দেবময় ঘোষ, কলকাতা: রথযাত্রা নিয়ে কেরলে বাম সরকারের সাহায্য পেয়েছে বিজেপি৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার কোনও সহযোগিতাই করছে না – দাবি বঙ্গ বিজেপির৷ বিজেপির অন্দরে কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতটা অগণতান্ত্রিক, কেরলে সিপিএম অন্তত ততটা নয়৷ কয়েকদিন আগেই কেরলে নবনির্মিত কুন্নুর বিমানবন্দর উদ্বোধান হওয়ার আগেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বিমান সেখানে নামতে দিয়েছিল সিপিএম সরকার৷ বিমান থেকে নামার পর অমিত শাহ বন্দরকর্মীদের বলেছিলেন, অভিনন্দন! আপনাদের বিমানবন্দরের উদ্বোধন হয়ে গেল৷

এই ঘটনার পরের দিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী থমাস আইজ্যাক মন্তব্য করেন, ‘‘ওই বিমানবন্দরের উদ্বোধন নভেম্বরের ৯ তারিখ৷ কিন্তু আতিথেয়তা রক্ষার জন্য আমরা অমিত শাহকে নতুন বিমানবন্দরের উদ্বোধনের আগে ওখানে নামতে দিয়েছি৷ কিন্তু রাজ্যে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ রাজ্য সরকারকে উৎখাত করার কথা বলে গেল!’’ পশ্চিমবঙ্গে কী এরকম ব্যাপার ভাবতে পারা যায়? ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের বিজেপি কর্তারা, বিশেষত যাঁরা রথযাত্রার ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা অন্তত মনে করেন – কেরলের সিপিএম সরকার, এরাজ্যের মমতার সরকারের থেকে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক৷

প্রসঙ্গক্রমে, বাংলায় রথযাত্রার ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারেনি বিজেপি৷ স্বরাষ্ট্রসচিবের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি৷ পুলিশ অফিসাররাও আজকাল ফোন তোলা বন্ধ করে দিয়েছে৷ ডিজি এবং রাজ্যে সমস্থ কমিশনারদের কাছে মানচিত্র সহ চিঠি পৌছে যাবে বৃহস্পতিবারই৷ রথে চড়ে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রে ঘুরবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ অমিতের ‘Air Conditioned’ রথ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে তিনটি পর্যায়ে ঘুরবে৷ ডিসেম্বরের ৫, ৭ এবং ৯ তারিখ৷ রাজস্থানের নির্বাচনের জন্য অমিতের পূর্বনির্ধারিত সফরসূচিতে সামান্য বদল করা হলেও বাড়তি পাওনা হিসেবে রাজ্য বিজেপি পেল এক বড়সড় উপহার৷ এর আগে ঠিক ছিল – শুধু তারাপীঠেই রথে চেপে বসবেন অমিত৷ তবে তাঁর আসতে দেরি হলেও তিন পর্যায়েই বিজেপির রথের উপর অমিত শাহকে হাত নাড়তে দেখা যাবে৷

তবে রথের ব্যাপরে বঙ্গ বিজেপির নতুন উপলব্ধি – ‘মমতার থেকে সিপিএম ভালো’ এবিষয়ে তেমন কেনও সন্দেহই নেই৷ পার্টির এক নেতার বক্তব্য, ‘‘কেরলে রথযাত্রা করেছিলেন অমিত শাহ৷ বামফ্রন্ট সরকার সমস্থ সহযোগীতা করেছিল৷ এখানে তৃণমূল তো বুধতেই পারছে না যে – এটা একটা রাজনৈতিকর্মসূচী৷ এখানে ধর্ম কম, রাজনীতি বেশি৷ উত্ত প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির শাসনকালে এই রথযাত্রা হয়েছে অন্তত পাঁচ বার৷ তযতালীন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সরকার সাহায্য করেছিল৷ রাজস্থানেও রথযাত্রা হয়েছে৷ কোনও রাজ্যের সরকার যেমন জনসভা আটকাতে পারে না, তেমনই রথযাত্রাও আটকাতে পারে না৷’’

বিজেপির বক্তব্য, যাত্রায় অনুমতি নেওয়া হয়না৷ শুধুমাত্র প্রশাসনকে জানানো হয়৷ রথযাত্রা সম্পর্কিত প্রশাসনের যেকোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরি থাকে দল৷ রাজ্যের রথযাত্রা নিয়েও প্রশাসনের সঙ্গে অনোচনা করতে তৈরি বিজেপি৷ কিন্ত রাজ্য সরকারের তাতে কোনও উচ্চবাচ্চ নেই৷ ‘‘স্বাধীনতার আগে এই ধরণের যাত্রা করতেন মহত্মা গান্ধী৷ মমতার এত ভয় পাওয়ার কারণ কী? ওপ এতটা ‘ম্যানডেট’ রয়েছে৷ নিজের ভোটের উপর আস্থা রাখছেন না মমতা৷ ভয়, ভয়, ভয় …৷’’

রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় পার্টি৷ সারা ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রা হয়ে থাকে৷ কিন্তু বাংলায় ১৯৯০ সালের পর কোনও রাজনৈতিক-রথযাত্রা দেখেনি৷ ১৯৯০ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে লালকৃষ্ণ আদবানীর রাম রথযাত্রার স্মৃতি উস্কে দিয়ে ডিসেম্বরের ৫ তারিখ আবার রথে উঠবেন অমিত৷ ১৯৯০ এর পর আর কোনও মেগা রথযাত্রার কথা শোনা যায় না বাংলায়৷ তবে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা দু-একবার রাজ্যে রথযাত্রা করার চেষ্টা করেছেন৷

----
--