বয়স ৬৯! মেয়েদের উৎসাহে পরীক্ষায় বসলেন বিজেপি বিধায়ক

ছবি- 'হিন্দুস্তান টাইমস' থেকে প্রাপ্ত

জয়পুর: বাবার মৃত্যুর পর স্কুল ছাড়তে হয়েছিল মাঝপথেই। সংসার সামলাতে চাষের কাজে মন দিতে হয়েছিল। তারপর সময় গড়িয়েছে অনেক। আজ তিনি চার সন্তানের বাবা, একজন বিধায়কও বটে। ৫৯ বছর বয়সে ফের শুরু করলেন পড়াশোনা। বুঝিয়ে দিলেন, বয়সটা নিছকই একটা সংখ্যা।

ক্লাস সেভেনেই স্কুল ছাযতে হয়েছিল। তবে পড়াশোনা করার ইচ্ছা ছিল বরাবরই। বর্তমানে তিনি রাজস্থানের উদয়পুর গ্রামীণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক, ফুল সিংহ মীনা। আজ তিনি সংসার, সমাজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। অভাব নেই তেমন। চার মেয়েই বাবার পড়াশোনায় বেজায় উৎসাহ দিয়েছে বরাবর। আর তাদের উৎসাহেই স্কুলে ফিরেছেন বাবা।

২০১৩-তে ওপেন বোর্ড থেকে দশম শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফর্ম ফিল আপ করেন। কিন্তু সেবার ব্যস্ততার জন্য পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। ২০১৬-তে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন। ২০১৬-১৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও পাশ করেন এই বিধায়ক। এখন ৫৯ বয়সে তিনি স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শুরু করছেন। প্রথম বর্ষের পরীক্ষাও দিয়েছেন।

বিধায়ক জানিয়েছেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের ভরণপোষণের জন্য আমাকে চাষের কাজ শুরু করতে হয়। একদিন আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে প্রচার করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু নিজে বেশি পড়াশোনা করতে পারিনি বলে সেদিন খুব কষ্ট হয়েছিল। আমার মেয়েরা এই যন্ত্রণার বিষয়টি বুঝতে পারে। ওদেরই উৎসাহে ফের পড়া শুরু করি।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজের কেন্দ্রের তফশিলী জাতি ও উপজাতির মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পাবে, তাদের বিনামূল্যে বিমানে জয়পুর ঘুরিয়ে আনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। ২০১৬ সালে দু’জন এবং ২০১৭ সালে ৬ জনকে এই সুযোগও দেন।

তিনি জানান, তাঁর প্রচারের সুবাদে ছাত্রীদের ফল ভাল হচ্ছে।

Advertisement
---
-----