মাঝেরহাটকাণ্ডের জের: নড়েচড়ে বসল বাঁকুড়া জেলাপ্রশাসন

বৃষ্টিতে দ্বারকেশ্বর নদের উপর কজওয়েটি জলের তলায়৷

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রথমে মাঝেরহাট৷ তারপর ফাঁসিদেওয়া৷ চারদিনের মধ্যে রাজ্যে ভেঙে পড়েছে দু’টি সেতু৷ আর এই সেতুভঙ্গের ঘটনার আতঙ্ক থাবা বসিয়েছে জেলাতেও৷ বাঁকুড়াবাসীর মনেও বাসা বেঁধেছে ভয়৷ এ জেলায় এমন বেশ কয়েকটি সেতু রয়েছে যেগুলি দিয়ে যাতায়াত যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ৷ অতিরিক্তি ওজনের চাপে যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে অতি প্রাচীন এই সেতুগুলি৷

এই তালিকায় প্রথমেই নাম উঠে আসবে বাঁকুড়া শহরে প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গন্ধেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর নদের উপর সেতু দু’টি৷ এদের ‘শারীরিক’অবস্থা মোটেই সুবিধার নয়৷ দুর্গাপুর-বাঁকুড়া জাতীয় সড়কে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর সেতুটি বহু পুরনো৷

প্রতিদিন এই সেতুর উপর দিয়ে কয়েক হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন যাতায়াত করে৷ গত কয়েক বছরে এই সেতুর তেমন কোনও সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ৷ বর্তমানে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন সতীঘাট সেতুর নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় ওই পথে যান চলাচল বন্ধ৷ ফলে গন্ধেশ্বরী সেতুর উপর চাপ আরও কয়েক গুন বেড়েছে। ফলে এই সেতু যদি কোনওদিন কোনও বিপদের মুখে পড়ে খুব একটা অবাক হবেন না জেলার মানুষ৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: কীর্তনিয়াদের নীল-সাদা খোল দেবেন অনুব্রত, সঙ্গে করতালও

দ্বারকেশ্বর নদের উপর এক্তেশ্বরের সেতুটিও বহু প্রাচীন৷ বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুর ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক ধরে বাঁকুড়া শহরে প্রবেশের মূল ও একমাত্র রাস্তা এটি৷ সম্প্রতি এই সেতুর উপরের অংশে কিছুটা সংস্কার করা হলেও নিচের পিলারগুলিতে কোনও সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ। সারা বছর সেভাবে এই নদে জল না থাকলেও ফি বছর বর্ষায় এই দ্বারকেশ্বর ভয়াল রূপ নেয়৷

স্বাভাবিকভাবেই সেতুর নিচের অংশে থাকা পিলারগুলির নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা খুব একটা মিথ্যা নয়৷ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে যদি ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায় তার দায় কে নেবে সে নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গঙ্গাজলঘাটির শালী নদীর উপর সেতুটির অবস্থাও তথৈবচ৷ স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সেতু সংস্কারের দাবি নিয়ে প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের উপর সিমলাপাল শিলাবতী নদীর সেতু সংস্কারের দাবিও ইতিমধ্যেই উঠেছে৷

আরও পড়ুন: জমা জল মারণ রোগ ছড়াচ্ছে গরুর শরীরে

এই সেতুটি অত্যন্ত নিচু হওয়ায় ফি বছর সামান্য বৃষ্টিতেই জলে ডুবে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্য সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়াও শিলাবতী নদীর উপর সিমলাপালের পাথরডাঙা কজওয়ের অবস্থাও খুব ভালো নয় বলে অভিযোগ। প্রতিবছর বর্ষায় অন্তত দু’ থেকে তিনবার জলমগ্ন হয়ে পড়ে বাম আমলে তৈরি এই কজওয়েটি।

কজওয়ের দু’ধারের রাস্তার উপর খুঁটিগুলি ভেঙে পড়েছে বহুদিন আগেই। ফলে অত্যন্ত সরু এই কজওয়েতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কজওয়েটি সংস্কারের দাবিতে সরবও হয়েছেন পাথরডাঙা, ভেলাইডিহা, দোলদেড়িয়া-সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ৷

আরও পড়ুন: যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ ও মোদীকে একই আসনে রাখলেন বিজেপি নেতা

বাঁকুড়ার জেলাশাসক উমাশঙ্কর এস কলকাতা24×7 কে বলেন, এ বিষয়ে জেলাপ্রশাসন ইতিমধ্যেই ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিয়েছে। জেলার সবকটি ব্লকের বিডিও ও সংশ্লিষ্ট এলাকার এসডিওদের নিজের নিজের এলাকার সেতুগুলি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পিডব্লুডিও বিষয়টি দেখছে। বিস্তারিত রিপোর্ট হাতে পেলে সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

Advertisement ---
---
-----