয়া। তিনি বর্তমানে গুজরাটের বিজয় রুপানি সরকারে অন্যতম মন্ত্রী৷ এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই রাজকোট থেকেই ২০০১ সালে প্রথম বিধায়ক হয়েছিলেন।অথচ গুজরাটের রাজ্য সমবায় ব্যাংকে- রাজ্যের সমবায় ব্যাঙ্কগুলির শীর্ষ ব্যাঙ্ক – সেখানে বাতিল নোট জমা পড়েছে মাত্র ১.১১ কোটি টাকা৷ যা এই দুই জেলা সমবায় ব্যাংকের তুলনায় অনেক কম৷

মুম্বইয়ের মনোরঞ্জন এস রায় নামে এক ব্যক্তির আরটিআই-এর জবাবে গুজরাটের ন্যাশনাল ব্যাংক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট-এর (নাবার্ড) চিফ জেনেরাল ম্যানেজার ও অ্যাপিলেট অথরিটি এস সর্বানাভেল এই সব তথ্য দিয়েছেন ৷ আরটিআই করায় জানা গিয়েছে , কেবল ৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ৩২টি রাজ্য সমবায় ব্যাংক, ৩৭০টি কেন্দ্রীয় জেলা সমবায় ব্যাংক এবং ৩৯টি পোস্ট অফিস মিলে মোট বাতিল নোটে ৭,৯১,০০০ কোটি টাকা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে জমা করেছিল। এর মধ্যে ওই ৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জমা হয়েছিল ৭,৫৭,০০০ কোটি টাকা, ৩২টি রাজ্য সমবায় ব্যাংক দিয়েছিল ৬,৪০৭ কোটি টাকা, ৩৭০টি জেলা সমবায় ব্যাংক জমা করেছিল ২২,২৭১ কোটি টাকা এবং ৩৯টি ডাকঘরে জমা হয়েছে ৪,৪০৮ কোটি টাকা৷

----
--