‘ডিসট্যান্স এডুকেশন’ অনুমোদন থেকে ব্রাত্য রাজ্যের চার বিশ্ববিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) দূরশিক্ষার অনুমোদন থেকে ব্রাত্য রয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়৷ রাজ্যের আরও যে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে সেই নেতাজি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যে এই অনুমোদন জুটেছে৷ কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত দূরশিক্ষার অনুমোদন থেকে বঞ্চিত হতে হল রবীন্দ্রভারতী, কল্যাণী ও বিদ্যাসাগর এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

এই বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে দূরশিক্ষা সংক্রান্ত বিধি ২০১৭ সংশোধন করে নতুন বিধি ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন৷ যেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা ছিল, দূরশিক্ষার জন্য যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাকের মূল্যায়নে ন্যূনতম ৩.২৬ রেটিং থাকতে হবে৷ কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষা থাকলেও, পর্যাপ্ত রেটিং নেই৷ তাই ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষে দূরশিক্ষা ব্যবস্থা হারানোর আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছিল৷

বর্তমানে ন্যাকের মূল্যায়নে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৩.১০, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩.১২, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ২.৮৬৷ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাক রেটিংও আবশ্যিক ৩.২৬-এর তুলনায় কম৷ অন্যদিকে, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাক স্বীকৃত নয়৷

- Advertisement -

দূরশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের অনুরোধে গোটা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ সেই চিঠির জবাবে গত এপ্রিল মাসে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ন্যাক পরিদর্শন পর্যন্ত দূরশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি৷ আর দূরশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসির কাছে আবেদন করতে হবে৷ সেই অনুযায়ী ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষে দূরশিক্ষা চালু রাখার আবেদন জানিয়েছিল রবীন্দ্রভারতী সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও৷

কিছুদিন আগেই ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার সঞ্জীব দাস বলেছিলেন, ‘‘আর কিছুদিনের মধ্যেই অনুমোদন চলে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে৷ কারণ, আমাদের তরফ থেকে ইউজিসিতে যাওয়া, অনলাইন আবেদন করা, প্রেজেন্টেশন দেওয়া ইত্যাদি যা যা দরকার ছিল সবই পূরণ করা হয়েছে৷ নিয়ম অনুযায়ী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সব দিক থেকেই উত্তীর্ণ হয়েছে৷ এবার শুধু অনুমোদনের অপেক্ষা৷’’ কিন্তু, সেই আশায় জল ঢেলে দিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দূরশিক্ষা অনুমোদনের তালিকাটি৷ কারণ, রাজ্যের তিনটি ব্রাত্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে অন্যতম এই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়৷

তবে, চারটি বিশ্ববিদ্যালয় বাদ পড়লেও অনুমোদনের তালিকায় নাম রয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ও নেতাজি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের৷ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় মোট ৯টি স্নাতকোত্তর কোর্সে চালু রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ নেতাজি মুক্ত বিদ্যালয়কে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে মোট ১৯টি কোর্স চালু রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে৷ পরবর্তী ন্যাক পরিদর্শন অর্থাৎ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষ ও নেতাজি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২-’২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় এই কোর্সগুলি চালিয়ে যেতে পারবে৷

৯ অগস্ট এই অনুমোদনের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন৷ যেখানে দেশের মোট ৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে৷ তবে, এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে শুধুমাত্র স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ অনুমোদন তালিকার পাশাপাশি আর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইউজিসির তরফে জানানো হয়েছে, এমবিএ, এমসিএ, এমএড, বিএড, হটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্রাভল অ্যান্ড ট্যুরিজমের মতো প্রফেশনাল কোনও কোর্স দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় অনুমোদন দেওয়া হবে না৷ তাই শুধুমাত্র স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ডিগ্রি কোর্সগুলিকেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ কোনও সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, পিজি ডিপ্লোমা কোর্সের অনুমোদন দেওয়া হয়নি৷

এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দূরশিক্ষার জন্য স্বীকৃত প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য ভরতি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে৷ তার পরে দূরশিক্ষায় আর কোনও ভরতি নেওয়া যাবে না৷ তবে, যে প্রতিষ্ঠানগুলি অনুমোদন পায়নি তাদেরকে আরও একটি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে৷

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যে সব প্রতিষ্ঠানগুলি ইন্টারফেস বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিল অথচ, দূরশিক্ষার অনুমোদন পায়নি তারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইউজিসির কাছে পুনরায় আবেদন করতে পারবে৷ ফলে, রাজ্যের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় দূরশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি না পেলেও, এখনও পর্যন্ত আশার আলো হারিয়ে যায়নি৷ তারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ফের ইউজিসি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারবেন৷

Advertisement ---
---
-----