রংপুরের হিন্দু নির্যাতনে নীরব কেন সিপিএম-তৃণমূল? প্রশ্ন জয়ের

স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বললেও রংপুর নিয়ে তৃণমূল-সিপিএম চুপ কেন? প্রশ্ন তুলেছেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের তারকা ব্যক্তি জয়।

আরও পড়ুন: ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু গ্রামে ব্যাপক ভাঙচুর-মারধর এলাকাবাসীকে

মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের হবিবপুরে বিজেপি যুব মোর্চার পক্ষ থেকে এক প্রকাশ্য জনসভার আয়োজন করা হয়। দুর্গাপুর স্কুল ময়দানের সেই সভার প্রধান বক্তা ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভাতেই বক্তব্য রাখার সময় রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং বাংলাদেশের রংপুরের ঘটনা নিয়ে সিপিএম এবং তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন জয়।

- Advertisement -

মায়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে সমস্যা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। ওই দেশের অনেক রোহিঙ্গা দেশান্তরিত হয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে রাজি হলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে নারাজ ভারত। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি। এই নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করেছে দেশের প্রায় সকল বিরোধী দল। সেই তালিকায় বাম দলগুলির সঙ্গে ছিল রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশের রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক হিন্দুদের বাড়ি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ওই ঘটনায়।

এই বিষয়ে বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে সিপিএম-তৃণমূল অনেক দরদ দেখিয়েছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। কিন্তু, বাংলাদেশের রংপুরে যে হিন্দুদের উপরে আক্রমণ হল তা নিয়ে কেউ কোনও কথা বলছে না।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে যে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক। কিন্তু, সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিকতা ভারত সরকারের আছে। সেই কারণেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে মোদী সরকার।” অর্থ এবং ক্ষমতার জন্যেই সিপিএম এবং তৃণমূল আন্দোলনের নাটক করে বলেও অভিযোগ করেছেন জয়।

গত কয়েক দিন ধরেই দুই বর্ধমান জুড়ে ক্রমাগত সভা করছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বাধা অতিক্রম করেও সভাস্থলে পৌঁছেছেন তিনি। যদিও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাঁর একটি নির্ধারিত সভা বাতিল করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেই সবকিছুর পরেও এদিনের সভায় জনসমাগম ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। কানায় কানায় পূর্ণ দুর্গাপুর স্কুল ময়দান। যা দেখে বেশ আশাবাদী স্থানীয় গেরুয়া শিবির। একদা বামদুর্গে খুব শীঘ্রই পদ্ম ফুটতে চলেছে বলে স্থির বিশ্বাসের সঙ্গেই দাবি করছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement
---