গুগল থেকে প্রাপ্ত ফাইল ছবি

পার্থসারথি গুহ: দেশজুড়ে বিরোধী দলগুলির কথা শুনলে মনে হবে কেন্দ্রে বোধহয় কোনও সরকারই নেই। যাও বা আছে তা অত্যন্ত নড়বড়ে। একবার ভোট হলে সেটাও ভেঙে পড়বে। অথচ দেশের আর্থিক সূচক ঠিক উলটো কথাটাই বলে আসছে। ১১,৫০০-র ওপর নিফটি আর ৩৮ হাজারের ওপর সেনসেক্সের অবস্থান সাফ বুঝিয়ে দিচ্ছে ভারতের আর্থিক অবস্থা মোটেই তেমন খারাপ নয়। শক্তিশালী একটা শাসন ব্যবস্থা না থাকলে এভাবে ভারতীয় শেয়ার বাজারের লাগাতার বেড়ে চলা সম্ভব নয়।

যদিও বিরোধীরা শেয়ার বাজারের বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কোনও যোগসূত্র পাচ্ছেন না। ঘুরিয়ে অর্থবাজারের এই রমরমার পিছনে অপারেটর নির্ভর চালাকির কথা তুলে ধরছেন তারা। কিন্তু বিদেশি আর্থিক বিশেষজ্ঞ সংস্থা মর্গ্যান স্ট্যানলি, মুডিজ যে ভারতীয় বাজারকে লেটার মার্কস দিচ্ছেন তা তো আর অস্বীকার করা যায় না। যে বিদেশিরা কোনও দেশের সেআর্থিক ভিত মজবুত না হলে লগ্নি করেন না তাদের ভারতের অর্থবাজারের প্রতি এত আগ্রহ তো আর এমনি এমনি গড়ে ওঠেনি। নিশ্চিতভাবে ভারত বিদেশি লগ্নিকারীদের কাছে একটা বড় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

Advertisement

সেই প্রেক্ষাপটে অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে চিনের বৃদ্ধি থমকে যাওয়া। চিনের সর্বনাশ কার্যত ভারতের বাজারে পৌষমাস হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। অনেকে বলেন বিদেশি লগ্নিকারীরা হল পরিযায়ী পাখির মতো। কখন তাদের বিনিয়োগ তুলে নেবেন তার গ্যারান্টি নেই। সেক্ষেত্রে বলতে হবে ভারতীয় ফান্ডগুলির সাবালক হয়ে ওঠা দেশের অর্থবাজারের বড় প্রাপ্তি। বিশেষ করে গত ২ বছর ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই ব্যাপক উত্থানের পিছনে সবথেকে বড় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে ডোমেস্টিক ফান্ড বা এলআইসির মতো অগ্রনী সংস্থাকে। তাও বিদেশি লগ্নিকারীদের আস্থা ছাড়া এই বৃদ্ধি ধরে রাখা যেত না বলে অভিমত শেয়ার বিশেষজ্ঞদের।

চিনের খারাপ অবস্থা ছাড়াও দেশে স্থায়ী সরকারের অবস্থান, আর্থিক উদারিকরণের পথে কেন্দ্রীয় সরকারের সচেষ্ট থাকা সবকিছুই অনুঘটকের কাজ করেছে। তাছাড়া জিএসটি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যতই চাপানাউতোর থাকুক না কেন, একে লগ্নিকারীরা যে ভালচোখে দেখছেন তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। বস্তুত এতকিছুর যোগফল ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই ক্রমোত্থান। যা আগামী ২-৩ বছর জারি থাকার সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সূচক জোর নিফটি ও সেনসেক্সের যথাক্রমে ১৬ হাজার ও ৫০ হাজার হয়ে ওঠাও অস্বাভাবিক নয়। এর চেয়ে বেশি হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এখন প্রশ্ন উঠছে শেয়ার বাজার সম্পর্কে অন্ধকারটা কি পুরোপুরি কেটেছে বাঙালির মন থেকে। এই কথাটা সেজন্যই উঠছে সময়ের সঙ্গে যুগের সাথে তাল মেলালেও এখনও অর্থবাজার নিয়ে অনেকটাই অন্ধকারে গড়পরতা বাঙালি। শেয়ার বাজার কী, খায় না মাথায় মাখে সেটাই তো পরিস্কার নয়। অনেকে তো বেমালুম একে জুয়ার আড়ত বলে

