মুখ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে গেস্ট হাউস অধিগ্রহণ বিতর্কে মমতার মন্ত্রী

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ জোর করে বেনফিস কো-অপারেটিভের গেস্ট হাউস অধিগ্রহণের অভিযোগ উঠছে যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ গত এক বছর ধরে তিনি এক প্রকার তাঁর ক্ষমতার প্রয়োগ করে তিনি এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কো-অপারেটিভের কর্মীদের দাবি, সরকার এমন ভাবে জোর খাটিয়ে গেস্ট হাউস নিয়ে নেওয়ার অর্থ তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া। মন্ত্রীর দফতরে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর ৫ জুন ২০১৭। অভিযোগ, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস একটি চিঠি লিখে বেনফিসের পুরীর ‘ঢেউ’ গেস্ট হাউসটিকে অধিগ্রহণের কথা জানান মৎস্য দফতরকে। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলা হয় তিনিই ঢেউ-এর উন্নয়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর দায়িত্ব তিনি দিয়েছেন যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরকে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ মেনে যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতর দফতর চাইছে ঢেউ অধিগ্রহণের। এখানেই আপত্তি কো-অপারেটিভের কর্মীদের সিংহভাগের। তাঁদের দাবি, কো-অপারেটিভের কোনও সম্পত্তিই সরকার নিতে পারে না। অভিযোগ, সেখানে কার্যত জোর করে গেস্ট হাউসটিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

অভিযোগ, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে এই কাজ করছেন। তাঁদের অনুমান আদতে মুখ্যমন্ত্রী হয়তো বিষয়টা জানেনই না। কিন্তু তাঁর চোখের আড়ালে চলছে বে-আইনি কাজ।

বেনফিস কো-অপারেটিভের এক কর্মী বলেন, “আমাদের ওই গেস্ট হাউসের জমি নিজস্ব, আমাদের আলাদা মিউটেশন রয়েছে। একটা চিঠিতে দিয়ে কি করে গেস্ট হাউস অন্য হাতে চলে যায়?”৷ একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই গেস্ট হাউস থেকে কো-অপারেটিভের প্রচুর আয় হয়। আসলে এই গেস্ট হাউসের আয়ের উপরে আমাদের বেতন নির্ভর করে। সেটা যদি এভাবে নিয়ে নেওয়া হয় তাহলে আমাদের চলবে কিভাবে?”৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মী বলেন, “আজ একটা নিয়ে নিচ্ছে। কাল আমাদের বাকি গেস্ট হাউসগুলিও এইভাবে জোর খাটিয়ে, মিথ্যা কথা বলে নিয়ে নেয় তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে একবার ভাবছেও না।” অপর এক কর্মীর দাবি, “আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না করে মৎস্য দফতরের মন্ত্রীও বিষয়টায় সায় দিয়েছেন। তাঁকে অনেক চিঠি দিয়েছি কোনও কাজ হয়নি।”

বেনফিস সূত্রে খবর বছর দেড়েক আগেই ঢেউ গেস্ট হাউসটিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কর্মীদের দাবি, যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে ঢেউ। তাকে নতুন করে উন্নত করবার কিছু নেই। তাই বিশেষভাবে সরকার যে উদ্যোগী হয়েছে ঢেউ উন্নয়নের তা আদতে অযাচিত বলেই জানাচ্ছে কর্মীদের একাংশ।

অভিযোগের মূল তীর যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকে। তাঁকে এই প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য এক মাস ধরে ক্রমাগত ফোন এবং এসএমএসের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও এই প্রসঙ্গ নিয়ে কোনও উত্তর মেলেনি। একবার সহকারিকে দিয়ে ফোন ধরিয়ে বলেন এই বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন। কিন্তু এরপরে কোনওভাবেই তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগও করা যায়নি।

এই প্রসঙ্গে মৎস্য দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই ঢেউ গেস্ট হাউস হস্তান্তরের কাজ হয়েছে। গত বছরেই ঢেউ হস্তান্তরের কাজ পাকা হয়ে গিয়েছে। কিছু আরও কাজ বাকি রয়েছে। সেটা হয়ে গেলেই পাকাপাকিভাবে গেস্ট হাউস সরকারের হয়ে যাবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “যা হয়েছে সমস্ত কিছুই আইন মেনেই হয়েছে। এসব ভুল ধারণা যে বে-আইনি ভাবে দখলের চেষ্টা চলছে।”

চন্দ্রনাথবাবু ঢেউ উন্নয়নের প্রসঙ্গে বলেন, “দেড় বছর অনেক সময়। তাছাড়া মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর যখন অধিগ্রহণের কথা মনে হয়েছে, এর অর্থ আরও ভালো কিছুর চিন্তাভাবনাই করেছেন উনি। সেক্ষেত্রে যেটা হবে ভালোই হবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মনে করি না কারোর এতে এতটা শঙ্কিত হয়ে পরার মতো কিছু হয়েছে বলে। যা হচ্ছে তা ভালোর জন্যই হচ্ছে।”

ঢেউয়ে বর্তমানে ২৫ জন কর্মী রয়েছেন। গেস্ট হাউসের ২৯ টি ঘরের এবং হাউসের সমস্ত কিছু দেখভালের দায়িত্বভার রয়েছে এঁদের উপরেই। বেনফিস কো-অপারেটিভ সূত্রে খবর ২০১৪ থেকে ২০১৭ অবধি ঢেউ-এর বার্ষিক লভ্যাংশ যথাক্রমে ৩০.১৫ লক্ষ টাকা, ২২.৯৮ লক্ষ টাকা, ২১.৯১ লক্ষ টাকা।

সরকারী অধিগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক চলবে৷ এখন সরকারী হাতে পরায়, বেনফিসের ‘ঢেউ’ এর কর্মীদের আরও উন্নতি হয়, না তারা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই ভেসে যায় সেটাই এখন দেখার৷

Advertisement ---
---
-----