আগরতলা: ত্রিপুরাতে কি তাহলে গো মাংস খাওয়া ও বিক্রি নিয়ে উল্টো রাস্তায় হাঁটতে চলেছে বিজেপি? এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ বিজেপি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি আইপিএফটি জোট ক্ষমতায় আসার পর ত্রিপুরাতে গো মাংস নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ গেরুয়া সরকার গড়ার অন্যতম কাণ্ডারি সুনীল দেওধর জানিয়ে দিলেন, এখানে এত মানুষ বিশেষ করে হিন্দুরা গো মাংস খান, তাই এই মাংসে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে না৷

অথচ দেশে অন্যান্য রাজ্য যেমন উত্তর প্রদেশ, ছত্তিসগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড , গুজরাতে গো মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ এই রাজ্যগুলিতে বিজেপি সরাসরি একক ক্ষমতায় সরকার গড়েছে৷ শুধু জম্মু-কাশ্মীরে তাদের জোট জঙ্গি হল পিডিপি৷ সেখানে কাশ্মীর উপত্যকায় গো মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি৷

- Advertisement -

সুনীল দেওধর কেন গো মাংস ভক্ষণে নিষেধাজ্ঞা জারি করার বিষয়ে পিছু হটলেন ? আগরতলার রাজনীতি মহলে এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে৷ যদিও সুনীল দেওধর জানিয়েছেন, উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গো মাংস একটি প্রধান খাদ্য৷ বহু মানুষ বিশেষ করে হিন্দুরাও গোরু খান৷ ফলে এই খাদ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে না৷

বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন, ত্রিপুরা বাদ দিলে উত্তর পূর্বের অন্যান্য রাজ্য যেমন মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ডে সবাই গো মাংস খান৷ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ে এই মাংস খওয়া প্রচলিত৷ ভৌগলিক কারণে হিন্দুরাও খেয়ে থাকেন৷ বৌদ্ধ প্রধান সিকিমেও একই প্রথা চলে৷ সামনেই মিজোরাম নির্বাচন ফলে সেখানেও গোরুর মাংস নিষেধাজ্ঞা জারি করে নতুন ইস্যু করতে চায়না বিজেপি৷ এই কারণেই ত্রিপুরার মতো বাঙালি হিন্দু ও উপজাতি অধ্যুষিত রাজ্যেও গো মাংসে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চায়না মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকার৷

----