‘ভালো’ ডাক্তারবাবুর বদলি ঠেকাতে আন্দোলনে গ্রামবাসীরা

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: রাজ্যে কর্মরত সরকারি চিকিৎসকদের একাংশদের বিরুদ্ধে যখন প্রায়শই নানা অভিযোগ উঠছে তখনই ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকল বাঁকুড়ার খাতড়া সিমলা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

এই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ সুমন ষন্নিগ্রাহীর বদলি আটকাতে পথে নামলেন এলাকার কয়েকশো সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি, ডাক্তারবাবুর বদলির নির্দেশ বাতিল করতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকরী হলে তাঁরা সম্মিলীতভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।

আরও পড়ুন: অল ইংল্যান্ড ক্লাবে অব্যাহত রজার আধিপত্য

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই সিমলা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল এলাকার ২০-২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। কয়েক বছর আগেও নামেই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলেও চিকিৎসা পরিকাঠামো সেভাবে কিছুই ছিল না।

বাধ্য হয়েই এই এলাকার মানুষকে ১৫ কিমি দূরে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে ছুটে যেতে হত। সুমন ষন্নিগ্রাহী এই হাসপাতালে কাজে যোগ দেওয়ার পর হাসপাতাল তার নিজের চেহারা ফিরে পেয়েছে। প্রতিদিন কয়েকশো রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসার পাশাপাশি, গড়ে ২০-২২ জন রোগী হাসপাতালে ভরতির সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।

আরও পড়ুন: মমতা প্রেমীকেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করলেন রাহুল গান্ধী

বুধবার সকালে গ্রামের মানুষ খবর পান তাদের প্রিয় ডাক্তারবাবু সুমন ষন্নিগ্রাহীর বদলির নির্দেশ এসেছে। আর এই খবর পাওয়া মাত্রই এলাকার গোপীরসাগর, সিমলা, কেশিয়া, ভেলাইডিহা, নগড়ী, চাকা, বেনা, আড়কামা, দামোদরপুর গ্রামের কয়েকশো মানুষ ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সদস্যরা ডাক্তারবাবুর বদলির আদেশের বিরোধীতা করে পথে নামেন। একই সঙ্গে তারা মিছিল করে বিএমওএইচ তাপস মণ্ডলের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেন।

বিএমওএইচ তাপস মণ্ডল বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে একজন চিকিৎসক হিসেবে যে কারওর কাছেই এটা গর্বের বিষয়। তবে ওই চিকিৎসকের অল্প কয়েক দিনের জন্য অন্য হাসপাতালে বদলির নির্দেশ এসেছিল। গ্রামবাসীদের দাবি আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি। এবিষয়ে ওঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।’’

আরও পড়ুন: কালজানির অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে বিপর্যস্ত কোচবিহার

সুমন ষন্নিগ্রাহীর বদলির আদেশের বিরোধিতা করে পথে নামা গ্রামবাসীদের পক্ষে সব্যসাচী পাত্র বলেন, ‘‘এই ডাক্তারবাবু আমাদের হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি আলো, পানীয় জল, ভরতি থাকা রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে। আগে এই হাসপাতাল ঝোপ আর জঙ্গলে ভরতি একটা ভূতুড়ে বাড়ির চেহারায় ছিল। এখন এখানে সুমন ষন্নিগ্রাহীর সৌজন্যে ২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্য পরিষেবা মিলছে। যে কোনও মূল্যে প্রয়োজনে লাগাতার আন্দোলন করে হলেও আমরা সুমন ষন্নিগ্রাহীর বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করাব।’’

চিকিৎসক সুমন ষন্নিগ্রাহী বলেন, ‘‘চেষ্টা করেছি এই এলাকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করার। আরও কিছু পরিকল্পনা ছিল। তবে এটা সত্যি আমার বদলির নির্দেশ না এলে জানতেই পারতাম না এই এলাকার মানুষ আমাকে এতটা ভালোবাসেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে এই মুহূর্তটা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের৷’’

আরও পড়ুন: লজ্জার রেকর্ড শাকিবদের, ৪৩ রানে শেষ বাংলাদেশ

Advertisement
---