বর্ধমানে মহকুমা শাসকের সামনেই বস্ত্রহরণ বিজেপির মহিলা প্রার্থীর

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: শুক্রবারেও পুনরাবৃত্তি ঘটল পঞ্চায়েত নির্বাচনের একই হিংসার। পুলিশের সামনেই বিজেপি কর্মীদের মারধোর করা হল। শুধু তাই নয়, খোদ নমিনেশনের টেবিলেই প্রকাশ্যে সকলের সামনে বিজেপি মহিলা প্রার্থীর ব্লাউজ ছিঁড়ে দিয়ে তাঁর মনোনয়ন পত্র ছিঁড়ে দিলেন তৃণমূলের মহিলা নেত্রীরা।

পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেন নীরব দর্শক হয়েই। অথচ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যেই ছিল ১৪৪ ধারা জারী। শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যত বর্ধমানের কোর্ট কম্পাউণ্ডের আরটিসি হলকে ঘিরে রাখে তৃণমূল সমর্থকরা।

এদিন সকালেই তৃণমূল সমর্থকরা বর্ধমান জেলা পরিষদের গেটের সামনে ভিড় করে আগলে রাখায় বিজেপি প্রার্থীরা ঢুকতে সাহস পাননি। পরে কৌশল বদলে করে বিজেপি। আলাদা আলাদাভাবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে প্রার্থীরা একে একে আরটিসি হলে মনোনয়নপত্র জমা দিতে ঢোকেন।

- Advertisement -

এই সময়ই খণ্ডঘোষের ৩নং জেলাপরিষদ আসনে বিজেপির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন শম্পা মাথুর। এর কিছুক্ষণ পর তৃণমূলের প্রার্থীরাও একে একে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। এই সময়ই তৃণমূলের মহিলা নেত্রীরা জোড় করে টেবিলে মনোনয়ন জমা দিতে বসা শম্পা মাথুরকে তুলে দিতে থাকেন। এই সময় তৃণমূলের মহিলা নেত্রীরা শম্পা মাথুরের হাত থেকে মনোনয়নত্র কেড়ে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলেন। ছিঁড়ে ফেলা হয় টাকা জমা দেবার চালানও।

যদিও আরও একটি মনোনয়নপত্র থাকায় তিনি ফের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টাও করেন। কিন্তু এদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত তাকে বসিয়ে রাখলেও যেহেতু চালানের মূল কাগজ ছিঁড়ে দেওয়া হয় তাই জমা নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, শম্পা মাথুরের ওপর এই অত্যাচারের সময় ওই ঘরেই হাজির ছিলেন বর্ধমান সদর দক্ষিণের মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলেও।

এদিকে, এরই পাশাপাশি এদিন পুলিশের সামনেই আরটিসি হলের সামনে মারধোর করা হয় বিজেপির দুই নেতাকে। তাদের মারতে মারতে রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী জানিয়েছেন, এদিন তৃণমূল নেতাদের হাতে মার খেয়েছেন বিজেপির কিষাণ মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য দেবাশীষ সরকার, জেলা মহিলা সভানেত্রী কল্পনা ঘোষ, প্রার্থী সুভাষ দত্তরাও।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন জেলা বিজেপি বাদামতলায় রাস্তা অবরোধও করেন। পরে জেলা পুলিশ সুপারের অফিসেও বিক্ষোভ দেখান। অন্যদিকে, এদিন বীরভূম যাবার পথে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে যান, গোটা রাজ্য অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। যাঁরা এই কাজ করছেন তাঁরা নিজেদের সামলান। মানুষ এই ঘটনার প্রতিরোধ করবেই।

এদিন জঙ্গীপুর ও বাঁকুড়া জেলায় বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছেন দিলীপ ঘোষ। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যেখানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারী করা রয়েছে সেখানে কিভাবে তৃণমূল সমর্থকদের ঢুকতে দিল বর্ধমান থানার পুলিশ। এমনকি খোদ বর্ধমান থানার আইসি তুষারকান্তি কর নিজে এদিন হাজির ছিলেন। তাঁদের সামনেই এদিন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা রীতিমত মারধোর, ধাক্কা দিয়ে বার করে দেয় বিজেপি এবং এসইউসিআই প্রার্থীদের।

বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, এই মহিলা নেত্রীরা কিভাবে মনোনয়ন কেন্দ্রের মধ্যে সারাক্ষণ ছিলেন? বিজেপি এদিন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবারও আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে, এরই মাঝে এদিন খোদ তৃণমূলের দলীয় নেতাদের হাতে বন্দি হয়ে থাকতে হল বর্ধমান ১নং পঞ্চায়েত সমিতির এক তৃণমূল প্রার্থীকে। এদিন জোর করে তার হাত থেকে কাগজ কেড়ে নেওয়া হয়। মনোনয়নপত্র জমাও দিতে দেওয়া হয়নি তাঁকে।

Advertisement
---