স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আগে বা পরে, আদালতে শেষ পর্যন্ত যেতেই হত বিজেপিকে৷ শান্তিপূর্ণ রথযাত্রার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালতেই যাচ্ছে বিজেপি৷ পিটিশন ফাইল করা হয়েছে৷ আগামী মঙ্গলবার কলকাতা কোর্টে প্রথম শুনানি৷ রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় পার্টির থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি৷ আগামী ৭, ৯ এবং ১৪ ডিসেম্বর যথাক্রমে কোচবিহার, গঙ্গাসাগর এবং তারাপীঠ থেকে রথযাত্রা বার করবে বিজেপি৷ ওই যাত্রার নাম দেওয়া হয়েছে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা৷

প্রসঙ্গত, বাংলায় রথযাত্রার ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারেনি বিজেপি৷ বেশ কয়েকবার প্রচেষ্টার পরও স্বরাষ্ট্রসচিবের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি৷ পুলিশ অফিসাররাও নাকি আজকাল ফোন তোলা বন্ধ করে দিয়েছে৷ ডিজি এবং রাজ্যে সমস্থ কমিশনারদের কাছে মানচিত্র সহ চিঠি পৌছে দেওয়া হয়েছে৷ রথে চড়ে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রে ঘুরবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷

Advertisement

অমিতের ‘Air Conditioned’ রথ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে তিনটি পর্যায়ে ঘুরবে৷ রাজস্থানের নির্বাচনের জন্য অমিতের পূর্বনির্ধারিত সফরসূচিতে দু’বার বদল করা হলেও বাড়তি পাওনা হিসেবে রাজ্য বিজেপি পেল এক বড়সড় উপহার পেয়েছে৷ এর আগে ঠিক ছিল – শুধু তারাপীঠেই রথে চেপে বসবেন অমিত৷ তবে তাঁর আসতে দেরি হলেও তিন পর্যায়েই বিজেপির রথের উপর অমিত শাহকে হাত নাড়তে দেখা যাবে৷

রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় পার্টি৷ সারা ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রা হয়ে থাকে৷ কিন্তু বাংলায় ১৯৯০ সালের পর কোনও রাজনৈতিক-রথযাত্রা দেখেনি৷ ১৯৯০ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে লালকৃষ্ণ আদবানীর রাম রথযাত্রার স্মৃতি উস্কে দিয়ে ডিসেম্বরের ৭ তারিখ আবার রথে উঠবেন অমিত৷ ১৯৯০ এর পর আর কোনও মেগা রথযাত্রার কথা শোনা যায় না বাংলায়৷ তবে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা দু-একবার রাজ্যে রথযাত্রা করার চেষ্টা করেছেন৷

রথযাত্রা নিয়ে কেরলে বাম সরকারের সাহায্য পেয়েছে বিজেপি৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার কোনও সহযোগিতাই করছে না – দাবি বঙ্গ বিজেপির৷ বিজেপির অন্দরে কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতটা অগণতান্ত্রিক, কেরলে সিপিএম অন্তত ততটা নয়৷ কয়েক সপ্তাহ আগেই কেরলে নবনির্মিত কুন্নুর বিমানবন্দর উদ্বোধান হওয়ার আগেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বিমান সেখানে নামতে দিয়েছিল সিপিএম সরকার৷ বিমান থেকে নামার পর অমিত শাহ বন্দরকর্মীদের বলেছিলেন, অভিনন্দন! আপনাদের বিমানবন্দরের উদ্বোধন হয়ে গেল৷ এই ঘটনার পরের দিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী থমাস আইজ্যাক মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘ওই বিমানবন্দরের উদ্বোধন নভেম্বরের ৯ তারিখ৷

কিন্তু আতিথেয়তা রক্ষার জন্য আমরা অমিত শাহকে নতুন বিমানবন্দরের উদ্বোধনের আগে ওখানে নামতে দিয়েছি৷ কিন্তু রাজ্যে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ রাজ্য সরকারকে উৎখাত করার কথা বলে গেল!’’ পশ্চিমবঙ্গে কী এরকম ব্যাপার ভাবতে পারা যায়? ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের বিজেপি কর্তারা, বিশেষত যাঁরা রথযাত্রার ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা অন্তত মনে করেন – কেরলের সিপিএম সরকার, এরাজ্যের মমতার সরকারের থেকে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক৷

----
--