তাল উৎসবের মঞ্চ থেকে ‘তাল পিঠে’র জিআই স্বীকৃতির দাবি

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অভিনব ‘তাল উৎসব’-এর মঞ্চ থেকে তাল পিঠের জিআই স্বীকৃতির দাবিতে সরব হলেন বাঁকুড়ার উৎকল ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের দাবি, উৎকল ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে তৈরি তাল পিঠের স্বাদ অতুলনীয়। এমনটি আর কারও পক্ষে করা সম্ভব নয় বলেও এদিন তাঁরা দাবি করেন।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ফাস্ট ফুডে অভ্যস্ত মানুষকে অন্য রকম স্বাদের সন্ধান দিতে পারে তালের তৈরি অজস্র রকমের পিঠে। তা সে তালের তৈরি বড়া থেকে শুরু করে পাতা সেদ্ধ, চকলি, কাঁখরা, পাটিসাপটা এমনকি তালের পায়েসও। সাম্প্রতিক সময়ে তালের সিঙ্গাড়াও তৈরি করছেন কেউ কেউ।

উৎকল ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, এই তাল পিঠেকে কেন্দ্র করেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুরের উৎকল ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষ আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারেন। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও জিআই স্বীকৃতিকে সম্বল করে এই সম্প্রদায়ের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের এই কাজে লাগিয়ে তাঁদের স্বনির্ভর করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ে এক প্রকার হারিয়ে যাওয়ার আগে তাল পিঠেকেও টিকিয়ে রাখা সম্ভব। সরকারি উদ্যোগ আর পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই কাজ কখনোই সম্ভব নয় বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

সোমবার বাঁকুড়ার সিমলাপালে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে ‘তাল উৎসব’-এর সূচনা করেন বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সময়ে গ্রাম বাংলায় তাল গাছ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অতি মূল্যবান ও বহু গুণ সম্পন্ন এই গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে। সেই কারণেই ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে সিমলাপাল ব্লক কয়েক হাজার তালের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷’’

একই সঙ্গে এদিন তিনি অভিনব এই উৎসবের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘অনেক রকম উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। তবে আজকের এই উৎসবে যোগ দেওয়ার ঘটনা সারা জীবন মনে থাকবে।’’ লুপ্ত প্রায় এই পিঠে শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এই ধরণের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

আরও পড়ুন: খুঁটি পুজোর মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা

অভিনব ‘তাল উৎসব’ উপলক্ষে সিমলাপাল স্কুল মোড়ে অসংখ্য মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তাল পিঠের স্টল থেকে মানুষ লাইন দিয়ে এদিন পিঠে কিনেছেন। উদ্যোক্তা সিমলাপাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, উপস্থিত সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরাও খুশি এই ধরণের উদ্যোগে।

উদ্যোক্তাদের পক্ষে সমাজসেবী অনুপ পাত্র বলেন, ‘‘উৎকল ব্রাহ্মণ ও তালের পিঠে পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সেই ধারাবাহিকতা আজও বজায় আছে। কিন্তু বর্তমান আধুনিকতার যুগে আর ফাস্ট ফুডের দৌলতে এক প্রকার হারিয়ে যেতে বসেছে মা-কাকিমাদের হাতে তৈরি বিচিত্র স্বাদের এই তাল পিঠে। তাল গাছের সংখ্যাও ক্রমশ কমে আসছে। সেই কারণেই আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে তাল গাছ যেমন সংরক্ষণ জরুরী তেমনি তাল পিঠে তৈরির ধারাবাহিকতা রক্ষাও জরুরী।’’

----
-----