ঢাকা: ‘যে মাটিতে জননীর ধর্ষণ হয়, সেই মাটিতে আজীবন খালি পায়েই চলব’-কথা রেখেছেন৷ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত খালি পায়েই ছিলেন রমা চৌধুরী৷ সেই ৭১-এর বীরাঙ্গনা চলে গেলেন না ফেরার দেশে৷ সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু হয় সাহিত্যিক, মুক্তিযোদ্ধা রমা চৌধুরীর৷ ৭৯ বছরের জীবন নিথর হল হাসাপাল বেডে৷ দীর্ঘ সময় ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি৷ গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ডায়াবেটিস সহ নানা রোগে জর্জরিত হন রমা চৌধুরী৷ হাসপাতালের বেডেই চলছিল জীবন সংগ্রাম৷ সেই সংগ্রামের ইতি টেনেই প্রয়াত বীরাঙ্গনা, শেষ হল বাংলাদেশের একটি পর্বের৷

রমা চৌধুরী ঐতিহাসিক পর্বেরই নাম৷ ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে রমা চৌধুরী সেই বীর নারী যিনি পাক সেনাদের চোখে চোখ রেখে লড়েছিলেন৷ যার পরিনাম ছিল ভয়ানক৷ ১৯৭১-১৩ মে, রমা চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয় পাক সেনা, টেনে বার করা হয় যোদ্ধা রমাকে৷ চলে ধর্ষণ,অত্যাচার৷ পপাডিয়া গ্রামের অগ্নিকন্যা রক্তাক্ত, তবে চোখে বিপ্লবের আগুন৷ সেই রমা চৌধুরী মুক্তি যুদ্ধ নিয়ে লিখে ফেললেন ১৯টি বই৷ অত্যাচারে ক্ষত বিক্ষত রমা খালি পায়ে হেঁটে নিজের বই বিলি করলেন৷ তাঁর লেখা বই সবচেয়ে বিখ্যাত ‘৭১-এর জননী’৷ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও খালি পায়ে হেঁটেই বই বিক্রি করতেন রমা চৌধুরী৷

পড়ুন:বাংলাদেশে খুন সাংবাদিক

কোনওদিন সরকারি ভাতা বা সাহায্য নেননি৷ নিজের বই বিক্রি করেই চলত রমা চৌধুরীর দিন গুজরান৷ তাঁর লেখা ১৯টি বইয়ের প্রত্যেকটি মুক্তি যুদ্ধ নিয়ে লেখা৷ বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তি যুদ্ধ সম্পর্কে জানাতে চেয়েছিলেন আজীবন৷ তাই পায়ে হেঁটেই বই বিক্রি করতেন তিনি৷ তাঁর লেখা বইগুলির মধ্যে ছিল মুক্তি যুদ্ধের ওপর নথি, দস্তাবেজ, প্রবন্ধ, সাহিত্য৷ বাংলাদেশ সরকার থেকে পেয়েছেন একাধিক সম্মান৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের লেখিকা ছিলেন রমা চৌধুরী৷ বহুবার শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করেছেন রমা৷য

১৯৩৬ সালে চট্টোগ্রামের পপাডিয়া গ্রামে জন্ম এই বীর কন্যার৷ বাংলাদেশকে ভালোবেসেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত৷ তিন সন্তানকে হারানোর শোক ভুলে ঝাপ দিয়েছিলেন মুক্তি যুদ্ধে৷ সোমবার বীরাঙ্গনাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে বাংলাদেশের মানুষ৷ চট্টোগ্রামের শহিদ মীনারে সায়িত থাকবে রমা চোধুরীর মরদেহ৷ তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

----
--