শামসুদ্দিনকে হেফাজতে নিয়ে আরও তথ্যের আশায় ডোমজুড় পুলিশ

ফাইল চিত্র৷

স্টাফ রিপোর্টার হাওড়া: ব্যাংক কর্মী খুনের ঘটনায় ধৃত নিজের কৃতকর্মের কথা কবুল করেছে৷ পুলিশ সূত্রে উঠে এসেছে এই তথ্য৷ হাওড়ার ডোমজুড়ের মাকড়দহে বন্ধন ব্যাঙ্কের লোন রিকভারি কর্মী পার্থ চক্রবর্তীকে খুনের ঘটনায় শেখ শামসুদ্দিনকে শুক্রবারই গ্রেফতার করে পুলিশ৷ শনিবার আদালত তাকে ১২ দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছে৷

আরও পড়ুন: ‘ডাকাত রানি’ বলা সেই মুকুল-ঘনিষ্ঠই ক্ষমা চাইছেন মমতার কাছে

দীর্ঘ পুলিশি জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে শামসুদ্দিন৷ প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, লোনের কিস্তির টাকা দিতে না পেরেই পার্থকে খুন করে সে৷ তারপর প্রমাণ প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। শনিবার ধৃত শামসুদ্দিনকে হাওড়া আদালতে তোলা হয়৷ আদালত ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে ধৃতকে৷

- Advertisement -

শুক্রবার ডোমজুড়ের কাটলিয়া থেকে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধার থেকে উদ্ধার হয় মৃত পার্থর দেহের অন্যান্য কাটা অংশ। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর দুটো নাগাদ পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে একজন শামসুদ্দিন৷

ডোমজুড় থানায় দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে জেরা৷ একটা সময় পুলিশ কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় এই ঘটনায় শামসুদ্দিন জড়িত৷ পুলিশ শামসুদ্দিনকে ম্যারাথন জেরা শুরু করে। জেরার মুখে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করে নেয় যে এই ঘটনায় তার যোগ রয়েছে৷

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়া জেলে থাকলে নির্বাচন নয়: বিএনপি

পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার মুখে শামসুদ্দিন জানিয়েছে, সে বন্ধন ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা ব্যবসার জন্য লোন করেছিল। সে পঞ্চম স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মী ছিল। গত তিন সপ্তাহ যাবৎ সে লোনের টাকা শোধ দিতে পারছিল না। গত বুধবার দুপুরে যখন পার্থ চক্রবর্তী তার কাছে লোনের টাকা চাইতে যায় তখনই তার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশকে শামসুদ্দিন জানায়, ক্রোধের বশেই সে পার্থকে খুন করে। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে দেহ কেটে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত ছিল বলে পুলিশ মনে করছে। এই ঘটনায় শামসুদ্দিনকে নিয়ে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় চিরুনি তল্লাশি করে। এরপর জাতীয় সড়কের ধারে জঙ্গল থেকে কাটা মুণ্ড ও কাটা হাত পুলিশ উদ্ধার করে। শামসুদ্দিনকে জেরার পর শনিবার দুপুরে তাকে হাওড়া আদালতে তোলা হয়।

গত বুধবার মাকড়দহ রাঘবপুরে বস্তাবন্দি অবস্থায় পার্থ চক্রবর্তীর মুণ্ডহীন হাত কাটা দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তিনি সলপ এলাকায় বন্ধন ব্যাংকের লোন রিকভারি এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি নদিয়ার চাকদহে৷ হাওড়ায় কাজের সূত্রে মেসে থাকতেন। লোন রিকভারির কাজে বেরিয়ে তিনি ফিরে না আসায় ডোমজুড় থানায় নিখোঁজসংক্রান্ত ডায়েরি করা হয়৷

আরও পড়ুন: মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরের পুরুষাঙ্গে ছুঁচ!

হাওড়ার গ্রামীণ পুলিশসুপার গৌরব শর্মা বলেন, ‘‘মূলত লোনের টাকা শোধ দিতে না পেরেই শামসুদ্দিনের সঙ্গে পার্থর ঝামেলা হয়। এবং এটাকেই খুনের মোটিভ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ধরা হচ্ছে। আমরা এখনও পর্যন্ত টাকা উদ্ধার করতে পেরেছি। সাইকেল, মোবাইল ফোন এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের খোঁজ চলছে৷’’ এদিকে, পুলিশ শামসুদ্দিনের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

Advertisement
---