স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: চূড়ান্ত উদাসীনতার নজির গড়ল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ দেখভালের অভাবে বিএ প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের পরীক্ষায় খাতা পুরোপুরি নষ্ট হল উইপোকার দাপটে৷ জানা গিয়েছে, অন্তত দু’হাজার খাতার বান্ডিল নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ যার মধ্যে ১৫০টি খাতার অস্তিত্ব মাটি হয়ে গিয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর৷ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক বিভাগের চূড়ান্ত অবহেলা ও উদাসীনতার জেরে প্রশ্নের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজের স্নাতক-স্তরের প্রথম বর্ষের বহু পড়ুয়ার ভবিষৎ৷

বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ খবর মিলেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এপি বিভাগে জমা থাকা পরীক্ষার খাতার মধ্যে প্রায় ২০০০ খাতা উইপোকায় নষ্ট করেছে। যার মধ্যে প্রায় ১৫০ খাতার প্রায় সিংহভাগই নষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা নজরে আসার পরই শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে৷

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, গোটা বিষয়টিকে ধামা চাপা দেবার জন্য গঠিত হয়েছে একটি ইন্টারনাল কমিটিও৷ এমনকি এব্যাপারে বাইরে কোনও ঘটনা প্রকাশিত হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঘাড়েই বর্তাবে বলে প্রচ্ছন্ন ভয়ও দেখানো হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও, খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিমাই সাহা জানান, এব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই। এমনকি পরীক্ষা নিয়ামক দফতর সূত্রেও তাঁকে কিছু জানানো হয়নি৷

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মে-জুন মাস নাগাদ স্নাতক স্তরের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা হয়েছে। সেই পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। নিয়মানুযায়ী এই ধরণের পরীক্ষার সমস্ত খাতাপত্রই এপি বিভাগে জমা থাকে। সূত্রের খবর, নিয়মমাফিক এই এপি বিভাগ তথা উত্তরপত্র ও প্রকাশনা বিভাগ (এ্যানসার সিট এণ্ড পাবলিকেশন ডিপার্টমেন্ট) সহ বেশ কিছু দফতরে বহিরাগত এজেন্সির মাধ্যমে প্রতি মাসে উইপোকা নিধনের জন্য স্প্রে করা হয়। কিন্তু গত তিন মাস সংশ্লিষ্ট সংস্থার টাকা বাকি থাকায় তারা আর স্প্রে করেনি। আর স্প্রের অভাবেই রীতিমত জাঁকিয়ে বসেছে উইয়ের সাম্রাজ্য।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সবথেকে বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কলা বিভাগের একটি বিষয়ের। ওই বিষয়ের বেশ কিছু খাতা একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এদিকে, এই ঘটনা নজরে আসার পরই এসএফআইও সরব হয়েছে। এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটির সদস্য বিনোদ ঘোষ জানিয়েছেন, এই ঘটনার কথা তারাও জেনেছেন।

তিনি জানান, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা পরিচালন সমিতি এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরপত্র ও প্রকাশনা বিভাগের সম্পূর্ণ উদাসীনতার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাদের ব্যর্থতার জেরেই আজ বহু পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ প্রশ্ন চিহ্নের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কারণ এখনও গ্রাজুয়েটের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ওই উত্তরপত্রের গুরুত্ব অসীম।

এমতাবস্থায় কার অবহেলায় এই ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে এসএফআই। পাশাপাশি তিনি জানান, বর্তমান সময়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু উন্নয়ন খাতে অর্থ খরচ হচ্ছে। সেখানে উইপোকা নিধনের ক্ষেত্রে কেন কার্পণ্য করা হল তাও রীতিমত রহস্যের। তিনি জানান, এব্যাপারে এসএফআই আন্দোলনে নামতে চলেছে।

----
--