আখ্যা দিয়ে দেন। অদ্ভূত এক প্রশান্তি লাভ করেন শেয়ার বাজার নিয়ে চারটি গাঁজাখুরি তথ্য তুলে ধরে। যারা শেয়ার বাজারকে নিয়ে এত কটুক্তি করেন তারাই আবার চিটফান্ডে টাকা রেখে ফেঁসে গিয়েছেন এমন উদাহরণও কিন্তু ভুরি ভুরি। তারা একবারও ভেবে দেখেন না শেয়ার বাজার কিন্তু ভারত সরকার অনুমোদিত। হয়তো সেখানে অনেক আজে বাজে কোম্পানির শেয়ার ফাঁকতালে গছিয়ে গিয়েছে সেখানে। কিন্তু, পাশাপাশি প্রচুর সংস্থা রয়েছে যারা চুটিয়ে মাথা উচু করে ব্যবসা করে চলেছে। বছরের পর বছর একেকটা ত্রৈমাসিকের দুর্দান্ত পারফরমেন্স, ভাল ব্যবসা ধরে রাখা, ঠিকঠাক অর্ডার পাওয়া ইত্যাদি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এরা শেয়ার বাজারে আইকন হয়ে উঠেছে। পোশাকি ভাষায় এদের বলা হয় ব্লু চিপ শেয়ার। এদের কাজের দক্ষতার নিরিখেই এরা অভিজাত

হয়ে উঠেছে শেয়ার বাজারে। সেজন্যই শেয়ার বাজারে পা রাখা ইস্তক বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন ধারাবাহিকতায় সেরা এইসব ব্লু চিপ শেয়ার কিনতে। ইনফোসিস, টিসিএস, আইটিসি, এইচডিএফসি, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, টাটা স্টিল, হিন্দুস্থান উইনিলিভার, ডাবর প্রভৃতি বেশ কিছু নাম আছে যাদের শেয়ার কিনলে আপনি চোখ বুজে থাকতে পারেন। অনেকটা ফিক্সড ডিপোজিটের মতো ব্যাপার আর কি। বলাবাহুল্য, ফিক্সড ডিপোজিটের চেয়ে লাভের পরিমাণও এখানে অনেকটা বেশি।

তাও বিশেষজ্ঞরা এও বলে থাকেন, বাজারে যে অংশের টাকা লগ্নি করবেন তার পুরোটাই শেয়ার বাজারে না খাটিয়ে এর অন্তত ২৫-৩০ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করা। বাকিটা অবশ্যই ফিক্সড ডিপোজিট ও অন্যান্য খাতে লগ্নি করা উচিত। শেয়ার বাজারের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই কথা বলা। তবে বয়স কম হলে ঝুকি নেওয়ার ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়। মোটের ওপর শেয়ার বাজারে যদি সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগনো যায় তাহলে এখান থেকে জীবনের অনেক সাধ আহ্লাদ মেটানো সম্ভব। আয়ের একটা অংশ যদি মাসে মাসে অল্প অল্প করে শেয়ারে লগ্নি করা যায় তাহলেও সুন্দর ভবিষ্যত গড়া সম্ভব।

সেজন্য এখন থেকেই তাই শেয়ার বাজারে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগতে হবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করলে খুবই ভাল। আর শেয়ার বাজারে কাজ করতে হলে এই মুহূর্তে জরুরি যেটা সেটা হল একটা ভাল জায়গায় ডিম্যাট ও ট্রেডিং আকাউন্ট খুলে ফেলা। আর আস্তে আস্তে কাজ আরম্ভ করা।

----
--