তপ্ত দুপুরে তিলোত্তমার রোদছবি: মিতুল দাস

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে তীব্র দাবদাহ চলছে। শনিবার শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির আশেপাশে ছিল বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গরমে রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১।  তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষত যাদের বাইরে কাজে বেরোতে হয়। ট্যাক্সিচালকেরা ইতিমধ্যেই দুপুরে ট্যাক্সি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু আপনাকে তো কাজে বেরোতেই হবে। গরমের সময়টা সুস্থ থাকতে মেনে চলতে হবে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম-

গরম থেকে এসিতে নয়: যাঁরা বাইরের ঘোরাঘুরি করেন, অত্যধিক ঘামে শরীর থেকে জল ও নুন বেরিয়ে যাওয়ায় হিট স্ট্রোক বা সান স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত  ঘরে কাজ করতে করতে হঠাৎ বাইরে আসা বা বাইরের রোদ থেকে সটান ঠান্ডা ঘরে না ঢোকাই ভাল।

ছাতা ছাড়া বেরোবেন না রাস্তায়
ছাতা ছাড়া বেরোবেন না রাস্তায়
Advertisement

জল খান প্রচুর: প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লিটার জল অবশ্যই পান করতে হবে। ঘাম বেশি হলে সেক্ষেত্রে জলে খানিকটা লবণ মিশিয়ে পান করা যেতেই পারে। সবথেকে ভালো হয় ঠাণ্ডা জলে খানিকটা নুন-লেবু মিশিয়ে খেলে। তরমুজ জাতীয় রসালো ফলও এ সময় খাওয়া যেতে পারে।

চোখে থাকুক রোদচশমা: শহরের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই রোদ চশমা ব্যবহার করতে হবে। তাতে চোখে সরাসরি রোদের আঁচ লাগার ভয় কমে। তা না হলে অ্যালার্জি হতে পারে। প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় বেরোলে অনেকেরই চোখ জ্বালা করে। এই পরিস্থিতিতে চোখে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দিলে আরাম লাগবে।

 আরও পড়ুন-

শহরে জারি হতে চলেছে লুয়ের সতর্কতা!

শহরে বাড়বে অস্বস্তির পারদ

সানস্ক্রিন মাখতে ভুলবেন না: রোদ থেকে ত্বক বাঁচাতে ফুল হাতা জামা, মাথায় টুপি, ত্বকে সানস্ক্রিন লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। খেতে হবে টক দই, শসা। দিনে একাধিক বার স্নান করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার জন্য গরমকালে দুবার স্নান করা ভালো। দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বারবার সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তবে স্নানের সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহারে করা যেতে পারে।

বেশি করে স্যালাড খান: গরমের সময় স্যালাডের কোনও বিকল্প নেই। দই, শসা, টম্যাটো, গাজর, কাঁচা পেঁপে, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, পেঁয়াজ দিয়ে বানানো স্যালাড খাওয়া ভালো। অনেক সময় এর সঙ্গে পাকা পেয়ারা ও আপেল দিয়ে বাড়িতেই বানানো যায় ফ্রুট স্যালাড। তৈরি করে ফ্রিজে কিছুক্ষণ রেখে তারপরে খাওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে টকদই বা কাগজি লেবুও দেওয়া যেতে পারে। লেবুতে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম, যা দেহকে ঠান্ডা রাখে এবং ত্বক মৃসণ রাখে।

খান টক দই: অতিরিক্ত গরমে অনেক সময় হজমে সমস্যা হয়। তাই যতটা পারবেন তেল-ঝালমুক্ত সাধারণ খাবার, যেমন-ভাত, মাছ, ডাল খাওয়াই ভালো। লাঞ্চে অবশ্যই রাখুন টক দই। দুপুরের মেনুতে সুক্তো, পাঁচমিশালি সবজি, পাতলা ডাল, মাছের পাতলা ঝোল চলতে পারে।

একটু ব্যায়ামে ভালো থাকবেন অনেকটা: সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ঘন্টা খানেক ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা প্রাণায়াম সেরে নিতে হবে। এর পরে গ্রিন টি, সঙ্গে টোস্ট, বিস্কুট বা হালকা খাবার খেলে দিনভর শরীর থাকবে তরতাজা।

নুন-চিনির জল খান নিয়ম করে: কাজের জন্য যারা বেশিক্ষণ রাস্তায় থাকেন, তাদের খেয়াল করে ঘণ্টা খানেক অন্তর নুন-চিনির জল, ডাবের জল বা গ্লুকোজের জল খেতে হবে। খিদে পেলে মাঝে হাল্কা কিছু খেয়ে নেওয়াটাই ভাল। খালি পেটে থাকলে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

----
--