‘সন্ধে নামার আগে’ বিদায় নেবে ব্যোমকেশ?

কলকাতা : ‘শেষ হয়েও পড়ে থাকি অবশেষ’৷ এ এক অদ্ভুত বিরহ৷ কিছু না পাওয়ার দুঃখ৷ শেষ হয়েও শেষ না হওয়ার দুঃখ৷ অসমাপ্ত কিছু কাজ, কথা দিয়েও না রাখার বেদনা৷ সম্পর্কের বেড়াজালে রয়ে যাওয়া বিষাদের সুর ফুটে উঠল ‘বিদায় ব্যোমকেশ’র নতুন গানে৷ সদ্য মুক্তি পেল ছবির গান ‘সন্ধে নামার আগে’৷

ছবিতে আবির দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন৷ আবিরের দুই রূপই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে গানটিতে৷ দুই ভিন্ন বয়সের চরিত্রের জীবনের ব্যাথা-বেদনাকে ঘিরেই এই গান৷ আবিরসহ সোহিনিও জাবল রোলে৷ তার ঝলকও খানিক পাওয়া গিয়েছে গানটিতে

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

বাঙালির আইকন। তাঁকে নিয়ে বছরের পর বছর সিনেমা হয়ে চলেছে! তবে সেসবই তাঁর হারিয়ে যাওয়া সময়ের কাহিনি। কিন্তু এখন, কেমন আছেন তিনি? কী করছেন বাঙালির সত্যান্বেষী? কেমন দেখতে হয়েছে তাঁকে? প্রশ্ন হাজার! যার উত্তর এতদিন ছিল না! তবে এবার বাঙালির সেই আইকনিক গোয়েন্দার হালহকিকত ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ নিয়ে আসছেন পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য। লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই এ যুগে দাঁড়িয়ে সত্যান্বেষীকে খুঁজে বার করেছেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতেই মুক্তি পেয়েছে এছবির ট্রেলার।

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে
- Advertisement -

‘রক্তের দাগ’ ,‘চিড়িয়াখানা’, ‘চোরাবালি’ পেঁয়াজের খোলার মতো পরতে পর পরতে তিনি খুলেছেন খুনিদের মুখোশ। টানটান রহস্য আর সাসপেন্সের গোলকধাঁধায় আটকে রেখেছেন আট থেকে আশির মন। তবে এবারের কাহিনি বাইরের নয়। এযাবৎ কাল ব্যক্তিজীবনের সুস্থিরতা তাকে বাইরের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করেছে। কিন্তু এ বার ঝড় তার ঘরেই। দু’বছর ধরে নিরুদ্দেশ ছেলেকে খুঁজে বের করতে অসফল বৃদ্ধ ব্যোমকেশ। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকেই এই গল্পের শুরু। এই পাঞ্চ লাইন তিনটি, হারিয়ে যাওয়া, ফিরে আসা আর খুঁজে পাওয়ার গল্প। ব্যোমকেশের এখন সত্যি-মিথ্যে বিচার করার মাপকাঠি, মূল্যবোধ অনেকটা বদলে গিয়েছে। তার পাশাপাশি নাতি সাত্যকির সঙ্গে দাদু ব্যোমকেশের সম্পর্কের সমীকরণ, সাত্যকির চোখ দিয়ে সত্যান্বেষীকে দেখা। এই বিষয়গুলিও ছবিতে ফুটে উঠবে।

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

অঞ্জন দত্ত ও অরিন্দম শীলের হাত ধরে ব্যোমকেশ হালফিল সিনে পরদায় বারবার ফিরেছে। তবে এবার ব্যোমকেশ গল্প এক্কেবারেই নতুন। কারণ ‘ব্যোমকেশ সমগ্র’তে সেই এই কাহিনি। তাই বইয়ের পাতা থেকে কতটা আলাদা এই ব্যোমকেশ! পরিচালক দেবালয়ের কথায়, “আমার ইচ্ছে, এই পরম্পরাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। ঘরোয়া, বন্ধুবৎসল ও স্নেহশীল ব্যোমকেশকে আরও কাছের করে তোলা। আমরা সব সময়ে দেখেছি, ব্যোমকেশের স্ত্রী ও বন্ধু তার পাশে রয়েছে।”

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

পর্দায় ব্যোমকেশ হিসেবে আবির চট্টোপাধ্যায়কে আগেও দেখেছেন দর্শক। কিন্তু এবার তিনি আশি বছরের বৃদ্ধের বেশে। তবে বহাল রয়েছে তাঁর বুদ্ধি দীপ্ত দুটি চোখ। তাতে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা। পরণে সাদা ধুতি-পাঞ্জবী। তবে হ্যান্ডসাম হ্যাঙ্ক নন ব্যোমকেশবাবু। মুখের চামড়ার ভাঁজ পড়েছে। একমাথা পাকা চুল। প্রস্থেটিক মেকআপ করেও ব্যোমকেশ যেন তার স্বকীয়তা না হারায়। তাইতো মুম্বই থেকে আসা মেকআপ শিল্পী ধনঞ্জয় প্রজাপতি ও তাঁর টিমকে তেমনই ব্রিফ করা হয়েছিল। তার পরে লুক সেট হয় আবীরের। মেকআপ করতে চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগত। তবে শুধু বৃদ্ধের বেশে নয়! এছবিতে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাবে আবির চট্টোপাধ্যায়কে। এক আশি বছরের ব্যোমকেশ। দুই সত্যান্বেষীর নাতি সাত্যকির চরিত্রে। এছাড়াও ছবিতে রয়েছেন সোহিনী সরকার, জয় সেনগুপ্ত, বিদিপ্তা চক্রবর্তী, রাহুল প্রমুখ।

Advertisement ---
---
-----