কলকাতা: শনিবারের ভোটের শেষ লগ্নে বোঝা গেল না রেজ্জাক মোল্লা ঠিক কাদের প্রার্থী৷ ওনার কথা দেখে মনে হচ্ছিল এবারের বিধানসভা ভোটে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী নন৷ তৃণমূলের প্রার্থী নন বলে মনে করবেন না ওর আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল উনি তাঁর দীর্ঘদিনের পুরানো দল সিপিএমের প্রার্থী৷ ওনাকে দেখে মনে হল ‘আমরা আক্রান্ত’-র প্রার্থী হয়েছেন৷ তিনি ও তার সঙ্গীরা যে ভোটের ময়দানে আরাবুল গোষ্ঠীর দ্বারা আক্রান্ত সে কথা কবুলও করে ফেলেছেন৷ আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমদিকে মুখ বুঝে তা সহ্য করে নিতে চাইলেও বেলা বাড়তে ক্ষোভ আর চেপে রাখতে পারেননি৷ ফলে দিনের শেষে ভাঙড়ে আক্রান্ত হতে হল তৃণমূল প্রার্থীকেই। রেজ্জাক মোল্লার অনুগামীদের উপর হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরই বর্তমান দলের আরাবুল ইসলাম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে এমন গোষ্ঠীকোন্দল চাপা দেওয়ার চেষ্টাই সিপিএমেপ প্রাক্তন এই বিধায়ক। কিন্তু দিনভর ধাক্কা খেয়ে নাজেহাল রেজ্জাক দুপুরের দিকে আর পারলেন না বলেই ফেললেন তাঁরা আক্রান্ত হয়েছে আর তার জন্য দায়ী দলেরই সহকর্মী আরাবুল ইসলাম।

দীর্ঘদিনের সিপিএমের বিধায়ক রেজ্জাক মোল্লা ২০১১ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের সময়ও  জিততে সক্ষম হয়েছিলেন৷ কিন্তু এবারে জিতলেও দল বিরোধী কথাবার্তা জন্য তাকে কিছুদিনের মধ্যেই দল থেকে বহিস্কার করা হয়৷ তখন তিনি নিজে ভারতীয় ন্যায় বিচার পার্টি নামে নতুন দলও গড়লেও তাতে সুবিধা না হয় শেষমেশ আশ্রয় নেন মমতা বন্দ্যোপাধ়্যায়ের ছত্রছায়ার? যদিও এক সময় মমতাকে এই রেজ্জাকই ‘কালীঘাটের ময়না’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন৷ তবে আশ্রয়ই নয় মমতা রেজ্জাককেই ভাঙাড়ের প্রার্থী হওয়ার টিকিট দেন৷ এমনিতে ওখানে রয়েছে  আরাবুল আর কাইজারের গোষ্ঠীরকোন্দল৷ এদের দু’জনের কাউকে না দিয়ে তৃতীয় কাউকে প্রার্থী করা নিয়ে সেই গোষ্ঠীকোন্দল যে বড় আকার নিতে পারে তেমন আশংকা ছিল তৃণমূল নেতৃত্বের। তবে দিদির হুশিয়ারীতে তা বেশি মাথা চারা দিতে পাচ্ছিল না৷ প্রথম দিকে বাধ্যও হচ্ছিল একমঞ্চে থাকতে৷ কিন্তু চাপা ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছিল মাঝে মাঝে৷ সেটাই যেন চরম ভাবে ফুটে উঠল ভোটের দিনে৷arabul-rejjak

শনিবার ভাঙড়ের যে সব জায়গায় আরাবুল অনুগামীদের নিয়ন্ত্রণে সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর অনুগামীরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর৷ তার মধ্যে বার বার শোনা গিয়েছে নারকেলবেড়িয়া, পোলেরহাটের নাম। পোলেরহাট-১ নম্বর অঞ্চলের শম্ভু মোল্লা, নজরুল মোল্লাদের অভিযোগ, ভোটের আগের দিন থেকেই হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। নিষেধ করা হয়েছিল ভোট দিতে যেতে। তা অমান্য করে ভোট দেওয়ায় বুথ থেকে বেরোতেই আরাবুলের লোকজন হামলা করে। বন্দুকের বাট দিয়েও মারা হয় মাথায়। ইটের ঘায়ে পূর্ব সাঁটুলিয়া এলাকায় রেজ্জাক অনুগামী  এক জনের মাথা ফাটে বলে জানা গিয়েছে।

সকাল থেকেই এই গোষ্ঠীকোন্দলের খবর পাচ্ছিলেন রেজ্জাক মোল্লা। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বুথ থেকে তাঁর পোলিং এজেন্টদের বার করে দেওয়া হচ্ছিল বলেও খবর রটে। তা সত্ত্বেও সংবাদ মাধ্যমের কাছে দীর্ঘক্ষণ মুখ খোলেননি এই চাষীর ব্যাটা। বেলা বাড়ার পর পরিস্থিতি দেখে আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি। তখন সরাসরি আঙুল তোলেন আরাবুলের দিকে। ক্ষোভ আর বিরক্তি নিয়ে বলে ফেলেন, ‘‘আরাবুল আগে ফ্যাক্টর ছিল, এখন ট্রাক্টর হয়েছে।’’ তবে রেজ্জাক অনুগামীদের বিরুদ্ধেও ভোট লুঠের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের তৎপরতায় বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের চেষ্টা সারা দিন ব্যর্থ হলেও, বিকেলের দিকে ভাঙড়ের বিভিন্ন অংশে রিগিং-এর অভিযোগ উঠেছে। শেষ লগ্নে ছাপ্পা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা দেখা গিয়েছে। যা দেখে রসিকতার সুরে কেউ বলেছেন, স্লগ ওভারে রাণ তোলার চেষ্টা শেষরক্ষা হবে তো?

----
--