ভোট প্রচারে ফাঁকে কলকাতা 24x7 এর সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী দেবিকা মুখোপাধ্যায়৷ ছবি-মিতুল দাস

বাংলা সিনেমার ‘ছোট বৌ’ এবার পুরভোটের প্রার্থী৷ ১০৯ ওয়ার্ডে বিজেপির হয়ে লড়ছেন দেবিকা মুখোপাধ্যায় ৷প্রচারে বেড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি বাসিন্দাদের আবদারে শোনাচ্ছেন ছোট বৌ-এর ডায়লগ ও৷ দেবিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বললেন কলকাতা ২৪x৭-এর প্রতিনিধি দেবযানী সরকার

প্রশ্ন: আপনি তো অভিনয় জগতের মানুষ৷কোনও দিনই সক্রিয় রাজনীতি করেননি৷তাহলে হঠাৎ করে একেবারে সরাসরি ভোটে দাঁড়ালেন কেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: সত্যিই আমি রাজনীতির কিছু বুঝি না৷তবে আমি রাজনীতিতে এসেছি  কারন যেভাবে দিনের পর দিন ধর্ষন বাড়ছে সেটা আমাকে নাড়া দিয়েছে৷দোষীদের শাস্তি হচ্ছে না৷আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই৷ কিছু কাজ করতে চাই৷তার জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার৷তাই বিজেপি যখন এই প্রস্তাবটা দিল, তখন আমি অ্যাকসেপ্ট করি৷আমি নিজের স্বার্থের কথা ভেবে রাজনীতিতে আসিনি৷

ভোট প্রচারে ফাঁকে কলকাতা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী দেবিকা মুখোপাধ্যায়৷ ছবি-মিতুল দাস
ভোট প্রচারে ফাঁকে কলকাতা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী দেবিকা মুখোপাধ্যায়৷ ছবি-মিতুল দাস

প্রশ্ন: প্রথমত, আপনি রাজনীতির লোক নন৷দ্বিতীয়ত, আপনি এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা নন৷মানুষ কী আপনার উপর ভরসা করতে পারবে?
দেবিকা মুখার্জ্জী: ওরা কেন ভরসা করবে? আমি ওদের ভরসা যোগাব৷
জানি,আমাকে অনেকেই বহিরাগত বলছেন৷কিন্তু আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে এই এলাকাটা বেশী দূর নয়৷আমি থাকি লেকগার্ডেন্সে৷ওটা ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড৷ওখান থেকে এটা আর কত দূর? আর এখানকার মানুষ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে তো আমার দায়িত্ব অনেক বেড়ে যাবে৷

প্রশ্ন: এই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সমস্যাগুলো  আপনি জানেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: নিশ্চয়ই জানি৷এখানকার প্রধান সমস্যা পানীয় জল৷এখানকার মানুষকে জল কিনে খেতে হয়৷এছাড়া জমা জলের সমস্যা তো আছেই৷আর একটা বড় সমস্যা হল, পানা ডোবা৷ এখান থেকেই মশার উৎপত্তি৷ এটা ডেঙ্গুপ্রবন এলাকা৷এখানে কোনও কাজ হয়নি৷রাস্তাঘাট, আলো-কোনও কাজই হয়নি৷এখানকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে৷

প্রশ্ন: সাধারন মানুষ বলেন, সেলিব্রিটিরা ভোটে জেতার পর ডুমুরের ফুল হয়ে যায়৷তাঁদের নাগাল পাওয়াই মুশকিল৷
দেবিকা মুখার্জ্জী: আমি অন্তর থেকে কাজ করতে চাই৷নিজের জন্য কিছু গুছিয়ে নিতে জন্য আমি রাজনীতিতে আসি নি৷

প্রশ্ন: নির্বাচিত হলে প্রথম এলাকায় কী কাজ করবেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: প্রথমে এখানকার পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে চাই৷তারপর এই খোলা ডোবার কিছু একটা ব্যবস্থা করব৷মানুষকে সুস্থ রাখতে এটা খুব প্রয়োজন৷

প্রশ্ন: প্রচারে বেরিয়ে মানুষের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: তাঁদের ক্রেজটা ছোট বৌ কে নিয়ে৷প্রচারে যখন বেড়োচ্ছি তখন সবাই ডায়লগ শুনতে চাইছে৷

প্রশ্ন: তাহলে ছোট বৌ-এর ইমেজ কী আপনার লড়াইকে আরও সহজ করে দেবে মনে হচ্ছে? এর প্রভাব কী ভোট বাক্সে পড়বে বলে মনে হয়৷
দেবিকা মুখার্জ্জী: মানুষের মনে কী আছে, আমি কী করে জানব? তবে ওদের কাছে যখন যাচ্ছি তখন ওরা কিন্তু আমাকে খুব ভালোভাবে অ্যাকসেপ্ট করছি৷ওদের সমস্যার কথা আমাকে খুলে বলছে৷

প্রশ্ন: এখানে আপনার প্রতিপক্ষ কে? সিপিএম না তৃণমূল?
দেবিকা মুখার্জ্জী: আমি এখানে কাউকে প্রতিপক্ষ বলে মনে করছি না৷আমি এখানে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি৷তাঁরা পরিবর্তন চাইছে৷

