বেড়ে চলা জিহাদি কার্যকলাপই, অক্সিজেন দিচ্ছে গেরুয়া শিবিরে!

কলকাতা: উত্তরপ্রদেশ ভোটে বিপুল জয়ের পরে পশ্চিমবঙ্গই যে বিজেপির পরবর্তী টার্গেট এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ তবে শুধু বিজেপি নয়, সংঘেরও পরবর্তী লক্ষ্য এরাজ্য৷ পশ্চিমবঙ্গে বেড়ে চলা জিহাদি কার্যকলাপ রুখতে “Growing jihadi activities in West Bengal is a security concern for the country” নামক একটি সংকল্পও পাশ হয়েছে কোয়েম্বাটোরে সংঘের বৈঠকে৷ সেখানে বলা হয়েছে ১৮৫১ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে আট শতাংশ হ্রাস পেয়েছে হিন্দু জনসংখ্যা৷ ১৯৫১-এ পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৭৮.৪৫ শতাংশ৷ বর্তমানে যা কমে হয়েছে ৭০.৫৪ শতাংশ৷ ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে রাজ্যে জিহাদিদের দ্বারা খুন হয়েছেন ছ’জন৷ যাদের মধ্যে গত বছর নদীয়ার জুরানপুরে খুন হয়েছেন তিন জন৷

রাজ্যে জিহাদি কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার জন্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের দক্ষিণবঙ্গের সম্পাদক জিষ্ণু বসু৷ তিনি জানিয়েছেন যে, শাসক দলের মদতেই রাজ্যে বেড়ে চলেছে জিহাদি কার্যকলাপ৷ জানা গিয়েছে, পাশ হওয়া সংকল্পে উল্লেখ রয়েছে গত বছর মালদহের কালিয়াচকে পুলিশ পিটিয়ে থানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা৷ সেই বিষয়টি উল্লেখ করে জিষ্ণু বসু বলেছেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কালিয়াচক৷ তাঁর প্রশ্ন, যদি এমন ঘটতে পারে তবে কেমন ভাবে বলা যায় যে দেশ নিরাপদ?

বর্তমানে রাজ্যে প্রায় এক লাখ সদস্য রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের৷ ২০১১ সালের থেকে সংখ্যাটা বেড়ে গিয়েছে দ্বিগুণ৷ বর্তমানে এ রাজ্য থেকে মাত্র দু’জন বিজেপি সাংসদ রয়েছেন লোকসভায়৷ তবে উত্তরপ্রদেশ ভোটে বিপুল জয় যে বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে এ কথা অস্বীকার করা যাবে না৷ এখন দেখার সেই অক্সিজেনের উপর নির্ভর করে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের দম বাড়াতে পারে কিনা গেরুয়া শিবির৷