শ্রীরামপুর কলেজে দিনভর বিক্ষোভ বি.কম পড়ুয়াদের

স্টাফ রিপোর্টার, হুগলি: উপস্থিতির হার কম৷ তবুও পরীক্ষায় বসতে চায় পড়ুয়ারা৷ তবে পড়ুয়াদের এই দাবি মানতে একেবারেই নারাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ৷ আর সেই ঘটনার প্রতিবাদ করে এবার বিক্ষোভ দেখালো হুগলির শ্রীরামপুর কলেজের ছাত্রছাত্রীরা৷

বি.কম প্রথম বর্ষের ১৭৩ জন পড়ুয়ার উপস্থিতি কম ছিল৷ কিন্তু তারা পরীক্ষায় বসতে চায়৷ কলেজ কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়নি৷ এরই প্রতিবাদে সোমবার তৃণমূলের ছাত্র সংসদ থেকে অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা৷ শুধু তাই নয় প্রিন্সিপালকেও ঘেরাও করে রাখে ছাত্রছাত্রীরা৷ তবে আর পাঁচটা কলেজের মতো হুগলির শ্রীরামপুর কলেজ কেবল বিক্ষোভ করেই খান্ত ছিল না৷ অভিযোগ ওঠে, তারা ইলেকট্রিক কানেকশনও বন্ধ করে দেয় অধ্যক্ষের ঘরের৷

প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক ধরে বিক্ষোভ চলে৷ এই প্রসঙ্গে শ্রীরামপুর কলেজের অধ্যকের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের আচরণ আমি ভাবতেই পারছি না৷ এটা কোনও সভ্যতা নয়৷ এক কথায় এই আচরণকে বর্বরতা বলা হয়৷’’

পাল্টা কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি গোপাল নাগের বক্তব্য, ‘‘এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ রূপে ছাত্ররা করেছে৷ এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্কই নেই৷ তবে পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া উচিত৷ কেন পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হল না এ নিয়ে সংসদ থেকে আলাদা বৈঠক করবে৷’’

হুগলির শ্রীরামপুর কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত কলেজের তালিকার মধ্যে একেবারে শেষ পর্যায়৷ তাই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও পড়ুয়ার উপস্থিতি হার ৬০ শতাংশ থাকতেই হবে৷ যদি এর থেকে কম উপস্থিতি হার হয় সেক্ষেত্রে ওই পড়ুয়া পরীক্ষায় বসতে পারবে না৷ সেই নিয়ম মেনেই এই কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ কলেজে উপস্থিতি কম থাকায় বি.কম প্রথম বর্ষের পাশ ও অনার্সের মোট ২৪০ জন পড়ুয়াকে সেকেন্ড সেমিস্টারে বসার অনুমতি দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সোমবার ছিল কলেজে ফর্ম ফিলাপ। কিন্তু যাদের ৬০ শতাংশের তুলনায় কম উপস্থিতি হার তাদের কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, এই ঘটনার পরই প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে কলেজের তৃণমূল পরিচালিত ছাত্রসংসদ।

এ দিন সকাল থেকে কলেজের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ চালাতে থাকে পড়ুয়ারা। ছাত্র সংসদের দাবি, অনেক সময় অধ্যাপকরা ক্লাস না নেওয়ায় উপস্থিতি কম হয়েছে। যাদের উপস্থিতি কম রয়েছে তাদের সবাইকেই পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দিতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে কলেজের গেটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Advertisement
---
-----