মাধ্যমিকের পর এবার উচ্চমাধ্যমিকেও সেরা বাঁকুড়া

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকেও মেধা তালিকায় বাঁকুড়ার জয়জয়কার। মাধ্যমিকের মত উচ্চ মাধ্যমিকেও এই তালিকা বেশ দীর্ঘ। মাধ্যমিকে এক থেকে চারের মধ্যে থাকতে না পারলেও উচ্চমাধ্যমিকে তা রয়েছে৷ পাশাপাশি সাঁওতালি মাধ্যমে রাজ্যর সেরা এই বাঁকুড়ার রাইপুরের মণ্ডলকুলী নেতাজী বিদ্যাপীঠের ছাত্র এপ্রিল সরেন।

উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে বাঁকুড়ার মধুবন গোয়েঙ্কার ছাত্র অন্ময় চ্যাটার্জী। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় সে। ফুটবলের অন্ধ ভক্ত এই কৃতি ছাত্র পাশাপাশি গল্পের বই পড়তেও ভালোবাসে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে অধ্যাবসায়ই তার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে সে মনে করে।

আরও পড়ুন: ফার্স্ট ডিভিসনে পাস করতে না পেরে আত্মঘাতী ছাত্রী

এই জেলা থেকে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে তিনজন। রানিবাঁধ হাইস্কুলের অনিমা গরাই, বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের সুতনয় ভট্টাচার্য ও ওন্দা হাইস্কুলের বিশাল গঙ্গোপাধ্যায়। রানিবাঁধের অনিমা গরাই বাঁকুড়া জেলায় পঞ্চম স্থানাধিকারী হলেও ৪৮৬ নম্বর পেয়ে সে রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে।

অনিমার মূল লক্ষ্য কলকাতার কোনও কলেজে ভূগোলে অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করা। অন্যদিকে বিষ্ণুপুর হাই স্কুলের সুতনয় ভট্টাচার্য ভবিষ্যতে অঙ্ক নিয়েই এগোতে চায়। সুতনয়ের পড়াশুনার নির্দিষ্ট কোনও সময় ছিলনা। পড়তে ইচ্ছে গেলেই বই নিয়ে বসে পড়েছে সে। আর তাতেই এই সাফল্য বলে জানায় সে।

৪৮৫ নম্বর পেয়ে ষষ্ঠ স্থানাধিকারী বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের নীলমাধব দত্ত। নীলমাধব পুরনো দিনের গান শুনতে খুব ভালোবাসে। ভবিষ্যতের স্বপ্ন প্রশাসনিক আধিকারিক হিসেবে কাজ করার।

আরও পড়ুন: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে সফল সোনু

সপ্তম স্থানে রয়েছে সারেঙ্গা মহাত্মাজি স্মৃতি বিদ্যাপীঠের অংশুমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবা সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় একজন প্রতিষ্ঠিত জ্যোতিষী। অংশুমান ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হতে চায়। পড়াশোনা এতদিন স্বাধীনভাবেই করে এসেছে সে। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও তার সাফল্য নজরকাড়া। মা-বাবার তরফে কোনও বাড়তি চাপ না থাকাটাই সাফল্যের অন্যতম চাবি কাঠি বলে মনে করে সে।

রাজ্যে অষ্টম স্থানাধিকারীও এই জেলায় দু’জন। বাঁকুড়া বঙ্গ বিদ্যালয়ের রৌনক পাত্র এবং ওন্দার রামসাগর হাই স্কুলের কৃষ্ণেন্দু কুণ্ডু। দু’জনের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৩।

আরও পড়ুন: ১১ জুন পুরুলিয়া যাবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি

৪৮১ নম্বর পেয়ে এই জেলা থেকে দশম স্থান অধিকার করেছে দু’জন। বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের সমীধ ঘোষ ও সিমলাপাল মদনমোহন হাই স্কুলের তন্ময় পতি। সমীধ ভবিষ্যতে অধ্যাপক হতে চায়। পড়াশুনার পাশাপাশি ক্রিকেট পাগল এই কৃতি ছাত্র৷ সাফল্যের পিছনে তাঁর বাবার অবদানই বেশি বলে জানিয়েছে সে।

অন্যদিকে সিমলাপালের আটগোদা গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান তন্ময় পতির লক্ষ্য ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়া। কিন্তু তন্ময়ের বাবা সুভাষ চন্দ্র পতির ছেলেকে ডাক্তারি পড়ানোর সেই সামর্থ্য নেই। সামান্য চাষের জমি আর অন্যের একটি পোলট্রি ফার্ম লিজে নিয়ে তা থেকে যা রোজগার হয় তাতেই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা আর সংসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।

আরও পড়ুন: মালদহে তৃণমূল কর্মী খুনে অভিযুক্ত কংগ্রেস

ছেলের জন্য গর্বিত বাবা সুভাষ চন্দ্র পতি বলেন, ‘‘ভালো ফল আশা করবে জানতাম। তবে এতটা আশা করিনি। গৃহশিক্ষকরা অল্প বেতনে দিনের পর দিন পড়িয়েছেন৷ আবার কখনও প্রায় বিনা বেতনে পড়িয়েছেন৷ তাতে তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি। সমানভাবে কৃতজ্ঞ স্কুলের শিক্ষকদের প্রতিও।’’ এখন তন্ময়কে ভাবাচ্ছে অর্থের সমস্যা ভবিষ্যতে পড়াশোনায় বাধা হবে না তো?

অলচিকিতে রাজ্যের প্রথম বাঁকুড়ার মণ্ডলকুলী নেতাজী বিদ্যাপিঠের এপ্রিল সরেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪২৬৷ পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাহায্য প্রার্থনা করেছে এই অভাবী ঘরের মেধাবী সন্তান।

আরও পড়ুন: কোতুয়ালী ভবন কংগ্রেসের ‘হাত’ছাড়া হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে

Advertisement
----
-----