ব্রিজ ভেঙে বেহাল বেহালার পুজো! মাথায় হাত উদ্যোক্তাদের

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ব্রিজ ভেঙে বেহাল অবস্থা হতে পারে বেহালার প্রত্যেকটি পুজোর অবস্থা। পুজোর আর দিন চল্লিশেক বাকি। তার আগেই ভেঙে পড়েছে বেহালার মূল সংযোগ মাঝেরহাট ব্রিজ। এর জেরেই মাথায় হাত পড়েছে বেহালা ছোট থেকে বড় সমস্ত পুজো কমিটির কর্তা এবং সক্রিয় সদস্যদের।

এমনিতেই বেহালার রাস্তার বেহাল দশার ছবি বারবারই খবরের মাধ্যমে সামনে আসে। বর্ষা এলে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়। মেট্রো শুরু হওয়ার পর থেকে বেহালার রাস্তা আবার সরু হয়ে গিয়েছে। সেই কাজ কখনও বন্ধ হয়, আবার চালু হয়। মানুষের প্রানন্তকর অবস্থা হয় প্রতিদিন যাতায়াত করতে। দক্ষিণ বা উত্তর কলকাতার অনেকেরই বেহালার নাম শুনলেই কপালে ভাঁজ পড়ে যায়।

তবু কলকাতার হুজুগে আম জনতার বেহালার মণ্ডপে ভিড় জমাতে দ্বিধা বোধ করেনা। উত্তর দক্ষিণের পুজো গুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভিড় টানে বেহালার পুজোগুলি। কখনও প্রতিমা, কখনও থিম কখনওবা লোহার প্যান্ডেল। চমকের শেষ নেই বেহালার প্রত্যেকটি পুজোয়। বিকাল ৪.২০ মিনিট হুরমুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মাঝেরহাট ব্রিজ। এর পর থেকেই মাথায় হাত বেহালার পুজো কমিটিগুলির।

- Advertisement -

তুলনামূলক ছোট পুজোগুলির মাথায় ঘুরছে স্পন্সরের চিন্তা। এসবি পার্ক, বা বেহালা নতুন দলের মতো বড় পুজোগুলির সেই সমস্যা নেই। স্পন্সর অনেক আগেই চলে আসে। কিন্তু এদের মাথায় ঘুরছে দর্শনার্থীদের কথা। তাদের আশঙ্কা যোগাযোগের সমস্যার জেরে বেহালাবিমুখ হতেই পারে দর্শনার্থীরা।

বেহালা ঠাকুরপুকুরের সবথেকে বড় পুজো এসবি পার্ক সার্বজনীন। বলতে গেলে বেহালার প্রায় শেষ প্রান্তের পুজো। খুব কম দিনেই সেরা পুজোগুলির তালিকায় চলে এসেছে এই বারোয়ারি পুজো। পুজো কমিটির সম্পাদক অমিত ঘোষ বলেন, “প্রথম সমস্যা হবে দর্শনার্থীদের জন্য। অনেকে জ্যাম জঞ্জাট এড়াতে বেহালা নাও আসতে পারে। সবার আগে উত্তর কলকাতা থেকে আসা দর্শনার্থীরা এই ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার জন্য এদিকে নাও আসতে পারে।” লোক কম এলে অনেক ক্ষেত্রেই স্পনসর পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বেহালা নস্কর পুকুর লেনের পুজোর কর্তা প্রতীক বলেন, “জ্যাম এড়াতে চাইবে মানুষ। হাই চান্স আছে আমাদের পুজো মার খাওয়ার। আমাদের খুব বিশাল বাজেটের পুজো নয় সেক্ষেত্রে ভিড় কম হলে স্পপনসরে টান পড়তে পারে।”

বেহালা দেবদারু ফটকের কর্তা অরিজিৎ বলেন, “অনেকটা ঘুরে আসতে হবে বেহালার পুজো দেখতে। হাজার বৃষ্টি হলেও আমাদের কোনওদিন ভিড় টানতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু সোজা রাস্তা ঘুরপথে আসতে গেলে সমস্যা হতে পারে। পুজোর সময় ঝামেলা পোহাতে না চাইতেও পারে দর্শনার্থীরা। সেটাই সমস্যা করতে পারে।” বেহালা ফ্রেন্ডস থেকে বেহালা ২৯ পল্লী প্রত্যেক পুজো কমিটির চিন্তা একইরকম। বিকল্প নেই, অনেকে তাকিয়ে সরকারের তৎপরতার দিকেও। আশা বেহালাকে আলাদা করে দেবে না জনতা।

Advertisement
---