বালুরঘাট হিন্দি স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: বাইরে সাইনবোর্ডে স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে হিন্দি স্কুল। স্কুলটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার বাসিন্দাদের ৮০ শতাংশই হিন্দিভাষী। স্বাভাবিকভাবে মনে হতেই পারে নাম যখন হিন্দি স্কুল। তখন পড়াশোনাও অবশ্যই রাষ্ট্র ভাষাতেই হয়ে থাকে। বাস্তবটা কিন্তু তা নয়। বাইরে সাইন বোর্ডে লেখা হিন্দি স্কুল কথাটি শুধুই কথার কথা। কারণ স্কুলের ভিতরে কচিকাঁচাদের বাংলাতেই লেখাপড়া শেখান শিক্ষক শিক্ষিকারা৷

আরও পড়ুন: সারদাকান্ডে সিবিআই দফতরে শিবাজি পাঁজা

রেডিও টিভিতে প্রতিনিয়তই শোনা যায় রাষ্ট্র ভাষার প্রসারের কথা। এমনকি পোস্ট অফিস ব্যাংকের দেওয়ালেও এই ভাষার প্রতি যত্নশীল হওয়ার বিষয়ে মহামানবদের নানান উক্তি লেখা থাকে। এর ঠিক উলটো চিত্রই দেখা যায় দক্ষিণ দিনাজপুরের হিন্দিভাষী এলাকার সরকারি একটি স্কুলে। বালুরঘাট শহরের ১২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বালুরঘাট হিন্দি স্কুল।

১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি শুরুই করা হয়েছিল শিশুদের হিন্দিতে পড়াশোনা শেখানোর উদ্দেশ্যে। বহু বছর ধরে তা ঠিকঠাকই ছিল। স্কুলটির নামে এলাকাটি ধীরে ধীরে সকলের কাছে পরিচিত হয় হিন্দি স্কুল পাড়া নামেই। কিন্তু নব্বইয়ের দশক থেকে সরকারি উদাসীনতায় ধীরে ধীরে হিন্দি হাটিয়ে সেখানে স্থান পেয়েছে বাংলা। হিন্দি মাধ্যমের শিক্ষক ও রাষ্ট্র ভাষায় লেখা বইপত্র সব কিছুই ছিল। কিন্তু বাম আমলে সেই হিন্দি মাধ্যমকে তুলে দিয়ে শুরু হয় বাংলায় পঠন পাঠন। হিন্দি নামাঙ্কিত বাংলা মাধ্যমের এই স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা বর্তমানে পঞ্চাশেরও নীচে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে ট্রাই করুন এই ঘরোয়া টোটকা

বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় বাসিন্দা রাজেন শীল জানিয়েছেন, বালুরঘাটের হিন্দি স্কুলটিতে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু হয়েছে। একটা সময় সেখানে হিন্দিতে পড়াশোনার প্রচুর ছাত্রছাত্রী ও হিন্দি মাধ্যমের দুইজন শিক্ষকও ছিলেন। বর্তমানে স্কুলটিতে হিন্দি না থাকায় এলাকার অভিভাবকদের অনেকেই হিন্দি শেখাতে তাঁদের শিশুদের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়েই পাঠাচ্ছেন।

----
-----