মমতার রাজ্যে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল আসায় উচ্ছ্বসিত মোদীর দল

ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: জঙ্গলমহলে সাংগঠনিক দিক থেকে একেবারে ‘শূন্য’ থেকে শুরু করে চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবির। সাংগঠনিক দিক থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী জোড়া ফুলকে সরিয়ে পদ্মেই আস্থা এখানকার সাধারণ ভোটারদের।

প্রথমবার বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে নিয়ে রবিবার ‘বিজয়োৎসব’ পালন করল বিজেপি। কয়েকশো কর্মী সমর্থক সঙ্গে নিয়ে এদিন সুসজ্জিত মিছিল বিক্রমপুর বাজার সহ গোটা গ্রাম পরিক্রমা করে। বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ এমনকি কিছু বুঝে বা না বুঝেই কচি কাঁচাদেরও অভিভাবকদের হাত ধরে বিজেপির এই ‘বিজয়োৎসব-এ যোগ দিতে দেখা গিয়েছে।

দলীয় পতাকা নিয়ে সংঘবদ্ধ এতো বড় মিছিল আর যথেচ্ছ গেরুয়া আবির নিয়ে বিজেপির এই ধরনের জমায়েত এলাকাবাসী প্রথম প্রত্যক্ষ করলেন। এলাকার সাধারণ মানুষ এমনটাই জানিয়েছেন। এক সময়ের সিপিএমের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি সিমলাপাল তথা এই বিক্রমপুর এলাকা। ১৯৭৮ সালের প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ২০১৩ এই গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে রেখেছিল সিপিএম। পরে ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানে জয় পায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

- Advertisement -

তার ঠিক পাঁচ বছর পরেই ২০১৮ সালে এখানকার মানুষ ক্ষমতা তুলে দিলেন বিজেপির হাতে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বোধ হয় আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত তাদের হাতছাড়া হতে চলেছে। সম্ভবত সে কারণেই নির্বাচনী প্রচারের শেষ প্রহরে এই বিক্রমপুরে দলের যুব সভাপতি, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এনে সভা করানো হয়।

কিন্তু তাতেও কোন কাজ হল না। জঙ্গল মহলের অন্যতম এই গ্রাম পঞ্চায়েত হারানোর পর স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ভোট পরবর্তী পর্যালোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন। ১৭ আসনের বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১ টিই গেরুয়া শিবিরের দখলে। ৫ টি তৃণমূল ও ১ টি আসনে সিপিএম জয়ী হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা এই হারের কারণ হিসেবে সংগঠকদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই দায়ী করেছেন।

কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ‘বিজয়োৎসবে’ যোগ দিয়ে বিজেপির সিমলাপাল মণ্ডল সভাপতি সুপান্থ ডাঙ্গর ‘সাধারণ শান্তিকামী জনগণের জয়’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘শাসক দলের সন্ত্রাস ও ‘প্রশাসনিক অসহযোগিতা’ সত্ত্বেও বিক্রমপুরের মানুষ তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। বিজেপি এই গ্রাম পঞ্চায়েতে উন্নয়নের ওপরেই জোর দেবে৷’’

Advertisement
---