উমা-ঝুমাকে টপকে ভাইরাল ‘হলুদ বউদি’ বাংলার ক্রাশ

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: বাঙালির বউদি প্রীতি নিয়ে জাস্ট কোনও কথা হবে না। পাড়ায় নতুন বউদি এলেই মন ছোঁক ছোঁক করে এক পলক দেখার জন্য। তিনি সুন্দরী যদি হন, তাহলে প্রায়ই স্বপ্নে এসে জিনত আমনের ‘সমুন্দর মে নাহাকে’-র তালে নাচিয়ে চলে যান। শালিমার তেলের বিজ্ঞাপনী গানের সুরে ফিরে আসেন বারবার পাড়াতুতো ঠাকুরপোর অন্য এক দুপুরে।

এসব ভাবনার কথা বাদ। এমন কোনও বৌঠান যদি সত্যিই কোমরে লটক ঝটক মারেন। তাও ঠিক আপনার পাড়ার গলিতে। ভাবছেন তো তাহলে কী হবে? কী আর হবে। পতন নিশ্চিত। সে রকমই একটি ভিডিও এই মুহূর্তে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। দুই হলুদ রঙের শাড়ি পরা বউদির কোমরের দুলকি চালে লাট খাচ্ছে ফেসবুক। বউদিদের শরীরের এক এক অঙ্গের দুলকি চাল, দুই বাংলার এপার ওপার তোলপাড় ফেবু’র ‘বউদি-চোর’ ঠাকুরপোদের।

- Advertisement -

 

কী করছে হলুদ রঙা বৌদিরা? বউদিরা কখনও নাচছেন ৯০ এর দশকের বিখ্যাত ‘বিন্দিয়া চমকে, চুড়ি খনকে’র তালে কখনও সানি লিওনির ‘পানি ওয়ালা ড্যান্স’-এর তাঁদের শরীরে দিচ্ছে ‘দে দোল দোল’। সে হিল্লোলেই কুপোকাত বং ঠাকুরপোরা।

এবার প্রশ্ন হল ফেবু কী শুধু বংদের? শাড়ি পড়ে এমন ‘পানি ওয়ালা’ ড্যান্সের গুরুত্ব বাঙালিরাই জানে। কত দুপুর কেটে যাচ্ছে পাশের বালিশ কোলে নিয়ে। স্বপ্ন যদি বাস্তবে হয় তাহলে কাত হওয়া কোনও অস্বাভাবিক নয়। না হলে তা আরও বড় সমস্যার লক্ষণ।

যাক গে যাক। বউদিদের ‘নিটোল’ নৃত্য শৈলী দেখলেই বুঝতে পারবেন কোনও একটি বিয়ে বাড়িতে তারা নিজেদের মধ্যে নাচাকোঁদা করছিলেন। অনেকেই সেই ভিডিও করছিলেন। এঁদেরই কোনও একজন ভিডিওটি হয়তো ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছে।

ভিডিওর নিচে কমেন্ট বক্সেও হলুদ বউদি প্রেমীদের ভির। বেশিরভাগই জানতে চেয়েছেন বউদিদের নৃত্য প্রদর্শনের জায়গাটি কোথায়? একজন আবার উত্তেজনা সামলাতে না পেরে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে বউদিদের সঙ্গে ফোনে আলাপ জমাবার পরিকল্পনা করেছে। অনেকে আবার দুই বৌদির মধ্যে কাকে বেশি পছন্দ কাকে কাছে পেলে বেশি ‘সুখ’ মিলবে সে নির্লজ্জের মতো লিখে বসেছে। এমন হাতে গরম নৃত্য, তাও আবার এমন ওপেন প্লাটফর্মে। মঞ্চ ফাটিয়ে দিয়েছে।

সেকি নাচ! শাড়ির ভাঁজের চোর কাঁটা এসে আসতে আসতে বিঁধছে বুকে। শাড়ির পর্দা সরিয়ে মনের পর্দায় কাতুকুতু বুড়ো উঁকি দিতে বাধ্য। কী সব যেন হালকা হালকা দেখা যাচ্ছে। এ হিল্লোল কী ভাবে রোখা যায়? জানা নেই তো?

জানতে দেখুন ভিডিও। বউদিদের মোট খান পাঁচেক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এক একটি ভিডিও দু’লক্ষ মানুষ দেখে, ফেলেছেন। হাজার খানেক করে শেয়ার হচ্ছে। স্বার্থপর হবে না। বলবেন না যেন ‘এ স্বাদের ভাগ হবে না।’ নিজে পড়ুন, দেখুন। অপরকে দেখা পড়ার সুযোগ করে দিন প্রতিবেদন ও ভিডিও শেয়ার করে। তারপর ‘বাথরুম টাকি তোর বাবার’ বলে ঝাঁপ দিন বউদি প্রেমের অপার সাগরে। শান্তি…শান্তি৷

Advertisement
----
-----