প্রশ্ন: এখন কোনও ছবিতে কাজ করছেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: হ্যাঁ৷ তিনটে ছবিতে কাজ করছি৷ভোটের জন্য কয়েকটা দিন কাজ বন্ধ রেখেছি৷

প্রশ্ন: নির্বাচিত হলে তারপরেও কী অভিনয় চালিয়ে যাবেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: নিশ্চয়ই৷আমি আমার প্রোফেশন ছাড়ব না৷পছন্দমতো চরিত্র করব৷

প্রশ্ন: দুটো কীভাবে ব্যালান্স করবেন? কাউন্সিলারের কাজটা তো ফুল টাইম জব৷
দেবিকা মুখার্জ্জী: কাজটা পার্ট টাইম না ফুল টাইম আমি জানি না৷আমি শুধু বুঝি, যখন দায়িত্ব নিচ্ছি তখন মানুষের জন্য কাজ করতে হবে৷

প্রশ্ন: কাউন্সিলার হলে আপনার কাছে ফার্স্ট প্রায়োরিটি কী হবে? অভিনয় না রাজনীতি?
দেবিকা মুখার্জ্জী: অবশ্যই মানুষের পাশে থাকা৷তবে আমার প্রোফেশনকে আমি খুব রেসপেক্ট করি৷

প্রশ্ন: আপনি তো অভিনয় জগতের একজন৷স্বাভাবিকভাবেই ত্বক সম্পর্কে সচেতন৷রোদে প্রচারে বেরোতে হচ্ছে৷ত্বকের কী কোনও বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী:(হেসে)আমি কোনও সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করি না৷সকালে শুধু হালকা ফাউন্ডেশন লাগাই৷

প্রশ্ন: বিশেষ কোনোও ডায়েট চার্ট ফলো করছেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: এমনিতেই আমি ভেজিটেরিয়ান৷এখন প্রতিদিন ডাব খাচ্ছি৷প্রচুর স্যালাড খাচ্ছি৷আমি পোস্ত খেতে খুব ভালোবাসি৷তাই প্রতিদিন ভাত, ডালের সঙ্গে পোস্ত খাচ্ছি৷

প্রশ্ন: এই ওয়ার্ডে তো আপনার নামে কোথাও দেওয়াল লিখন চোখে পড়ল না৷ব্যানারের সংখ্যাও খুব কম৷ভোটের লড়াই-এ এত কম প্রচার কেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: কয়েকটা জায়গায় দেওয়াল লেখা হয়েছে যদিও সেটা খুবই কম৷আসলে সব দেওয়াল তৃণমূল আগে থেকে দখল করে রেখেছে৷আমি ঈশ্বরে খুব বিশ্বাসী৷আমার জেতা-হারা সব ওনার হাতে৷

ভোট প্রচারে ফাঁকে কলকাতা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী দেবিকা মুখোপাধ্যায়৷ ছবি-মিতুল দাস
ভোট প্রচারে ফাঁকে কলকাতা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী দেবিকা মুখোপাধ্যায়৷ ছবি-মিতুল দাস

প্রশ্ন: এই ওয়ার্ডে তো আপনার দল আপনার আগে অন্য একজনকে প্রার্থী করেছিল৷তারপর তাঁর নাম প্রত্যাহার করে আপনার নাম ঘোষনা করে৷ এই নিয়ে দলীয় কর্মীরা যথেষ্ট ক্ষুব্ধ৷আপনি কী কর্মীদের থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: আমার আগে যার নাম ঘোষনা করা হয়েছিল, সে আমার সঙ্গে প্রচারে একদিন বেড়িয়েছিল৷সবাই আমাকে খুব সহযোগিতা করছে৷প্রথমদিকে কয়েকজনের মধ্যে একটা অভিমান ছিল৷সেটা থাকাই স্বাভাবিক৷ এটা আমি বুঝি কিন্তু ওদের আমি বলেছি, আমি রাজনীতির কিচ্ছু বুঝি না৷আপনারা যদি আমার সঙ্গে থাকেন তাহলে আমি কাজ করতে পারব৷নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের স্বপ্ন পূরণ হবে৷

প্রশ্ন:  যদি হেরে যান তাহলে মন খারাপ হবে?
দেবিকা মুখার্জ্জী: খুব হবে৷তবে হেরে গেলে হাঁউ হাঁউ করে কাঁদব না৷

প্রশ্ন: অনেক সেলিব্রিটিকে ভোটে হেরে যাওয়ার পর তাদের আর রাজনীতির চৌহদ্দির মধ্যে দেখা যায় না৷আপনি যদি জিততে না পারেন তাহলে কী রাজনীতি ছেড়ে দেবেন?
দেবিকা মুখার্জ্জী: আমি ভোটে দাঁড়াব বলে তো বিজেপিতে যোগ দিই নি৷নরেন্দ্র মোদীকে দেখে, ওনার সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে উদ্বুদ্ধ হয়ে তবেই বিজেপিতে এসেছি৷পরে দল ঠিক করেছে আমাকে ভোটে দাঁড় করাবে৷আর আমি যদি হেরে যাই তাহলে রাজনীতি ছাড়ব কেন? রাজনীতিতে থাকব৷ বিজেপিতে থাকব৷

----
--