১০০ দিনের কাজের টাকা না পাওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন বাঁকুড়ার একাংশ

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে গরিব খেটে খাওয়া মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস একশো দিনের কাজ প্রকল্পের মজুরি মিলছে না। এমন অভিযোগই এখন ঘোরাফেরা করছে বাঁকুড়ার আকাশে বাতাসে। গরিব খেটে খাওয়া মানুষের অন্যতম বড় উৎসব মকর পরবের শুরু। এই সময় সব মানুষই চান তাদের সন্তান, সন্ততি সহ পরিবারের অন্যান্য মানুষগুলির হাতে নতুন পোশাক তুলে দিতে। তাছাড়া উৎসবের দিনে অন্যান্য নানান খরচ তো আছেই। কিন্তু একশো দিনের মজুরির টাকা না মেলায় সমস্যার মধ্যে পড়েছে একাংশ৷

অপর্যাপ্ত বৃষ্টি আর সেচের জলের অভাবে জেলায় এই বছর ভালো ধান চাষ হয়নি। ফলে এখান থেকে যে শ্রম দিবস তৈরি হওয়ার কথা তা হয়নি। ফলে এই সব মানুষগুলির এক ও একমাত্র ভরসার জায়গা সেই একশো দিনের কাজ প্রকল্প। কাজ না পাওয়ার অভিযোগ বাঁকুড়া জেলা জুড়ে না উঠলেও মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ ভূরি ভূরি।

এই প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের একটা বড় অংশের অভিযোগ, ২০১৮ সালে কাজ করার মজুরি ২০১৯-এও এসে পাইনি। একে উৎসবের মরশুম৷ তারপর বাড়ির ছেলে মেয়েদের স্কুলে শিক্ষাবর্ষের শুরু। ফলে হাতে টাকা না থাকায় তারা ভীষণভাবে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। মজুরির টাকার জন্য পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিস দৌড়ঝাঁপ করেও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে তাদের অভিযোগ।

কোতুলপুল এলাকার মঙ্গলা রায়, জগবন্ধু মল্লিকরা বলেন, আগস্ট মাসে কাজ করেছি। এখনও মজুরির টাকা পাইনি। মকর পরবে টাকা না পাওয়ায় মহা সমস্যায় পড়লাম। তাছাড়া ছেলে মেয়েদের নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু। বইপত্র কিনতেও সমস্যা হচ্ছে বলে তারা জানান।

এই বিষয়ে কোতুলপুরের বিডিও পরিমল গায়েন বলেন, এই বিষয়ে আমাদের করার কিছুই নেই। সরাসরি বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্র মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার প্রতি বঞ্চনা করছে অভিযোগ তুলে বলেন, শ্রমিকদের সামান্য ক’টা টাকা নিয়ে কেন্দ্রের এই বিমাতৃসুলভ আচরণের নিন্দা করি। খুব দ্রুত সাধারণ মানুষ প্রাপ্য টাকা পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।