রাহুলের রাফায়েল বিরোধী আন্দোলনেই ধন্দে বাংলার কংগ্রেস

দেবযানী সরকার, কলকাতা:  রাফায়েল খায় না মাথায় দেয়, তাই জানেন না দলীয় বহুকর্মী৷ ফলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাফায়েল যুদ্ধ বিমান কেনায় দুর্নীতির যে অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধী সেটা বোঝাতেই কালঘাম ছুটছে বাংলার কংগ্রেস নেতাদের৷ পরিস্থিতি এমনই যে, রাফায়েল বিরোধী আন্দোলন শুরু করতে গিয়ে বেশ খানিকটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন প্রদেশ নেতৃত্ব৷ অবশ্য তাদের এখনকার কাছের বন্ধু সিপিএম একবার পরমাণু ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দলীয় বিপদ ডেকে এনেছিল৷ সেই সব মাথায় রেখেই বুঝেশুনে পা ফেলতে চাইছেন কংগ্রেস নেতারা৷

‘রাফায়েল ডিল’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিপাকে ফেলতে উঠেপড়ে লেগেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশ জুড়ে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াতে চান তিনি। এআইসিসির নির্দেশে শুক্রবার থেকে বাংলাতেও রাফায়েল নিয়ে মাঠে নামছেন কংগ্রেস নেতারা। টানা এক সপ্তাহ রাজ্য জুড়ে চলবে আন্দোলন৷ তবে আন্দোলনের ধরণ নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে মতানৈত্য দেখা দিয়েছে৷

প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, যেহেতু রাফায়েল বিমান কেলেঙ্কারি সম্পর্কে দলের অনেক নেতা-কর্মীই ওয়াকিবহাল নন তাই রাহুল গান্ধী যেভাবে আন্দোলন চাইছেন সেটা কতটা সফল হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে৷ অথচ লোকসভা নির্বাচনের আগে রাফায়েল আন্দোলনে আমাদের দলের সফল হওয়া উচিত৷ কিন্তু কর্মীদের অজ্ঞতা, ঢিলেঢালা পরিকল্পনা ও টিম কো-অর্ডিনেশন না থাকলে এক্ষেত্রে বাধা হতে পারে৷

রাফায়েল যুদ্ধ বিমান কেনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এরাজ্যে আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে দলের তিন নেতা অসিত মিত্র, মিল্টন রশিদ ও শঙ্কর মালাকারকে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে এআইসিসি৷ কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একটা বড় অংশে আন্দোলন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধায়ক অসিত মিত্রকে৷ মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও বীরভূমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধায়ক মিল্টন রসিদকে৷ আর শঙ্কর মালাকারকে গোটা উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷

রাফায়েল ইস্যুতে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস শুক্রবার পার্ক স্ট্রিট-এ প্রতিবাদ মিছিল করেছে৷ তারপর ডিসি সাউথের-এক অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছে৷ কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলেন জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ, বিধায়ক অসিত মিত্র ও এআইসিসি- নেতা শরদ রাউত(পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা)৷ শঙ্কর মালাকারের নেতৃত্বেও বালুরঘাটে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়৷ শঙ্করবাবু বলেন, আমরা জেলাশাসকের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছতে দিতে চাই৷

মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও বীরভূমেও কংগ্রেস বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ এই চার জেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মিল্টন রশিদ বলেন, রাফায়েল কি সেটা সাধারণ মানুষ বোঝে না, এমনকি দলের অনেক নেতা-কর্মীর কাছেই ব্যাপারটা স্পষ্ট নয়৷ তাই আন্দোলন করতে নামার আগে আমাদের দলের সবাইকে ভালো করে বুঝতে হবে৷ তবেই আমরা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পারব৷ এআইসিসির নেতা (পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা) মহঃ জাভেদের আমাদের চার জেলায় জেলার সমস্ত শাখা সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবেন৷ তারপর আন্দোলনে নামব৷আমরা কোথাও স্মারকলিপি দেব না৷ রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি মেল করব৷

এদিকে, বৃহস্পতিবার প্রদেশ কংগ্রেস এর অন্যতম অভিভাবক সোমেন মিত্র স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন- বিজেপি তাদের প্রধান নিশানা হলেও তৃনমূলকেও তারা কোনোভাবেই ছাড়বে না। তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন রাফায়েল নিয়ে সরব হচ্ছেন না সেই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। অনিল আম্বানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্যই কি মমতা চুপ, ঘুরিয়ে সেই প্রশ্নও তুলেছেন সোমেন মিত্র৷

Advertisement
---
-----