ঘরে ফিরলেন সোনার মেয়ে স্বপ্না

কলকাতা: ঘরে পা রাখলেন বাংলার সোনার মেয়ে স্বপ্না বর্মন। এশিয়াডের মত মঞ্চে হেপ্টাথলনে ভারতের ঝুলিতে এতদিন স্বর্ণপদক ছিল অধরা। জলপাইগুড়ির স্বপ্নার হাত ধরেই মিটেছে সেই দীর্ঘ খরা। দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে স্বপ্নার এই সোনা জয় দেশের তরুণ প্রজন্মের অ্যাথলিটদের উজ্জীবিত করবে। সোনার পদক গলায় ঝুলিয়েই শুক্রবার ঘরে ফিরলেন স্বপ্না। কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট অজিত বন্দোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: রাতারাতি ভোলবদল স্বপ্নার গ্রামের

ঘরের মেয়ের সোনার জয়ের পর রাতারাতি ভোলবদল হয়েছে স্বপ্নার গ্রামের। জাকার্তা থেকে দিল্লি হয়ে ঘরে ফিরবে স্বপ্না। তাই সোনার মেয়ে ঘরের ফেরার আগেই গ্রামকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলতে তৎপর ছিল প্রশাসন। সেইমত রাস্তা পাকা হয়েছে, স্বপ্নার বাড়িতে জলের কল বসেছে তড়িঘড়ি। এমনকি নিরাপত্তার প্রশ্নেও এতটুকু ফাঁক রাখতে রাজি নয় প্রশাসন। তাই স্বপ্নার বাড়ির সামনে প্রশাসনের উদ্যোগে মোতায়েন করা হয়েছে সিভিক ভলেন্টিয়ারও। তবু স্বপ্নার ঘরের ফেরার অপেক্ষাতেই যেন প্রহর গুনছিল ঘোষপাড়া গ্রাম। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। জাকার্তা থেকে রাজধানী হয়ে স্বপ্না পা রাখলেন ঘরে।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে গেল স্বপ্নার গ্রামে

এশিয়াডে বিশ্বের তাবড় তাবড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে হেপ্টাথলনে সোনা জিতে নিয়েছেন জলপাইগুড়ির স্বপ্না। এর আগে রুপো বা ব্রোঞ্জ এলেও স্বপ্নার হাত ধরেই হেপ্টাথলনে প্রথম সোনা এসেছে ভারতের ঝুলিতে। স্বভাবতই স্বপ্নার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত দেশের ক্রীড়ামন্ত্রক। স্বপ্নাকে ৩০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে। পছন্দমত কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। আগামীতে স্বপ্নার প্রশিক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে স্বপ্নার গ্রামে গিয়ে আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী আলুওয়ালিয়া।

আরও পড়ুন: স্বপ্নার সাফল্যে সোনালি আলোয় ভাসছে জলপাইগুড়ি

পিছিয়ে নেই রাজ্য সরকারও। ঘরের মেয়েকে চাকরির পাশাপাশি ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যদিও রাজ্যের তরফ থেকে স্বপ্নার জন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ দেখে ভ্রূ কুঁচকেছিলেন অনেকেই। এত বড় সাফল্যের পর ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণায় খুশি হতে পারেননি বিজেন্দ্র সিং, ভিনেশ ফোগতরা।

আরও পড়ুন: এতদিনে জাতিগত শংসাপত্র হাতে পাবে স্বপ্না বর্মনের পরিবার

যাইহোক, এশিয়াদে সোনা জয় বদলে দিয়েছে অনেককিছুই। এখানেই থেমে না থেকে লড়াই শুরু এবার অলিম্পিকের জন্য। দিল্লিতে পদকজয়ীদের সঙ্গে দেখা করে খানিকটা এমন মন্ত্রেই আথলিটদের উজ্জীবিত করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠোর। তাই ঘরে ফিরে আপাতত কিছুটা সাফল্যের জোয়ারে গা ভাসানো, কিন্তু স্বপ্নার পাখির চোখ হয়তো অলিম্পিকেই।

Advertisement
---