‘ভারতের চেয়ে অন্যান্য দেশে ভাল অবস্থায় রয়েছে গরুরা’

পানাজি: জেনেশুনেই আত্মঘাতী গোল করলেন গোয়ার বিজেপি বিধায়ক৷ তাঁর দাবি ভারতের তুলনায় অন্যান্য গোমাংস ভক্ষণকারী দেশে গরুরা বেশি সুরক্ষিত৷ বিজেপি বিধায়ক মাইকেল লোবো বলেন এটা রাজ্যের ব্যর্থতা যে গরুদের তারা সুরক্ষা দিতে পারছে না৷

আরও পড়ুন- দিলীপকে গরুদান করতে চান মমতা

কালানগুটের এই বিধায়ক এদিন বিধানসভায় বোমা ফাটান৷ তাঁর মতে দেশে ও তাঁর রাজ্যে গরুদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়না৷ আইনসম্মতভাবে হওয়া গরু ব্যাবসা শুধু কিছু ধর্মান্ধদের জন্য মার খাচ্ছে৷ এটা রাজ্যের দায়৷

- Advertisement -

তিনি এদিন আরও বলেন ভারত ছাড়াও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে গোমাংস খাওয়া হয়৷ বিভিন্ন সম্প্রদায় এই গোমাংস খেয়ে থাকেন৷ হিন্দুত্বের ধুনো তুলে তাদের কথা ভাবা হচ্ছে না৷ তাই গোয়াতে আইনসম্মত গরু ব্যবসাও লাটে উঠতে চলেছে৷

আরও পড়ুন- মহিলার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ায় ইমামের নামে FIR

তাঁর অভিযোগ গোরক্ষকদের তাণ্ডবে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে৷ গোয়ায় পর্যটকরা আসেন৷ তারা অনেকেই গোমাংস খেতে চান৷ এতে ধাক্কা খাচ্ছে পর্যটনও৷ কিন্তু গোক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ প্রশাসন৷ তাই ক্রমশ বেহাল হচ্ছে গরুদের রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি৷

এরআগে, বুধবার একই সুরে কথা বলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রতাপসিং রানে৷ তিনি সেদিন বলেন গরুদের দেখভাল করার নামে প্রহসন চলছে৷ তারা রাস্তার খাবার খেতে বাধ্য হয়, আশ্রয়হীন ভাবে ঘুরে বেড়ায়৷ এগুলো বন্ধ করতে হবে৷

আরও পড়ুন- বাবরকে গোরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন হুমায়ুন, দাবি বিজেপি নেতার

এদিন মাইকেল লোবো বলেন কর্ণাটক গোয়া সীমান্তে নজরদারি চলছে গো-রক্ষকদের৷ তাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গোমাংসের আমদানি রপ্তানি৷ গোরক্ষকরা রাজ্যে গোমাংস ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর৷ শোনা যাচ্ছে যেসব গোমাংস আগে থেকে মজুত রয়েছে তাতে ফিনাইল ঢেলে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে৷

তিনি এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন গোয়া মিট কমপ্লেক্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ গোটা রাজ্য জুড়ে গো মাংসের চাহিদা বাড়ছে৷ হিন্দু ছাড়াও রাজ্যে অন্যান্য সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের খাদ্য গো মাংস৷ তাদের কথা কেন ভাবা হচ্ছে না? এদিন প্রশ্ন তোলেন বিধায়ক৷

এদিন তিনি একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন গোয়াতে প্রতিদিন ২০ টন গো মাংস প্রয়োজন হয়৷ এর মধ্যে ২৬ শতাংশ গোমাংস খান খ্রিস্টানরা ও ১১ শতাংশ যায় মুসলিম খাতে৷ প্রসঙ্গত, জানুয়ারি থেকে গরু আমদানি রপ্তানিতে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে৷ এই নিয়ে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভও দেখিয়েছেন গো-পালকরা৷

গরু পাচারকারী সন্দেহে বেশ কয়েকটি গণপিটুনির ঘটনাও ঘটেছে গোয়াতে৷ তাতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকর৷

Advertisement ---
---
-----