‘সমকামিতা হিন্দুত্ব বিরোধী, এই রোগ নিরাময়ে চিকিৎসার প্রয়োজন’

নয়াদিল্লি: ফের একবার নিজের মন্তব্যে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। মঙ্গলবার তিনি জানান, সমকামিতা কোনও স্বাভাবিক বিষয় নয়৷ এই সমকামিতা হিন্দুত্ববিরোধী৷ এবং এই সমস্যা দূর করতে চিকিৎসার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি৷

এক সংবাদ সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এই সমকামিতা স্বাভাবিক বিষয় নয়৷ তাই এক সেলিব্রেট করা উচিত নয়৷ এটা হিন্দুত্ব বিরোধী৷ এর চিকিৎসা প্রয়োজন আর তার জন্য মেডিক্যাল রিসার্চে আরও বিনিয়োগ করা প্রয়োজন৷

পড়ুন: শ্বশুরের পর দেওরের সঙ্গে নিকাহ হালালায় স্ত্রীকে চাপ স্বামীর

প্রসঙ্গত, সমকামিতা নিয়ে সংবিধানের ৩৭৭ ধারা পুনর্বহাল থাকবে কিনা তা নিয়ে ফের শুনানি সুপ্রিম কোর্টে৷ এই মামলার শুনানি স্থগিত রাখতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ কিন্তু সোমবার সেই দাবি খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত৷ যার ফলে মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে আর কোন বাধা রইল না৷

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমকামিতাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে৷ ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ধারা বাতিলের দাবি তুলে শুরু এলজিবিটি সম্প্রদায়ের আন্দোলন৷ ২০০৯ সালে সমকামিতা আন্দোলন জোর ধাক্কা খায় যখন দিল্লি আদালত একে অপরাধ বলে ঘোষণা করে৷ তারপরও থেমে যায়নি এলজিবিটি আন্দোলন৷ সেই রায় পুর্নবিবেচনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ে পিটিশন৷ কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখে৷ অর্থাৎ ৩৭৭ ধারা বলে কোনও ব্যক্তির দশ বছর থেকে সারাজীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে৷

পড়ুন: ‘ধর্ষকদের নপুংশক করার আইন তৈরি হোক’

সাল ২০১৭৷ ওই বছর গোপনীয়তাকে মৌলক অধিকারের স্বীকৃতি ঘোষণার পর সমকামিতা আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়৷ শুরু হয় নতুন করে পিটিশন জমা দেওয়া৷ যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচারপতিকে নিয়ে সাংবিধানিক গঠন করা হয়৷ মঙ্গলবার সংবিধানের ৩৭৭ ধারার বৈধতা নিয়ে হবে শুনানি৷ প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ছাড়াও এই সাংবিধানিক বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি আর এফ নরিম্যান, বিচারপতি এ এম খানউইলকর, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা৷