মমতা-যোগীর রাজ্যে ‘কচ্ছপ যোগ’, গ্রেফতার গাড়িসহ পাচারাকারি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পাচারের আগেই পুলিশের জালে বস্তাবন্দি কচ্ছপ সহ পাচারকারীরা৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার একটি গাড়ির পিছনে ধাওয়া করে পশ্চিমবঙ্গ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো। মাঝ রাস্তায় গাড়িটিকে আটক করে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৫০১টি কচ্ছপ। ধরা পড়েছে দুই পাচারকারীও।

ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো এবং বর্ধমান বন দফতরের শাখার কাছে আগেই কচ্ছপ পাচারের খবর এসেছিল। সেই মতোই উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা মারুতি সুইফটটিকে নজর রাখা হয়েছিল প্রথম থেকেই। এরপর বর্ধমানের পুরসলের কাছে গাড়িটি আসতেই গাড়িটিকে আটক করা হয়। গাড়ি থেকে একের পর এক কচ্ছপের খোলস বের হতে থাকে। জীবিত ও মৃত মিলিয়ে ৫০১টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়ু।

এইসব কচ্ছপই বিভিন্ন দোকানে বা রেস্তোরাঁয় চলে যেত মাংস হিসাবে। কচ্ছপের খোলটিও বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য পাচারের চেষ্টা করেছিল দুই পাচারকারী। কিন্তু ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো এবং বর্ধমান বন দফতরের শাখার তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যায়। এই কচ্ছপগুলি ফ্ল্যাপসেল এবং সফটসেল প্রজাতির কচ্ছপ বলেই জানাচ্ছে বনদফতর।

- Advertisement -

ধৃত অলঙ্কর রায় এবং পরিতোষ রায়। এরা পশ্চিমবঙ্গেরই বাসিন্দা, এরা উত্তরপ্রদেশে থেকে এগুলি এই রাজ্যে এনেছিল। এদেরকে গ্রেফতারের পর তাদের বন দফতরের হাতে হস্তান্তর করে সিআইডি৷ এর পিছনে আরও কোনও দলের হাত রয়েছে কিনা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে তা জানার চেষ্টা চলছে৷

১৬ জানুয়ারি অর্থাৎ এক সপ্তাহ আগেই এই একই প্রজাতির কচ্ছপ পাচারের চেষ্টা করেছিল চার দুষ্কৃতি। এরাও ধরা পরে গিয়েছিল। পুলিশের জালে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার খড়গপুর রেলস্টেশনে হানা দেয় সিআইডির গোয়েন্দারা৷ উদ্ধার হয় ২২ বস্তা বোঝাই কচ্ছপ৷ ওই পাচারকারিরা আবার উত্তরপ্রদেশের ছিল। ২২ জামুয়ারি মঙ্গলবারে বারাসত থেকেও উদ্ধার হয় এই ধরনেরই কচ্ছপ।সবমিলিয়ে উত্তরপ্রদেশ এবমগ পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে কচ্ছপ পাচারের একটা বড় গ্যাং তৈরি হয়েছে তা স্পষ্ট। সেটাই খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে বন দফতর।