আসানসোলে তৃণমূলের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুকুল রায়!

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ঘাসফুল সংসারের সঙ্গে পাকাপাকি বিচ্ছেদ ঘটিয়ে বেশ কয়েকমাস আগেই তিনি গায়ে চড়িয়েছেন গেরুয়া বসন৷ তারপর থেকে নিয়ম করে প্রতিটি সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যেপাধ্যায়ের মুন্ডুপাত করে চলেছেন তিনি৷ অথচ সেই তৃণমূলেরই একটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্রে দলনেত্রীর ছবির সঙ্গে প্রধান অতিথি হিসেবে জ্বলজ্বল করছে মুকুল রায়ের নাম!

আরও পড়ুন- সিদ্ধার্থের কায়দায় পুলিশ দিয়ে সরকার চালাচ্ছে মমতা: মুকুল

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে- ‘দাদা’ দলত্যাগী হয়েছেন, এই ‘ব্রেকিং’-টা কি এখনও দলের জেলা নেতারা জানেন না! নাকি মুকুল-ম্যাজিক ভোঁতা করতে পরিকল্পিতভাবেই এমন বিভ্রান্তিমূলক আমন্ত্রন পত্র ছাপানো হয়েছে? এই প্রশ্নকে ঘিরে বিতর্কের আগুনে ফুটছে আসানসোলের জামুড়িয়া৷

আরও পড়ুন- মুকুলকে ‘খুঁজতে’ নোয়াপাড়ায় হাজির পার্থ

প্রসঙ্গত, ২১ জানুয়ারি রানিগঞ্জে বিজেপির প্রকাশ্য সমাবেশের প্রধান বক্তা হিসেবে হাজির থাকার কথা মুকুল রায়ের৷ অন্যদিকে তৃণমূলের জামুরিয়ার মহিলা সম্পাদিকা সুমিত্রা নুনিয়ার আমন্ত্রনপত্রে দলনেত্রীর ছবি ছাপিয়ে তাতে লেখা হয়েছে- ‘‘আগামী ২১ জানুয়ারী ২০১৮ পড়াশিয়া সাউথ কলোনিতে একটি কম্বল বিতরণ সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷ উক্ত সভায় আপনি উপস্থিত হইয়া সভাটি সফল করতে সহযোগিতা করবেন৷’’ এরপরই কার্ডের মাঝখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বড়বড় করে ছাপা হয়েছে মুকুল রায়ের নাম৷ স্বভাবতই যা ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে৷

সেই আমন্ত্রণপত্র

বিজেপির তরফে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে, মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর যেভাবে জেলায় জেলায় তৃণমূলে ভাঙন দেখা দিয়েছে তাতে আতঙ্কিত হয়েই পরিকল্পিতভাবে এমন বিচিত্র কাণ্ডকারখানা ঘটিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব৷ বিজেপির আসানসোলের জেলা সহসভাপতি প্রমোদ পাঠকের মতে, ‘‘২১জানুয়ারি রানিগঞ্জে আমাদের দলের প্রকাশ্য জনসভা রয়েছে৷ প্রধান বক্তা মুকুল রায়৷ তাই মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যই তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এমন চিঠি ছাপিয়েছে৷’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘এর ফলে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে হয়তো ভাববেন মুকুলদা ফের তৃণমূলে ফিরেছে৷’’ তাঁর দাবি, ‘‘আসলে তৃণমূল ভয় পাচ্ছে৷ তাই দলের ভাঙন রুখতে ইচ্ছাকৃতভাবে দলের কার্ডে ওরা মুকুল রায়ের নাম ছেপেছে৷’’

আরও পড়ুন- মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে বহিষ্কৃত হচ্ছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী তোগাড়িয়া

তৃণমূলের মহিলা সম্পাদিকা সুমিত্রা নুনিয়ার অবশ্য বলছেন, ‘‘তাড়াহুড়োতে ভুল হয়ে গিয়েছে৷ বিষয়টি সকলকে ফোন করে জানিয়েছি৷’’ তৃণমূলের মহিলা নেত্রী অকপটে ভুল স্বীকার করে নিলেও এর পিছনে অন্য ইঙ্গিত পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল৷ ইতিমধ্যে তৃণমূলের মহিলা সেলের ওই কার্ডকে সামনে রেখে জেলাজুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব৷

আরও পড়ুন- কুলভূষণকে ইরান থেকে ধরে আনা হয়েছিল: বালোচ নেতা

মুকুল রায় ঘনিষ্ট এক বিজেপি নেতার মন্তব্য, ‘‘মুকুলদার দৌলতেই আজ তৃণমূলের এই উত্থান৷ দায়িত্ব নিয়ে বলছি- তৃণমূলকে বাংলা থেকে মুছে দিতে দাদাই যথেষ্ট৷ রীতিমতো নিজেদের দলের কার্ডে দাদার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে লিখে সেটাই প্রমাণ করে দিলেন তৃণমূলের আসানসোলের স্থানীয় নেতৃত্ব৷’’

Advertisement
---
-----