কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন বিজেপির মন্ত্রী বৃদ্ধ সারতাজ

ভোপাল: বয়স হয়ে যাওয়ায় প্রথমে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল মন্ত্রীত্ব। এরপরে বিধানসভা নির্বাচনেও প্রার্থী করা হয়নি। সেই রাগে দল বদলে করে বিরোধী কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন বিজেপি নেতা সারতাজ সিং। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশ।

রাজনীতির ময়দানের দীর্ঘদিনের খেলোয়াড় সারতাজ সিং। বিজেপির ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে নরসিংহপুর কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন। এরপরে ২০০৮ এবং ২০১৩ সালে হোসাঙ্গাবাদ কেন্দ্র থেকে বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের পূর্ত মন্ত্রীও ছিলেন সারতাজ।

সব ঠিকই চলছিল। তাল কাটল ২০১৬ সালে। ৭৫ বছরের বেশী বয়সী ব্যক্তিকে মন্ত্রী না রাখার সিদ্ধান্তের কোপে পড়তে হয় সারতাজ সিংক-কে। কারণ ২০১৫ সালের মে মাসেই তাঁর বয়স ৭৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছিল। তাঁর সঙ্গে এই বয়সের শিকার হতে হয়েছিল ওই রাজ্যের তৎকালীন স্বরাষ্টড়মন্ত্রী বাবুলাল গৌরকেও। তিনি বয়সে সারতাজের থেকে ১০ বছরের বড়।

সারতাজ ও বাবুলাল

মন্ত্রীত্ব খোয়া যাওয়ায় খুব দুঃখ পেয়েছিলেন, রাগও হয়েছিল সারতাজ সিং-এর। কিন্তু দল বা সরকারের বিরোধী কোনও কাজ করেননি। মনের মধ্যে আশা ছিল তাঁকে একেবারে হতাশ করবে না দল। ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীপদের বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন তিনি। মন্ত্রিত্ব না থাকুক বিধায়ক পদ নিয়েই খুশি থাকতে চেয়েছিলেন সারতাজ।

কিন্তু সেই আশাতে জল ঢেলে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয় মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির তৃতীয় প্রার্থী তালিকা। যেখানে নাম ছিল না সারতাজ সিং-এর। ২৩০ আসনের মধ্যে তখন মাত্র সাত আসনের প্রার্থী ঘোষণা হওয়া বাকি। মনের দুঃখে প্রকাশ্যেই কেঁদে ফেলেছিলেন প্রায় চার কুড়ি বছর বয়সী সারতাজ সিং।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর মন্ত্রীর মনের দুঃখে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশ প্রদেশ কংগ্রেস। সেওনি-মালবা কেন্দ্র থেকে তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। একদা বিরোধী দলের এই সিদ্ধান্তে মুখে হাসি ফুটেছে বৃদ্ধ সারতাজ সিং-এর।

এদিন রাতের দিকে মধ্যপ্রদেশের অবশিষ্ট সাত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে সারতাজ সিং-এর নাম ছিল না। যদিও ততক্ষনে তাঁর নাম কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। চলতি মাসের ২৮ তারিখ মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ডিসেম্বরের ১১ তারিখে হবে গণনা।

----
-----