ধর্নায় তৃণমূলকে অনুকরণ করছে বিজেপি: অভিষেক

কৃষ্ণনগর: মেট্রো চ্যানেলে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল তৃণমূল সরকার৷ কিন্তু ৩রা ফেব্রুয়ারি সংবিধান বাঁচানোর তাগিদে মেট্রো চ্যানেলেই ধর্নায় বসেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী৷ পরওয়া করেননি নিজের সরকারের তৈরি আইনের৷ এবার বিরোধী বিজেপি-ও মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসতে আগ্রহী৷ তবে গেরুয়া শিবিরের ইচ্ছেকে এদিন কটাক্ষ করেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ জানান, তৃণমূলের আন্দোলনকে ‘অনুকরণ’ করার চেষ্টা করছে বিজেপি৷

আরও পড়ুন: মোদীর মন্ত্রীকে ‘পাকিস্তানি’ বললেন এই কাশ্মীরি নেতা

গণতন্ত্র বাঁচানোর আবেদন জানিয়ে ধর্নায় বসতে চাইছে বিজেপি। তাদের তরফে কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার আছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে পত্রপাঠ তা খারিজ করে দেওয়া হয়৷ মুরলীধর সেন লেনের নেতাদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন৷ সেই অনুসারে বিজেপির-ও ওানে সভা করার ক্ষেত্রে অনুমতি পাওয়া উচিত৷ কিন্তু রাজ্যের শাসকদল বিরোধীদের কণ্ঠরোধে আগ্রহী৷ তাই আবেদন মানা হয়নি৷ তবে ২১, ২২ ও ২৩শে ফেব্রুয়ারি বিজেপি মেট্রো চ্যানেলে বিনা অনুমতিতেই দর্নায় বসবে বলে জানিয়েছে৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসতেই মান্নানদের গ্রেফতার করল পুলিশ

এদিন হাঁশখালিতে নিহত বিধায়কের বাড়িতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কথা বলেন সত্যজিৎ বিশ্বাসের পরিবারের সঙ্গে৷ পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি অনুকরণ রাজনীতির অভিযোগ তোলেন বিজেপির বিরুদ্ধে৷ যুব তৃণমূল সভাপতি বলেন, ‘‘২০১৩ সালে কন্যাশ্রী শুরু করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷ সেই দেখে কেন্দ্র বানায় বেটি বাঁচাও-বেটি পড়াও৷ দেশ বাঁচাতে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেই দেখে ওদেরও শখ গিয়েছে ধর্না আন্দোলনের৷ তবে ওদের মানুষ চায় না৷ জনগণের আস্থা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর৷’’

অভিষেকের দাবি, দিল্লিতে নতুন সরকার গঠনের কাজ করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ সেই দেখে ভয় পেয়েছে পদ্মশিবিরের লোকজন৷ তাই নজর ঘোরাতেই অনুকণের রাজনীতিতে মনোনিবেশ করছে বিজেপি৷ দর্নায় বসলেও তা কয়েক ঘন্টার বেশি টিঁকবে না বলে মনে করেন রাজ্যের শাসক দলের যুব শাখার প্রধান৷

আরও পড়ুন: বিধায়ক খুনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিশ দেবে আরএসএস

শুধু বিজেপি-ই নয়৷ এর আগে শিলিগুড়ির মেয়র তথা বাম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যও হুমকি দিয়ে বলেছিলেন ধর্নায় বসবেন মেট্রো চ্যানেলে। তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার শিলিগুড়ি পুরসভাকে নায্য প্রাপ্য দিচ্ছে না। আর সেটা শুধুই অগণতান্ত্রিক নয়, সংবিধান-বিরোধীও বটে। ফলে ধর্নায় বসার কথা বলা হয়৷ কিন্তু সেই আবেদনেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি৷ ১৪ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেসের আবেদনও খারিজ হয়ে যায়৷

আরও পড়ুন: প্রিয়াঙ্কার রোড শো’কে চোর শো বলে কটাক্ষ যোগীর মন্ত্রীর

লোকসভা এগিয়ে আসছে৷ বাড়ছে রাজনীতির পারদ৷ এই প্রেক্ষাপটে ধর্না নিয়ে তরজায় শাসক বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